Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঢাকার রাস্তায় ধাওয়া করে ছিনতাইকারী ধরে পুলিশে দিলেন তরুণী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৮ PM আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৮ PM

bdmorning Image Preview


রাজধানীতে ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করায় বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন অন্তরা রহমান নামের এক তরুণী। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরে এ পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ঘটনাটা ১৭ আগস্টের। বনশ্রীর বাসা থেকে যাত্রাবাড়ীতে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী অন্তরা রহমান। রিকশায় করে পার হচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় এক ছিনতাইকারী অন্তরার হাতের ব্যাগটি নিয়ে দৌড় দেয়। ঢাকার রাস্তায় ছিনতাই নতুন ঘটনা নয়। অনেকেই এসব ঘটনায় আর সামনে এগোতে চান না। কিন্তু ভয় না পেয়ে অন্তরা রহমানও সেই ছিনতাইকারীর পেছনে ধাওয়া করেন। কিছুদূর গিয়ে সেই ছিনতাইকারী একটি চলন্ত বাসে উঠে পড়লে অন্তরাও পেছন পেছন সেই বাসটিতে উঠে পড়েন।

অন্তরা রহমান বলেন, ‘পুরো বাসটি খালি ছিল। আমি বাসে উঠে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে একটি লোক উঠেছে কি না। তারা বলে, আমাদের গাড়িতে ওঠে নাই, হয়তো পেছনের বাসে উঠেছে। কিন্তু পেছনের দিকে বসে থাকা একটি লোকের প্যান্ট দেখে আমার সন্দেহ হলো। কাছে গিয়ে দেখি, সেই ছিনতাইকারী আমার ব্যাগের ওপর বসে আছে, আর মোবাইলটা পায়ের নিচে রেখেছে। আমি তাকে ধরে চিৎকার করলেও বাসচালক বাসটি চালিয়ে যাচ্ছিল।

‘চিৎকার শুনে কয়েকজন ছেলে এগিয়ে এসে বাসটি থামায়। সে সময় সেই চোর (ছিনতাইকারী) বলে আমাকে ছেড়ে দেন, আমি কালকেই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছি। কিন্তু আমি মনে করলাম, গতকাল মুক্তি পেয়েই যে আজ অপরাধ করতে পারে, তাকে ছাড়লে সে আরও অপরাধ করবে। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে গেলাম। সেখানে আমি নিজেই বাদী হয়ে একটি মামলাও করলাম।’

এই সাহসিকতার পুরস্কারও পেয়েছেন অন্তরা রহমান। মঙ্গলবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ সভায় তাকে পুরস্কৃত করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেলে তিনি নিশ্চুপ না থেকে অত্যন্ত সাহস নিয়ে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে ধরে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি, এই সাহসী অন্তরার মত সকলে সাহসী হয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।’

ছিনতাইকারীর পেছনে ধাওয়া করার সময় কোনো ভয় কাজ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অন্তরা বলেন, ‘তখন এসব বিষয় মাথায় আসেনি। তখন শুধু আমার মনে হয়েছে, ওকে (ছিনতাইকারীকে) ধরতে হবে আর ওকে পুলিশে দিতে হবে।’

এ সময় সেই ছিনতাইকারী নিজেকে ছাড়ানোর জন্য অনেক জোরাজুরি করছিল। কিন্তু তাকে কোনোমতেই ছাড়েননি অন্তরা।

ডিএমপির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান বলেন, ‘পুরস্কারের এই অর্থমূল্য হয়তো বড় কিছু নয়। কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি, যাতে সবাই নিজেরা এভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসে।’

ঢাকায় একটি ল’ ফার্মে চাকরি করেন অন্তরা রহমান। তিনি ঢাকার বনশ্রীতে মা, ভাই-বোনের সঙ্গে থাকেন। তার বাবা বিদেশে চাকরি করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার সময়ও তিনি জানতেন না, পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে তাকে। ডিএমপি সদর দফতরে গিয়ে যখন পুরস্কার পাওয়ার কথা জানলেন, তখন খুবই অবাক হয়েছিলেন।

অন্তরা বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, ছিনতাইকারীকে ধরতে হবে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি, সেটা এতদূর হবে। সবার ভালোবাসা দেখে আমার ভেতর অনেক খুশি কাজ করছে।’

অন্তরা আরও বলেন, ‘কিন্তু আমি এ রকমই। ছোটবেলা থেকেই আমাকে কেউ টিজ করলে আমি রুখে দাঁড়াতাম। এ রকম অন্যায় দেখলে আমি আবারও এভাবেই রুখে দাঁড়াব।’ বিবিসি বাংলা।

Bootstrap Image Preview