Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ মঙ্গলবার, মে ২০২৪ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

সংলাপ কি সংকটের সমাধান নাকি নতুন সংকট?

আলভী সীমান্ত
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৪ PM
আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৪ PM

bdmorning Image Preview


যতই নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে ততোই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্বেগ আর রাজনৈতিক উত্তাপ। গঠন হচ্ছে নতুন নতুন জোট, উত্থাপন হচ্ছে নতুন ও পুরানো দাবি৷

তবে এইসব আলাদা জোটের একটি দাবি সর্বজনীন। সেটা হলো- অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। যাতে করে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে সরকার দলীয়দের সাথে অন্যান্য জোটের সংলাপ। এরই মধ্যে সংলাপ হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যা সব থেকে বড় ও শক্তিশালী জোট। তারপর সংলাপ হল বি চৌধুরীর  যুক্তফ্রন্টের সাথে। পরবর্তী সংলাপ জাতীয় পার্টির সাথে।

তবে সংলাপের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলেছে সংলাপ আরো চলতে পারে কিন্তু এখন তারা সন্তুষ্ট নয়। অপরদিকে বি চৌধুরী  বলেছে তারা সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে কারণ নির্বাচন কমিশনকে তার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে। এই কথার ভিত্তিতে এতোটুকু আচ করা যায় এ যেন নতুন সংকটের বসন্ত শুরু হতে যাচ্ছে।

যদি সরকারি দলের সাথে অন্যান্য জোটগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের সঠিক ফর্মুলায় সবার অবস্থান ভিন্ন হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। জনগণ চায় উৎসবমুখোর পরিবেশে নির্বাচন যেখানে- "আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো" পরিস্থিতি নিশ্চিত হবে। এভাবে এক এক জোট নির্বাচন নিয়ে মতামত ভিন্ন হলে পরিস্থিতি বিরুপ হবার সম্ভাবনা বেশি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি থেকে প্রথম সংলাপে মাত্র একটি বিষয়ে সরকারদলীয় জোট থেকে আশ্বস্ত হয়েছে। তা হল সমাবেশ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু তাদের প্রাধন ও এক নম্বর দাবি হল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। যা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। আর এ দাবি মেনে না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট হঠাৎ করেই গঠন করে সংলাপের জন্য চিঠি দেন। যুক্তফ্রন্টের তেমন লক্ষণীয় জনসংযোগ ও দাবি-দাওয়া জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার আগেই তারা সংলাপ শেষে বললেন তারা সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে রাজি। এমন বক্ত্যবে জনগণ যেমন হতবাক তেমনি বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছে। অনেকেই বলছে এতো নমনীয়তার কারণ কি তার দলের লোকের হাজার কোটি টাকার অর্থ কেলেঙ্কারি, আর তার ছেলের সরকার দলীয়ের সাথে ব্যবসার কারণ? তাহলে কি তারা আদৌ জনগণের কথা বলছে নাকি সরকারকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে?

আবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সংলাপের আগেই বলেছেন, তিনি সংলাপে জানতে চাইবেন তিনি কতগুলো আসন পাবেন? এ থেকে জনগণের কাছে পরিষ্কার তিনি সরকার দলীয়দের কাছে অতি অসহায়, দরিদ্র। তিনি যতই বলেন তিনি প্রয়োজনে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবেন তা মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া কিছুই না। তার এবং তার দলের সে যোগ্যতা ও শক্তি নেই। এছাড়া আরো একটি ব্যাপার স্পষ্ট তিনি তার দলীয় সিদ্ধান্ত অন্য দলের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ এরশাদও জনগণের পক্ষে কথা জোর গলায় বলতে পারছে না।

উপরের তিন দলের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এখান থেকে সরকার দলীয় জোট যে খুব ভালোই সুবিধা নিবে তা সুস্পষ্ট। তিন দলের কথা যখন ভিন্ন হবে তখন সরকার দলীয়রা বলতেই পারে, আমরা সংলাপ করেছি। সবার কথা শুনেছি। কিন্তু আসলে তারাই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়৷ তাই আমাদের দেয়া পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে৷ এটা সাংবিধানিক।

প্রধানমন্ত্রীসহ তার জোটের সকলের এটা বোঝা দরকার তারা উন্নয়ন করেছে তাহলে জনগণ তাদের সাথেই থাকবে। ভোট তাদের ঘরেই থাকবে এটা অন্যান্য সমীক্ষায় তাই বলে। তবে ভয় কিসে? ভয় হলো এই নয় বছর দশ মাস তারা বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের উপর অত্যাচার করেছে তাতে। তারা ক্ষমতাহীন হয়ে গেলে এইসবের প্রতিশোধ তাদের উপর নেবে। তাই এ পরিস্থিতিতে সংলাপগুলোতে মূখ্য বিষয় হওয়া উচিত, কিভাবে স্থিতিশীলতার রাজনীতি করা যায়। দেশ গঠনে একে অন্যের অপ্রতিহিংসা না করে সহনশীলতার ও সহযোগিতার রাজনীতি করা যায়।

জনগণের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একটাই প্রত্যাশা তা হলো নির্বাচন কিভাবে হবে সেটা ঠিক হবার পর যেন প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী ইশতিহার নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। যে দল যত উপযুক্ত, কাঠামো নির্ভর, যুগপোযোগী আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার ও প্রগতিশীল ইশতিহার দিবে জনগণ যেন তাদের নির্বাচিত করতে পারে। কোন রাজনৈতিক দল বা দলের নেতারা তাদের সাংবিধানিক কর্মকাণ্ড পালন করতে বাধাগ্রস্থ বা প্রতিহিংসার সন্মুখীন না হয়৷

Bootstrap Image Preview