Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শুধু টাকার জন্য কাজ করতে চাচ্ছি নাঃ সিয়াম আহমেদ

নিয়াজ শুভ
বিডিমর্নিং ডট কম
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:১৯ PM
আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:১৯ PM

bdmorning Image Preview


প্রথম ছবিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়া সহজ নয়। যখন কেউ সেটি পেয়ে যায়, তাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ তত বাড়তে থাকে। এমনই এক মিষ্টি ভালোবাসাময় পরিস্থিতিতে পড়েছেন সকলের প্রিয় মুখ সিয়াম আহমেদ। ভক্তদের নিরাশ করা তার অভিধানে নেই। তাইতো ‘পোড়ামন ২’র সুজনের রেশ কাটতে না কাটতেই ‘দহন’ ছবিতে তুলা রূপে চমক দেখিয়েছেন তিনি। অবশ্য এজন্য তাকে বেশ কণ্টকময় পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বাস্তবের সিয়ামকে ভেঙে তিনি হয়ে উঠেছেন নেশাগ্রস্ত তুলা। বিডিমর্নিং এর সাথে আলাপে সিনেমায় অভিনয় ও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সিয়াম আহমেদঃ খুবই ভালো সাড়া পাচ্ছি। ছবির কাহিনী, চরিত্র, অভিনয় সবকিছু মিলিয়েই সকলে প্রশংসা করছে। সিনেমা মুক্তির পর আমি বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছি। গতকাল (২ ডিসেম্বর) দুটি হলে দু’জন গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে দেখা হয়েছে। একজন সাত মাসের অন্যজন আট মাসের গর্ভবতী। এমন শারীরিক অবস্থায়ও তারা হলে এসে ‘দহন’ দেখছে। কারণ উনাদের ‘পোড়ামন ২’ খুব ভালো লেগেছে। একজন অটিস্টিক ছেলেকে দেখলাম, যে হুইল চেয়ারে বসে সিনেমাটি দেখছে। সে কথা বলতে পারছে না তবুও আমার প্রশংসা করার চেষ্টা করছে। বলাকাতে এক দম্পতিকে পেলাম যাদের বয়স ৬৫-৭০ হবে। তারা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিয়ে বলছেন, আমরা সিনেমা হলে আসতে চাই কিন্তু ভালো সিনেমা তো আসে না। এসব জিনিস দেখলে দায়িত্ববোধ অনেক বেড়ে যায়। তখন পরিশ্রম করতে ইচ্ছা করে।

সিয়াম থেকে তুলা হয়ে উঠলেন কিভাবে?

সিয়াম আহমেদঃ চরিত্রটা নিয়ে আমি একটু টেনশনে ছিলাম। আমি যদি দর্শকদের সামনে ‘পোড়ামন ২’র সুজন হয়ে আসতাম তাহলে নিজেই শান্তি পেতাম না। কারণ সুজন মানুষের কাছে গিয়েছে, সুজনকে মানুষের মনে ধরেছে, সুজনকে সবাই দেখে ফেলেছে। বাস্তবের তুলাদের জীবনধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে কমলাপুর ও তেজগাঁও বস্তিতে নেশাগ্রস্ত লোকদের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ছিলাম। যখন আমি তাদেরকে দেখছি আর শিখছি তখনই আমার মনে হয়েছে এইবার আমি নতুন কিছু শিখবো। আমি যতই চেষ্টা করি হুবহু ওদের মতো হতে পারবো না। ওরা সেই জায়গায় একটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছে। তাদের অনেকেই নেশার দ্রব্য কেনার জন্য আমার কাছে টাকা চেয়েছে। আমি তখন বলেছি, চলেন একসাথে বসে ভাত খাই। তাদের সাথে তাদের মতো করে চলার চেষ্টা করেছি। ওই জায়গাটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি শিক্ষণীয় ছিলো।

তুলা চরিত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো লুক সেট করা। তুলাকে ধীরে ধীরে হারামি তুলা বানানো সহজ ছিলো না। তুলার লুক আনতে আমার দেড় মাসের বেশি সময় লেগেছে। চুলের বিভিন্ন স্টাইল ট্রাই করেছি। সাত বার চুল কেটেছি, আই ভ্রু কেটে ফেলেছি। নিজেকে ফর্সা বানানোর চেষ্টা করিনি। শুটিংয়ের মাঝে এক শটের জন্য তিনদিন গোসল না করে থেকেছি। এই সিনেমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

বিতর্কিত ‘হাজীর বিরিয়ানি’ গানটি...

সিয়াম আহমেদঃ এটা নিয়ে আমি কোন উত্তরই দিবো না। (পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে) আপনি নিজে চিন্তা করেন, যে সন্তানের জন্য আপনি এত কষ্ট করেছেন সবাই যদি সেই সন্তানের পিছে উঠেপড়ে লাগে তখন আপনার কেমন লাগবে? আমরা তো আড়াই মিনিটের কোন ভিডিও বানায়নি, সিনেমার একটি অংশ বানিয়েছি। গানটি সিনেমায় কোন সিচুয়েশনে কেন আসছে সেটি যদি আপনি সিনেমা না দেখেন তাহলে তো বুঝবেন না।

‘পোড়ামন ২’র পর আপনার প্রতি দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। নিজের মাঝে সেই দায়িত্ববোধ কিভাবে ধারণ করেছেন?

সিয়াম আহমেদঃ নিজের মধ্যে দায়িত্ববোধ ধারণ করেছি বলেই তুলার জন্য এত পরিশ্রম করা। আমি জানতাম মানুষ আমাকে আগেরবার সুযোগ দিয়েছে, নেক্সট টাইম তাদের ভালো কিছু দিতে হবে। আমি একটা জিনিস খুব অবাক হয়েছি, ৪০-৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা হলে এসেছে। দর্শকদের ভালো কনটেন্ট উপহার দেয়া অবশ্যই আমাদের দায়িত্ববোধের মধ্যে পড়ে। যে কারণে আমরা ‘হাজীর বিরিয়ানি’ গানের কথাও পরিবর্তন করে দিয়েছি।

নিজের সিনেমা দেখে কেঁদেছেন কেন?

সিয়াম আহমেদঃ (মুখে হাসি) আমি আসলে দর্শকদের রিঅ্যাকশন দেখছিলাম। মানুষের চোখের দিকে তাকাচ্ছি, আমার পেছনে বসা মানুষগুলো ফুঁফিয়ে কাঁদছে, কেউ কেউ কান্না থামানোর চেষ্টা করছে। দিনের শেষে আমিও একজন দর্শক। আমি পুরো গল্পটার ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। যে গল্প টাচ করে সেটা সবাইকেই টাচ করবে, সেখানে আমি কাজ করি বা না করি। প্রথম যখন ছবিটি দেখেছিলাম তখন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিলো না। হলেই প্রথম মিউজিকসহ দেখি। নিজের ছবি বলে বলছি না, আমাদের সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটি সত্যিই খুব ভালো হয়েছে।

পূজা ও রায়হান রাফির সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

সিয়াম আহমেদঃ আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ। আমরা প্রচুর পরিমাণে ঝগড়া করি, প্রচুর হাসাহাসি করি, নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করি। যদি কারো ভুল হয় সেটা একজন আরেকজনকে ধরিয়ে দেই। শেয়ারিংয়ের জায়গা ও দায়িত্ববোধের জায়গা যখন সবার মধ্যে একসাথে থাকে তখন কাজটি এমনিতেই ভালো হয়। আমি যদি আমার টিমের সাথে ভালো লাগা, খারাপ লাগা শেয়ার করতে না পারি তাহলে সেটা শুধু কাজের জন্য কাজ করা হবে। এতে ভালো কিছু হবে না।

‘দহন’র কোন স্মৃতি বেশি নাড়া দেয়?

সিয়াম আহমেদঃ দহনের অনেক স্মৃতি আছে। বাসের মধ্যে বোম ব্রাস্টের যে সিনটা হয়েছে সে সিনটার সময় সবাই যখন বাসের ভেতরে পুড়ে গিয়েছিলো তখন আমার খুব কষ্ট লাগছিলো। আমাদের দেশে তো এমন ঘটনা ঘটেছে। হতে পারে সিনেমায় আমরা একটা জিনিস বানানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটা তো বাস্তব ঘটনা। আমাদের জন্য হয়তো এটা একটা ব্রেকিং নিউজ কিন্তু সেই ব্রেকিং নিউজটা যদি আপনার সাথে হয় কিংবা আপনার পরিবারের কারো সাথে হয় তখন কিন্তু এটা শুধু ব্রেকিং নিউজ থাকবে না। এটা আপনার জীবন পাল্টে দিবে। ওই মুহুর্তটাতে আমি সেই ঘটনার ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে এমন ঘটনা কারো সাথে হওয়া উচিত নয়।

হাজীর বিরিয়ানির শুটিংয়ের সময় একটা শটে আমার হাত-পা পুড়ে গিয়েছিলো। তখন আমার হাতে টুটপেস্ট লাগিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিলো। আমাদের পরিচালকের সেদিকে কোন খেয়ালই ছিলো না। সে আমাকে বলছে, পরের শটটা রেডি চলো আগুনের মধ্যে আরেকটা শট দিতে হবে। তখন আমি হাসতে হাসতে তাকে বলি ভাই তুমি কি মানুষ? (মুখে হাসি) এমন মজার মজার অনেক স্মৃতি আছে।

আপনার মাঝে অনেকেই সালমান শাহ্‌কে খুঁজে পাচ্ছে...

সিয়াম আহমেদঃ ব্যক্তিগতভাবে আমি সালমান শাহ্‌র একজন ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই তার সিনেমা দেখেছি। এটা গর্বের বিষয় যদি কেউ আপনাকে আপনার আদর্শের মানুষটির সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু তার সাথে তুলনা করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। সালমান শাহ্‌কে আমার আদর্শের জায়গায় রেখে আমি আরেকটা সিয়াম হওয়ার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় এতে আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হবে।

‘ফাগুন হাওয়ায়’ কবে আসবে?

সিয়াম আহমেদঃ ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে।

সিনেমাটির প্রেক্ষাপট...

সিয়াম আহমেদঃ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকার যে পরিস্থিতি ছিলো সেটা সকলেরই জানা। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে কি অবস্থা ছিলো সেটি অনেকেরই অজানা। সিনেমাটি প্রত্যেক বাঙালির জন্য শিক্ষণীয় প্রজেক্ট হবে। আমরা শুধু সিনেমার জন্য সিনেমা করি না। সিনেমার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শেখাতে পারি। সিনেমার মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাসও তুলে ধরতে পারি। এই সিনেমায় আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। আমাদের ইতিহাসে থেকে যাওয়ার মতো একটি সিনেমা হচ্ছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’।

হাতে নতুন কোন সিনেমার কাজ আছে?

সিয়াম আহমেদঃ নতুন অনেকগুলো ছবির কাজ আছে কিন্তু করছি কোনটা সেটা এখনো জানি না। আমি যে ধরণের চরিত্রে অভিনয় করেছি আমাকে সেরকম নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেই কাজ করতে হবে। শুধু টাকার জন্য কাজ করতে চাচ্ছি না।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সিয়াম আহমেদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Bootstrap Image Preview