Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

১০ দিনেও শিক্ষকদের খোঁজখবর নেয়নি মন্ত্রণালয়

আসাদুল্লা লায়ন
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:৪৩ PM
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:৪৩ PM

bdmorning Image Preview
ছবি: প্রতিবেদক


শিক্ষকদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে। পড়ানোর কথা শিক্ষার্থীদের। নতুন বছর। নতুন বইয়ের পাতায় স্বপ্নে দেখাবেন শিক্ষার্থীদের কিন্তু সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে খোলা আকাশের নিচে ১০ দিন যাবত আন্দোলন করছেন ৫২০০ শিক্ষক।

তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ১৪ মাস যাবত বেতন পান না এসব শিক্ষক। দুই বছর চাকরি করার পর এখন আর চাকরি নেই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণি ফলাফল অর্জনকারী এসব শিক্ষক আজ ভাগ্যের শিকায় ঝুলছে তাদের ভবিষ্যৎ। তারা জানে না কিভাবে যাবে আগামী দিনটি? পরিবারের কাছে হাসিমুখে ফিরে যেতে পারবে কিনা? নাকি রাজধানীর রাজপথে পড়ে থাকবে মৃতদেহটি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১২ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আজও তাদের ব্যাপারে কোন খোঁজখবর নেয়নি। বলেনি কোন কথা।

বাংলাদেশ এসিটি এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মণ বলেন, আজ ১০ দিন হয়ে গেল দেশের সেরা সেরা শিক্ষকগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে অথচ শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এমনকি কোন সচিবও আমাদের খোঁজখবর নিল না।

তিনি বলেন, এখানকার ৮০ শতাংশ শিক্ষকই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলাফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি অর্জন করেছিল। ২ জন রাষ্ট্রপতি পদকও পেয়েছিল। আজ ভাগ্যের শিকায় ঝুলছে আমাদের ভবিষ্যৎ।

সংগঠনটি সহ-সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাফি, সদস্য আতিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, ইফতি রহমান, সুশীল চন্দ্র দাস ও খুরশেদ আলমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হতো এমন সকল বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে সেকায়েপ কর্তৃক দেশের ৬২টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ২১০০ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে ৫২০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তাদের পরিশ্রমের ফলে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরবর্তীতে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থী শুধু পাস নয় ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। বিশ্ব ব্যাংকের এই প্রকল্পে ৬২টি জেলায় ৫২০০ শিক্ষক সম্পৃক্ত ছিল। বাংলাদেশের এই সাফল্যে পরবর্তীতে বিশ্ব ব্যাংকের বিশ্বের ৫টি দেশে এই প্রকল্প চালু করে।

তারা বলেন, এখন আমাদের বয়স ৩৬ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা সবাই অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ব ব্যাংক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদেরকে ক্লাস নেয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালে আমরা তা চালিয়ে যেতে থাকি। এমনকি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভূয়শী প্রশংসা করে আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন অথচ মন্ত্রণালয় নানা ধরনের বাহানা দেখিয়ে আমাদের চাকরি স্থায়ী করছে না। এমতাবস্থায় আমরা চোখে কোন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৪ মাস যাবত আমাদের বেতন নেই। মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে আমাদের। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়ার পরও নানা ধরনের আইনের মারপ্যাচে ফেলে মন্ত্রণালয় আমাদের চাকরি স্থায়ী করছে না। আমরা বিষয়টি দেখার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারা জানান, আজকেই ২৬ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে পাঠানো হয়েছিল। গত ১০ দিনে ৪০ জনের অধিক শিক্ষক অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আরেকজন শিক্ষক জানালেন, চাকরি চলে যাওয়ায় তাদের কয়েকজন শিক্ষকের ঘর-সংসার ভেঙ্গে গেছে। চাকরিহীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদেরও মুখ দেখাতে পারছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন অপর শিক্ষক।

এসিটি ৫২০০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী শিক্ষক রয়েছে। তাদের অবস্থা আরো করুণ বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সেসব শিক্ষিকা।

আতিকুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মডেল শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি প্রকল্প শেষে চাকরি স্থায়ীকরণের কথা উল্লেখ ছিল ম্যানুয়েলের ৩৬ নং ধারায়। তা ছাড়া প্রকল্প শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি স্থায়ীকরণে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে মাউশি থেকে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে মডেল শিক্ষকদের তালিকাও নেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৮ নভেম্বর এসিটিদের জন্যে তৈরি উপকমিটি আইনি জটিলতার অযুহাতে এমপিও না করে সরাসরি এসইডিপি নামক প্রোগ্রামে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় যা আজোও বাস্তবায়িত হয়নি।

নেতৃবৃন্দ জানান, ৩ হতে ৪ ফেব্রুয়ারি অবস্থান, ৫ হতে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতীকী অনশন এবং ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ অবদি শান্তিপূর্ণ অনশন করছেন তারা। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না।

Bootstrap Image Preview