Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভিকারুননিসার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৭ PM
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৭ PM

bdmorning Image Preview


অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিন দিন আগে অরিত্রীর আত্মহননের পরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গঠিত কমিটি স্কুলটির নানা অনিয়মের সত্যতাও পেয়েছে। এবার  ভিকারুননিসার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের চুম্বুক অংশগুলো তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রীকে পরীক্ষার হলে মোবাইলে নকল করার অভিযোগ পেয়ে তার অভিভাবককে ডেকে অপমান ও হেয় করা হয়। মেয়ের সামনে বাবা-মাকে অপমান করার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয় এই স্কুলছাত্রী। সহপাঠীর অকাল মৃত্যুতে ফুঁসে উঠেছে বেইলী রোডের এই প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রীরা।

অরিত্রীর অকাল মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা মর্মাহত, ব্যথিত। খুবই অমানবিক…। ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছিল, সেখান থেকে সূচনা। তারপরে পরবর্তীতে যে ঘটনা ঘটেছে এর ফলে সে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাহিদ।
 
‘নরমালি ডিলে হয়, কিন্তু এটা এমন একটা বিষয় যা দেরি করবার মতো নয়। যার ফলে সদস্য-কর্মকর্তারা সবাই মিলে সহযোগিতা করে চেষ্টা করেছি যাতে দ্রুতই করতে পারি। ওই রাত তারা সম্পূর্ণ খেটেছেন, পুরো দিন কাজ করেছেন এবং গত রাত আড়াইটায় এসে পৌঁছেছেন।’

নাহিদ বলেন, প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছি। প্রতিবেদনে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখানে বলা হয়েছে, এই তিনজন, অরিত্রীর বাবা-মা যখন আবেদন নিয়ে আসলেন, তারা খুবই অসুস্থ, তাদের ভয়-ভীতি দেখান, অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে অধ্যক্ষ, শিফট ইনচার্জ নির্মম, নির্দয় আচরণ অরিত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। অরিত্রীর বাবা-মায়ের প্রতি অপমান ও অসম্মানের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বলেই তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে বলে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়। যার দায় কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সিফট ইনচার্জ এবং শ্রেণি শিক্ষিকা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তাদের বিরুদ্ধে অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী হিসেবে অভিযোগে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া পারে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৗস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে বরখাস্ত করার জন্য গর্ভনিং বডিকে নির্দেশ দিচ্ছি। একই সঙ্গে এই তিনজন শিক্ষকের এমপিও বাতিল করার জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেওয়া করেছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, পুলিশও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না। থানাও যোগাযোগ করেছে আমাদের সঙ্গে। আমি আশা করছি তারাও ব্যবস্থা নেবেন। থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সব শিক্ষক এরকম নয়। ভালো শিক্ষক রয়েছেন। দরদি শিক্ষক রয়েছেন, শিক্ষার্থীকে ভালোবাসেন- এমন শিক্ষক আরো বেশি এগিয়ে আসবেন, অন্য শিক্ষককে প্রভাবিত করবেন।

Bootstrap Image Preview