Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ শনিবার, মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নরসিংদীতে ৫'শ ২৮ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৪:৩১ PM
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৪:৩১ PM

bdmorning Image Preview


নরসিংদীতে আড়িয়াল খাঁ নদী, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা খনন কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বস্তুত নদী খননের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব চলছে। যেনতেনভাবে ও ব্যাপক কারচুপির মধ্য দিয়ে এসব নদীর খনন কাজ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নরসিংদী জেলার সাবেক পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু নদী খননের কাজে নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত আড়িয়াল খাঁ নদী, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ পুন:খননের  কাজে ৫'শ ২৮ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করলে 
এ সুযোগকে কাজে লাগাতে অসাধু কিছু বালু ব্যবসায়ীরা নদীর পাশে থাকা জমি ভাড়া নিয়ে ফসলী জমি প্রতি কাঠা বাবদ ২০ থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে ১ বছরের চুক্তি করেন।

চুক্তি করার পরপরই এই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে দেয় ইটভাটাগুলোতে। তারপর এই গর্তগুলো ভরাট করতে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যম ব্যবহার করে। 

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রে যেখানে এসব নদীগুলোতে ১৬০ থেকে ১৮০ ফিট খনন কাজ করার কথা সেখানে ওই এলাকায় ৮০ ফিট বা তার কম খনন করা হচ্ছে।

এদিকে বেলাব উপজেলা সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আড়িয়াল খাঁ নদীর পাশে থাকা ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান নদী খননের কাজের কাছে সংবাদকর্মী গেলে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ড্রেজারের শ্রমিক বলেন, আমরা প্রতি ঘন্টায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বালু ফেলতেছি। কিন্তু এ বালু নিয়ম ছিল হতদরিদ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে ফালানোর কথা ছিল বলে জানান তিনি। 

এই এলাকার বালু ব্যবসায়ী মোঃ হাসান মিয়া, কাউছার, রফিকুল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর না দিয়ে সংবাদকর্মীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। সংবাদকর্মী এই বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করলে তারা বলে আপনার যা ইচ্ছা তাই করেন। 

লেবুতলা ইউপি ৩নং ওয়ার্ড সদস্য লেহাজ উদ্দিন জানান, বালুতো উত্তোলন করতেছে রতন ভাইয়ের নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা এই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছি বলে সাফ জানিয়ে দেন। 

এদিকে চর বেলাব ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবি মেম্বার বলেন, এই আড়িয়াল খাঁ নদী খনন কাজের নামে এলাকার দুষ্কৃতিকারীরা ড্রেজার মেশিনকে অবৈধ ঘুষ দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। তাই আমরা যেহেতু জনগণের প্রতিনিধি কিছু বলতে গেলে আমাদের সমালোচনাটাই বেশি বাঁধে। 

এদিকে নদী রক্ষা কমিটির সদস্য মোঃ হাসান মাহমুদ সংবাদকর্মী রুদ্রকে জানান, এই নদীগুলো প্রায়ই মৃত্যুর পথে জড়ে যাচ্ছিল। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের স্বার্থে নদী খননটি করায় জনসাধারণের আস্থা বিরাজ করছিল। কিন্তু এই সিন্ডিকেটগুলো বিভিন্ন রাজনীতিমূলক কৌশল ও ঘুষের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের জিম্মি করে তাদের ফসলি জমি হাতিয়ে নিয়ে যে বালু বিক্রি করে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে মনে করেন তিনি।  
 

Bootstrap Image Preview