Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ বুধবার, মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০২:০৪ PM
আপডেট: ০৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০২:০৬ PM

bdmorning Image Preview


দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার পরও রফতানি আয়ে সুবাতাস বইছে।রফতানি আয় আগের তুলনায় গতিশীল রয়েছে। প্রায় অর্ধশত খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়া সব খাতই ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

বিশেষ করে পোশাক খাতের (নিটওয়্যার, ওভেনগার্মেন্ট ও হোমটেক্সটাইল) পণ্য রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। যার ওপর নির্ভর করে সার্বিক রফতানি আয়ও বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ইপিবির তথ্যমতে, ছয় মাসে রফতানি খাতে নির্ধারিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৮৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার হলেও প্রকৃতপক্ষে রফতানি আয় এসেছে ২ হাজার ৫০ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই আয় ১৭১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার বা ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। এটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৭৯১ কোটি ডলার থেকে বেশি।

ফলে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ের হিসাব অনুযায়ী সার্বিক রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, রফতানি খাতে গতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজার জয় করার অদম্য চেষ্টার কারণে এ সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তারা আশা করছেন, আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। তা নিশ্চিত হলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরজুড়ে পণ্য খাতে ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের সার্বিক লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

ইপিবির তথ্যমতে, শুধু তৈরি পোশাক খাত থেকেই চলতি অর্থবছর রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ২৬৯ কোটি ডলার। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৫৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে ছয় মাসের অর্জিত আয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

অর্থাৎ রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে আট শতাংশ (৮ দশমিক ৫১ শতাংশ) বেশি। ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক খাতে সার্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, রফতানি আয়ে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিবারের মতো এবারও মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক খাত।

দেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিধিবহির্ভূত তৎপরতা, ক্রেতাদের পণ্যের দাম কমানোর পাঁয়তারা, নানা কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং রফতানির বড় অঞ্চল ইউরো জোনে ইউরোর দরপতন সত্ত্বেও পোশাক খাতে অর্জিত রফতানি আয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে এ পরিমাণ আয়ের জন্য আগের তুলনায় রফতানি চালানের পরিমাণ বাড়াতে হয়েছে। ক্রেতারা ইউনিটপ্রতি পণ্য রফতানিতে ন্যায্য দাম দিলে আয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতো।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে ওভেন গার্মেন্ট থেকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। নিটওয়্যার খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। হোমটেক্সটাইলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যান্য খাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বেশি আয় এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে মোট ৩৯টি খাতে। তবে বছরের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে রফতানি আয়ের নেতিবাচক পরিস্থিতি দূর হয়নি। এ খাতে অর্জিত আয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম হয়েছে।

বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির (ইএবি) সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী সার্বিক রফতানি প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে দেশের পরিবেশ-পরিস্থির অনেক উন্নতি ঘটবে। বৈশ্বিক অস্থিরতাও কিছুটা কমবে। ফলে বিদেশি ভোক্তারা তাদের ভোগব্যয় বাড়াবে এবং ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার পরিমাণও বাড়াবে।

Bootstrap Image Preview