Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ সোমবার, আগষ্ট ২০২২ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হোক’ এটা কারা চাইছে? কেন চাইছে?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২২, ১১:৪৬ AM
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২২, ১১:৪৬ AM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


ডা. জাহেদ উর রহমান।। লেটস কল আ স্পেইড আ স্পেইড। ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হচ্ছে কিনা’- এটা নিয়ে আমাদের চারপাশে এতদিন যে ফিসফাঁস চলছিল, সেটা আর ফিসফাঁসের পর্যায়ে নেই, পরিণত হয়েছে কোলাহলে। শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেয়ার সাফল্য নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো সরকারটি সমপ্রতি যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু করলো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঠিক রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর জন্য নানা ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধনের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলো, তখন মানুষ বুঝতে পারলো সংকট অনেক বড়। তাই অনেকেই জোরেশোরে বলছেন বাংলাদেশ অবশ্যই শ্রীলঙ্কা হবে। ফেসবুকে সরকার সমর্থকদের অনেককে দেখছি যারা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার ‘প্রত্যাশা করছেন’ তাদের বিরুদ্ধে চরম কঠোর মন্তব্য করছেন।

আবার পত্রিকায় দেখছি কিছু ‘নিরপেক্ষ’ সাংবাদিক/কলামিস্ট কলামও লিখছেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করছেন- কীভাবে মানুষ সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে তার নিজের দেশের ক্ষতি চাইতে পারে!  ‘নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা’র কাজটি ভালোভাবে দেখা হয় না আমাদের সমাজে। তাই এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা হওয়া দেখতে চাওয়া মানুষকে তীব্র তিরস্কার করা হচ্ছে। 

ফেসবুক বা সামনাসামনি আলাপচারিতায় যারা দেশ সম্পর্কে এই আপাত আপত্তিকর কথা বলছেন, তারা কোনোভাবেই সমাজের নিরক্ষর প্রান্তিক মানুষ নন। এদের বেশির ভাগই শিক্ষিত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে উপরের দিকের অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষ। অর্থাৎ এরা সবাই বোঝেন দেশ শ্রীলঙ্কা হলে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বে তারাসহ আর সকল আম-জনতা। ক্ষমতাসীন দল আর তার অতি সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীটি তো বটেই দলটির ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতাও যে পরিমাণ সম্পদ বানিয়েছেন, তাতে দেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হলে তাদের কিছুই আসে যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে- এটা জেনে, বুঝেও কেন অনেকেই চাইছেন দেশ শ্রীলঙ্কা হোক? কোনো প্রবণতার মূলে যাবার চেষ্টা আমাদের সমাজে কমই। এই দেশে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝে কিছু অপরাধে সংগঠনের ধরন কিংবা অপরাধের ভিডিওচিত্র দেখার কারণে আমাদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সেসব চাঞ্চল্যকর অপরাধের ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে আমরা কিছুটা শোরগোল করি। যে অপরাধই হোক না কেন, আমরা মৃত্যুদণ্ড চাই। আমাদের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যেকোনো অপরাধের শাস্তি বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা গেলে সেটা অপরাধ বন্ধ করে দেবে।  এই যে কয়েকদিন আগে সাভারে একজন ছাত্র তার শিক্ষককে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললো তখনো আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাইলাম। সেই ছাত্রের বয়স ১৮-এর নিচে তাই সে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশু। তাই তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো করে বিচার করা যাবে না বলে রীতিমতো শিশু হবার বয়স ১৪তে নামিয়ে আনার আলাপ করেছি আমরা।  অপরাধ বিজ্ঞানের খুব বেসিক জ্ঞান বলে শুধুমাত্র অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে একটা সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা যায় না। 

যে সমাজে অপরাধী হয়ে ওঠার মতো পরিবেশ বিরাজ করে সেই সমাজে নিয়মিতভাবে অপরাধী তৈরি হবেই- যতই শাস্তির ভয় দেখানো হোক না কেন। তাই আমরা যখন অপরাধী নিয়ে কথা বলবো, হোক সেটা কোনো শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্কের অপরাধ তখন আমাদের খুব গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সমাজে অপরাধী তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করতেই হবে। যখন একটা সমাজে অপরাধী তৈরি হওয়ার পরিবেশ নিয়ে আলাপ হবে, যখন একটা রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আলাপ হবে, যখন মানুষের সামনে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যাচ্ছেতাই করার উদাহরণ সামনে আসবে, তখন সেই দায় অনিবার্যভাবেই গিয়ে পড়বে ক্ষমতাসীন শাসকের ওপরে। জনগণ জেনে যাবে যেসব ভয়াবহ, বর্বর অপরাধ আমরা আমাদের সমাজে ঘটতে দেখি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় দায় শাসকগোষ্ঠীর। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই এদেশের শাসকগোষ্ঠী কখনোই চায় না এসব আলাপ হোক জনপরিসরে।  এভাবেই অপরাধের মূল নিয়ে আলোচনার মতোই সরকার যদি বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা হওয়ার কামনার পেছনে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলাপ করে তবে সেটা সরকারের জন্য চরম বিপদ তৈরি করবে। 

 বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা হওয়ার সম্ভাবনা আসলে কতোটা? ইদানীং আমার খুব মনে হয় আমাদের মতো চরমভাবে বিভাজিত এক সমাজে শিক্ষিত, সচেতন মানুষকে নিজ উদ্যোগেই অর্থনীতিরও অনেকটা পাঠ নিয়ে রাখা উচিত। কারণ দেশে আর সব মানুষের মতো অনেক অর্থনীতিবিদও তাদের অর্থনীতির জ্ঞানকে সরিয়ে রেখে দলীয় কর্মীর মতো কথা বলেন। আমাদের অনেকে তাদের কথা শুনে বিভ্রান্তও হন। আবার অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ বলার চেষ্টা করেন কিন্তু অনুমান করি তাদের ব্যক্তিগত কিছু হিসাব নিকাশ থেকে যতটা বলার কথা, বলেন না ততটা।  কয়েক দিন আগেই বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে শ্রীলঙ্কার মতো সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংস্থার প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। এর সূত্র ধরে বিবিসি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা বানিয়েছে। এই তালিকায় পাকিস্তান, লাওস ও মালদ্বীপের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও।  সমপ্রতি সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধন, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পে কাটছাঁট, আমলাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি। এর সঙ্গে আছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ঠিক রাখার জন্য আইএমএফ’র কাছে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া, কম প্রয়োজনীয়/বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিতকরণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ। 

আর সর্বশেষ দেশে বিদ্যুৎ রেশনিং চালুসহ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই সবগুলো পদক্ষেপকে একত্র করলে এটা বুঝতে বাকি থাকে না, মুখের কথায় এবং শরীরী ভাষায় যতই নিশ্চিন্ত ভাব দেখাক না কেন, সরকার খুব গভীর সংকটে পড়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন কি সংকটের জন্য দায়ী? বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থাকে খুব সাময়িক বলে বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ে নেয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ইউক্রেনের উপরে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে। উদাহরণ দেয়া হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সেটার।  ইউরোপের কিছু কিছু দেশে জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু সেই জ্বালানির সংকট কোনোভাবেই দেশগুলোর জ্বালানি কেনার সামর্থ্য কমে যাবার কারণে হয়নি। এই সংকটের মূলে আছে রাশিয়া থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প উৎস না পাওয়া। এ ছাড়াও রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উপরে চাপ তৈরি করতে যাচ্ছে।  আর রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন যদি সাময়িক সংকটের কারণ হবে, তবে বিবিসি কেন বাংলাদেশকে দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রেখেছে? এর মানে তো সংকট সাময়িক নয়। 

আর এই যুদ্ধই যদি প্রধান বিষয় হয়ে থাকে তাহলে তো দেউলিয়া হওয়ার তালিকায় সরকারের হিসাবে আমাদের চাইতে গরিব দেশ ভারত এবং নেপাল থাকার কথা ছিল। থাকার কথা ছিল আফ্রিকার অনেক দেশেরও। নেই কেন তারা? বাংলাদেশের সংকটটা অনিবার্য ছিল, সেটা এগিয়ে এসেছে মাত্র ২০০৯ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা করেনি। তারা পরিকল্পনা করে রেখেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় থেকে যাবে। একটা সরকার যখন এভাবে ক্ষমতায় থেকে যেতে চায় বুঝতে হবে লুটপাটই তার একমাত্র পরিকল্পনা। সেটাই ঘটলো একের পর এক। ব্যাংক খালি করে ফেলেছে সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত অলিগার্করা। লুটপাটের সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে রীতিমতো ব্যাংক মালিকদের আজ্ঞাবহ বানিয়ে ছেড়েছে। অলিগার্কদের আরও বেশি সংখ্যায় এবং বেশি সময়ের জন্য ব্যাংকের মালিকানা এবং পরিচালনা পর্ষদে থাকা নিশ্চিত করার জন্য একের পর এক আইন এবং বিধি বদলে ফেলেছে। শুধু সেটাই নয়, সামান্য টাকা পরিশোধ করে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফশিল করে নতুন ঋণ পাবার ব্যবস্থাও করে দেয়া হয়েছে। ওদিকে বিদ্যুতের সংকটকে পুঁজি করে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) আইন বানিয়ে একের পর এক ভাড়াভিত্তিক তরল জ্বালানিনির্ভর কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে দেশে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার সঙ্গে তাদের দিতে হয় নির্দিষ্ট ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ)। 

এই ভাড়া দিয়ে যাওয়ার চুক্তি হয়, এমনকি কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও। এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও হাজার হাজার কোটি টাকা কুইক রেন্টাল কোম্পানির মালিকদের হাতে তুলে দেয়ার গল্প আমরা জানি। দুই বছরের কথা বলে আইনটি করা হলেও এর মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তার সর্বোচ্চ চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও এই আইনের মেয়াদ বাড়তে বাড়তে ১৬ বছরে এসে ঠেকেছে। এ ছাড়াও আর সব স্বৈরাচারী সরকারের মতো বিরাট বিরাট কিছু অবকাঠামো প্রকল্প দেখিয়ে উন্নয়ন দাবি করে সেটাকে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার যুক্তি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশের অবকাঠামো তৈরিতে লুটপাট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, এই দেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিদেশি ঋণ (প্রধানত চীনের) নিয়ে তৈরি করা এসব প্রকল্পের অনেকগুলোরই কোনো অর্থনৈতিক উপযোগিতা নেই। যেগুলোর আছে সেগুলো কয়েকগুণ বেশি দামে তৈরি করার কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক উপযোগিতা দিতে পারবে না। ফলে এগুলো আমাদের ‘ঋণ ফাঁদে’ ফেলবেই। আরেকটি কথা খুব জরুরি, লুটপাটের টাকা দেশে থাকে না পালিয়ে যায় বিদেশে। তাই আমদানি এবং রপ্তানির নামে বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলেই পাচার হয়।

 সমপ্রতি আমরা প্রতি মাসে ৭/৮ বিলিয়ন ডলার (আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ) আমদানি দেখছি, তার পেছনে আসলে আছে টাকা পাচার। সঙ্গে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার তো আছেই।  তো একের পর এক ভয়ঙ্কর পাপ সরকার করবে আর সেটার মাশুল তাদের দিতে হবে না, তা তো হতে পারে না। আজ যে সংকটে পড়েছে সরকার, সেটায় সরকারের পড়া অনিবার্যই ছিল। তবে এটা ঠিক, ইউক্রেনের উপরে রাশিয়ার আগ্রাসন বিষয়টাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। হ্যাঁ, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার তীব্র ঝুঁকির মধ্যে আছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হোক এই মনস্তত্ত্বের পেছনের কারণ কিছুদিন আগে সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলে’র সঙ্গে জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন ২০১৪ সালের পর থেকে মারাত্মক রকম নিপীড়ন, হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে বর্তমান সরকার বিরোধীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার কোনো সুযোগ রাখেনি। কথাগুলো নতুন নয় নিশ্চয়ই, কিন্তু সরকারের এক দীর্ঘকালীন পরীক্ষিত মিত্রের মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনার নিশ্চয়ই ভিন্ন এক ডায়মেনশন আছে।

  এটা মানতে দ্বিধা নেই- একটা জবরদখলকারী সরকারকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য করার মতো কার্যকর কোনো আন্দোলন সরকারবিরোধীরা করতে পারছে না, জনাব জি এম কাদেরের বলা পরিস্থিতির কারণেই। তাই সরকারবিরোধী অসংখ্য মানুষ চাইছে যেকোনো মূল্যেই হোক এই সরকার বিদায় নিক। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে গেলে যদি সেটা নিশ্চিত হয়, তাহলে তাতেই রাজি তারা। তারা জানে, সেই পরিস্থিতি হলে তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু তবুও সেটা তারা চায়। সরকারি দলের লোকজন তো বটেই, সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে যেসব সাংবাদিক/কলামিস্ট ‘নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে চাওয়া’ মানুষের নিন্দা-বিদ্রূপ করছেন, তারা কি একবারও ভেবেছেন, ভেতরে কতো তীব্র অসন্তোষ জমা হলে, ভেতরে কতো ভয়ঙ্কর অপ্রাপ্তি থাকলে, ভেতরে কতোটা সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে মানুষ দীর্ঘদিন ন্যূনতম খেয়েপরে থাকতে গিয়েই নাভিশ্বাস উঠে যাবে এমন পরিস্থিতির মধ্যে গিয়ে হলেও একটা সরকারের পতন চায়?  এসব কথা বোঝার ইচ্ছা সরকারি দলের লোকজন কিংবা তাদের পক্ষের ‘বুদ্ধিজীবী’দের নেই। থাকলে তো তারা এভাবে ম্যান্ডেটহীনভাবে ক্ষমতাকে জবরদখল করে রাখতেন না। নিশ্চয়ই একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছাড়ার চাইতে বিরোধীদের ‘দেশপ্রেমহীন’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’, ‘রাজাকারের দোসর’ ট্যাগ লাগিয়ে পাকিস্তান চলে যাবার প্রেসক্রিপশন দেয়া অনেক সহজ।

সূত্রঃ মানবজমিন 

Bootstrap Image Preview