Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ রবিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিপদসীমার ২০ সে.মি. ওপর তিস্তার পানি, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৪ AM আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৫ AM

bdmorning Image Preview


ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি। তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। এরইমধ্যে বাঁধের একটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে। পরে তা রাত ১১টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

তিস্তা ব্যারাজের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, ভারি বর্ষণের সঙ্গে উজানের পাহাড়ি ঢলে সোমবার সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। রাত ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টের বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

ভারত তাদের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রচণ্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আরও কী পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা যাচ্ছে না।

পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার অধুনালুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা- দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, পার্শ্ববতী কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নের চর এলাকার ২০ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলি ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের অস্থায়ী বাঁধগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাঁধগুলো ভেঙে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়তে পারে। 

হাতীবান্ধা উপজেলার চর ধুবনীর আনছার আলী, লোকমান, মতিয়ার রহমান, পাটিকাপাড়ার শফিকুলসহ অনেক পানিবন্দি বাসিন্দা বলেন, দুপুর থেকে পানিবন্দি আমরা। ক্রমে পানি বেড়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

Bootstrap Image Preview