Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ রবিবার, এপ্রিল ২০২৪ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

সাতক্ষীরায় শোল মাছ চাষে জাকিরের সাফল্য

রাহাত রাজা, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৪৬ PM
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৫০ PM

bdmorning Image Preview


শোল মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছেন সাতক্ষীরার জাকির হোসেন। দুটি পুকুরে দেশি জাতের শোল মাছের চাষ করেন তিনি। কম খরচে এক বছরে পাঁচ কাঠা জমিতে এক টন শোল মাছ উৎপাদন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করা জাকির হোসেন বিলুপ্তপ্রায় শোল মাছের প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে কাজ করছেন।

জাকির হোসেন বলেন, ‘কীটনাশক ও সার ব্যবহারের ফলে কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শোল, বোয়াল, আইড়, বাইন, খলিসা,  চিংড়ি, গজার,  চেং, টাকি, চিতলসহ দেশীয় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কৃষক পরিবারের জন্ম হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে কৃষি আমাকে টানতো। লেখাপড়া শেষ করে ধানের বীজের ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসা ভালো চলছিল। ২০১৫ সালে এসে ধানের বীজের জন্য চাতাল বানাতে গিয়ে দুটি পুকুর খনন হয়ে যায়। সেখানে কি মাছ চাষ করবো সেই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বই পড়তে থাকি। অধিকাংশ বইতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অচাষকৃত রাক্ষুসে মাছ নিধন করুন। সহজে না মরলে বিষ দিয়ে নিধন করুন। আর নিধন করার কথা বলা হয়েছে দেশি মাছগুলো। মাছে-ভাতে বাঙালির প্রিয় মাছগুলো নিধন করে পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, নাইলোটিকা চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমার মধ্যে জিদ হলো, বিলুপ্ত মাছ চাষ করে সবাইকে দেখিয়ে দেব। সেই থেকে শোল মাছের চাষ শুরু করি।

এই দেশের মতো মাটি এবং পানি কোথাও নেই উল্লেখ্য করে জাকির হোসেন বলেন, ‘তাহলে আমি কেন মাছ চাষে অন্য দেশের কাছ থেকে টেকনোলজি ধার নেবো। দেশি চ্যাং, শোল এবং বোয়াল মাছ যদি রাক্ষুসে হয় তাহলে অন্যগুলো হাঙ্গর। শোল, চ্যাং, বোয়াল মাছগুলোকে আমি খুব ভালোবাসি। মমতা দিয়ে দেশি মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছি। প্রথমে অনেকে আমাকে পাগল বলে আখ্যা দিয়েছিল। এখন অনেকে এই দেশি মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ছে। দেশি মাছ চাষে খরচ কম লাভ বেশি। মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছগুলো।’

শোল মাছ চাষ সম্পর্কে জাকির হোসেন বলেন, ‘এই অঞ্চলের মাছ চাষিরা যেসব মাছ চাষের প্রতি ঝুঁকছে তাতে ঝুঁকি আছে এবং খরচও বেশি। কিন্তু তারা বোঝে না দেশীয় মাছ চাষে বেশি কষ্ট করা লাগে না। মানুষ যাকে পুকুরের অন্যান্য মাছের জন্য শত্রু মনে করেন আমি তাকে বন্ধু ভেবে নিয়েছি। এর নার্সিং কিংবা একটু বড় হলেই পোনা লালনের দায়িত্ব মা মাছটির। এজন্য বাড়তি কোনও কাজের দরকার পড়ে না।

তিনি আরও জানান, ‘দেশীয় মাছ চাষ করতে পুকুরে কোনও সার দেওয়া দরকার হয় না। চুন কিংবা কোনও রাসায়নিক খাবারও নয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মাছগুলো বেড়ে ওঠে। বাজারের ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। সকাল-বিকাল খাবার দিতে হয়।’

জাকির তার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন গুড়পুকুরের রিসার্চ ইনস্টিটিউিট। পুকুরে শোল মাছের চাষ এরই অধীনে বলে জানান তিনি। ধীরে ধীরে বোয়াল, আইড়, গজারসহ সব দেশি মাছ চাষ করবেন বলে জানান।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে চিংড়িঘেরের সঙ্গে সাদা মাছ চাষ করছেন চাষিরা। তাছাড়া পৃথকভাবেও সাদা মাছ উৎপাদন হচ্ছে সাতক্ষীরায়। চলতি মৌসুমে সাদা মাছের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, উৎপাদন তার চেয়ে অনেক বেশি। দেশীয় মাছ রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সদরের জাকির হোসেন ব্যক্তি উদ্যোগে শোল মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে জেলার অনেক যুবক শোল মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।’

Bootstrap Image Preview