Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে বেশি সময়ের দরকার নেই: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:২৪ PM
আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:২৪ PM

bdmorning Image Preview


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই। পরিকল্পিতভাবে কাজ করলেই জাতি এগিয়ে যাবে। উন্নতি ও অগ্রগিতে সবচেয়ে উপরে থাকবে।

তিনি আজ মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ওয়াস্টিন হোটেলে পদ্মা ব্যাংকের এ্যানুয়েল বিজনেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস শরাফতের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে রাব্বি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল মকবুল, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মুজিব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী জাপানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পিত কাজ করেছে। তাদের ১০০ ভাগ মানুষ শিক্ষিত।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, দেশ দুটি ১৯৫৫ থেকে ৬০ সাল পর্যন্ত পারস্পরিক যুদ্ধ করেছে। নিজেদের শক্তি ক্ষয় করেছে। এই যুদ্ধের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার শিশুরা স্কুলে যেতে পারেনি। তারা একবেলা পেট পুরে খেতে পারেনি। অর্থ নেই। ব্যবসা নেই। সম্পদ নেই। সেই দেশের নারীরা নিজেদের সোনালী চুল বিক্রি করে শিশুদের পড়ালেখা করিয়েছে। আজ দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত।

তিনি শিক্ষার দিকে আরো গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শিক্ষিত হলে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবোই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে জাতীয় দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আমাদের বেশি। চীন ও আমেরিকা ব্যতীত সবাই আমাদের পেছনে ছিল।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ বছর পর প্রতিটি ব্যক্তি সামর্থবান অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বলয়ে চলে আসবে। আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণেই কাজ করছি।    

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. ফজলে কবির বলেন, এগ্রেসিভ লেনদেন বাদ দিয়ে স্মল লোন বাড়াতে হবে। কোন ব্যাংকই যেন এগ্রেসিভ ব্যাংকিংয়ে না যায়।

তিনি বাহুল্য খরচ বাদ দিয়ে পরিমাপ মত প্রয়োজনীয় ব্যয় করতে আহ্বান জানান।

গভর্নর বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে ক্রেডিড ২৩ শতাংশ এটিকে ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

তিনি ইমেজ রক্ষার জন্যে চেকডিসওর্ডার না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে নির্দেশ দেন।

চেক নিয়ে ডেপোসিজ দিতেও আহ্বান রাখেন।

মো. ফজলে রাব্বি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। আমাদের দেশে ব্যাংকিং সেক্টরের কর্মসংস্থানের গ্রোথ ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এটি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, করপোরেট ইমেজ তো বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দিয়ে তৈরি করতে পারবে না। বরং এটি নিজেরা গড়ে তোলতে হবে। পদ্মা নদীর নামের যেমন মর্যাদা আছে ব্যাংকটিও যেন সেই মর্যাদায় যেতে পারে সেই ব্যবস্থায় কাজ করতে হবে।

গভর্নর রপ্তানিমুখি অর্থনীতির দিকে মনযোগ দিতে আহ্বান জানান।  

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)র চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের টাকাকে নিজের টাকা মনে করে নিয়ে যায় আর ফেরত দিতে চায় না। এটি চলতে দেওয়া ঠিক হবে না। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা তাদের কারণে মানুষ কষ্ট পায়। আমরা কষ্ট পাই। পুরো অর্থনীতি সমস্যার মধ্যে পড়ে যায়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকগুলো ভালোভাবে চললে এনবিআরের বেশি লাভ হয়। কেননা তারা লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখে যার ফলে রাজস্ব বেশি পাওয়া যায়।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের যথাযথ হিসাব রাখে না।

মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরা হচ্ছে। একটিকে ধরেছি। আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের বিরুদ্ধেও আমরা জয়ী হবো।

তিনি বলেন, বড় ঋণগ্রহীতারা সামর্থ থাকার পরও ব্যাংক ঋণশোধ না করে বসে থাকে ঋণ মওকুফের সময় কখন আসবে সেই চিন্তাই। তাদের চিহ্নিত করা হবে। শাস্তির আওতায় আনা হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, পদ্মা নদীর মত পদ্মা ব্যাংকেও স্রোত তৈরি হোক এমন প্রত্যাশা আমাদের।   

অনুষ্ঠানে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)র মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বিপিএম বলেন, ঋণ ফেরত না দেওয়ার নিয়তে যারা টাকা নেন এবং টাকা দিবে না এমন জেনেও যারা ব্যাংক থেকে ঋণ দেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ আছে তারা ঋণ নেয় না দেওয়ার নিয়ত করে। আর যারা ঋণ দেয় এ কথা জেনে যে এসব ব্যক্তি ঋণশোধ করবে না। তাদেরকেও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অর্থমন্ত্রীর কাছে এমন অনুরোধ রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্যাংকের শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করবে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ফারমার্স ব্যাংকটি পথে বসে গিয়েছিল। সেই ডুবন্ত ব্যাংকটিকে পদ্মা ব্যাংকে নামকরণ করে মাত্র ৬ মাসের মাথায় একটি উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্থানে পৌঁছে দিয়েছে এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সরকারের সহযোগিতায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ম্যাজিক আর বাংলাদেশের ম্যাজিক হচ্ছে শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

Bootstrap Image Preview