Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

আখিরাতের ভয় দেখিয়ে ১১ ছাত্রীকে তিন বছর ধরে মাদরাসা শিক্ষকের ধর্ষণ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯, ০৫:৪১ PM
আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৯, ০৫:৪২ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার তিন ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাদের ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও নানরকম যৌন হয়রানি মামলায় গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।

শনিবার (২৭ জুলাই) রাত ৯টার সময় র‍্যাব ১১ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা নামক মহিলা মাদরাসায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৯) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার ১১ ছাত্রীকে বিগত ৩ বছর ধরে মাদরাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করে আসছে এবং এই অপকর্মের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়। এ ভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদরাসার ছাত্রীদের কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করত।

সে ছাত্রীদেরকে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করত বলে স্বীকার করে ধর্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এমনকি তার ৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদরাসায় পড়ত তাকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করে যা ধর্ষক অকপটে স্বীকার করে।

এছাড়াও ধর্ষক মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সাথে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলত। একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদরাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরো ৫ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

Bootstrap Image Preview