Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

তামজিদ হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫৬ AM আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫৬ AM

bdmorning Image Preview


নোয়াখালীতে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক না আনায় পারুল বেগম (২২) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে রাতের আঁধারে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে নিহত পারুলের স্বামী।

গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় নোয়াখালী বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের গুল্লাখালী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।নিহত গৃহবধূ মোটরশ্রমিক জিল্লুর রহমান প্রকাশ আজিমের স্ত্রী।

এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের সোনাদিয়া গ্রামের মো. ইউসুফের মেয়ে পারুল বেগমের সঙ্গে বছরখানেক আগে একই উপজেলার গুল্লাখালী গ্রামের জিল্লুর রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। জিল্লুর রহমান প্রকাশ আজিম পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক।

নিহত পারুলের পিতা ইউসুফ মিয়া জানান, বিয়ের পর মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে ১ লাখ টাকা যৌতুক নেয় জিল্লুর।

এর কয়েকমাস পর জিল্লুর পারুল বেগমকে তার বাবার বাড়ি থেকে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক আনতে বলে। বাবার বাড়ি থেকে দ্বিতীয় দফায় যৌতুক আনতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রতিবাদ করে পারুল। এ নিয়ে পারুলের ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

নিহতের স্বজনরা জানান, বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় প্রতিরাতেই পারুলকে জিল্লুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। শনিবার রাতে জিল্লুর রহমান বাড়িতে ফিরে পুনরায় পারুলকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক আনতে চাপ দেয়। এ নিয়ে পারুলের সঙ্গে জিল্লুরের কথাকাটাকাটি হয়।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জিল্লুর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা পারুলকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এতে পারুলের পেটে লাথি পড়লে সে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

পারুলের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে জিল্লুর রহমান আজিম ও তার পরিবার পারুলের লাশ বাড়িতে রেখে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাতিয়া থানাধীন জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শাহজালাল বাবুল শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ পরিদর্শক শাহজালাল বাবুল জানান, ঘটনার পর জিল্লুর রহমান ও তার মা-বাবাসহ পুরো পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়া হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শেখ বলেন, ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

Bootstrap Image Preview