Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নবজাতককে পাঁচতলা ভবন থেকে ছুড়ে ফেলে দিল মা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০৮ AM
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০৮ AM

bdmorning Image Preview


মায়ের কোল সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। একজন মায়ের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে থাকে তার সন্তান। মা সর্বোচ্চ চেস্টা করে তার ছেলেকে বাঁচান। কিন্তু সেই মাই যখন তার সন্তানকে হত্যা করে তখন মানবতা শব্দটাও যেন লজ্জা পেয়ে বসে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ তলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ছাদ থেকে মাত্র চারদিন বয়সী নিজের সন্তানকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে মা। এরপর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

ওই মা’র সীমা আক্তার। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ফুলচং গ্রামের মনির মিয়ার স্ত্রী। মনির লেবানন প্রবাসী। সীমার এমন আচরণ অবাক করে দিয়েছে সবাইকে। পুলিশের ধারণা স্বামীর ওপর সীমার অভিমানে সীমা এ কাজ করতে পারে।

এ দিকে ঘটনার পরপরই ফেসবুকে সীমার শিশু সন্তানের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনের সড়কে পড়ে আছে শিশুটির নিষ্প্রাণ দেহ। প্রাণহীন ওই শিশুর দেহটিকে ঘিরে রেখেছে কিছু মানুষ। অনেকেই শিশুটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন।

প্রকাশ দাস নামে একজন ওই ছবি দিয়ে লিখেছেন, জীবন চলার টাকা নামক কাগজের কাছে পরাজিত নবজাতকের মরদেহ। নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ, নিথর। যেখানে সকল শব্দেরাই ইতি টানলো। জীবনের কাছে কতটাই না অসহায় আত্মসমর্পণ ছিল সেই মায়ের, যে মা তার চার দিনের নবজাতককে বহুতল ভবন থেকে ফেলে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিল। পরে নিজেও সেই ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের শেষ অধ্যায়ের রচনা করে গেল। পেছনে রেখে গেল নানা প্রশ্নের ঝুলি।

মনিরুজ্জামান পলাশ নামে এক সংবাদকর্মী শিশুটির ছবি দিয়ে লিখেছেন, আজ যে শিশুর থাকার কথা ছিল পরম আদরে, বাবা-মায়ের মান-অভিমান তাকে নিয়ে গেল লাশকাটা ঘরে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই সীমা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Bootstrap Image Preview