Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০২১ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভালো থাকুক সোনার বাংলা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২১, ১০:০৪ PM
আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৫৬ AM

bdmorning Image Preview
মোঃ পলাশ মাহমুদ।। 


মোঃ পলাশ মাহমুদ।। 

জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণ অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ নতুন মাইলফলক অর্জন আমাদের জন্য অনেক সম্মান ও গৌরবের। এই গৌরব ধরে রাখাও সরকার তথা জনগনের দ্বায়িত্ব। তবে গত কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু সামনে উত্থাপিত হচ্ছে, যার ফলে নতুন ইস্যুতে পূর্বের ইস্যু অতলে হারিয়ে যাচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। তরুন প্রজন্ম প্রভাবিত হচ্ছে এই নেতিবাচক পরিবেশের, সুনাম নষ্ট হচ্ছে সরকারের। কারন, কিছু কুচক্রী মহল ক্ষমতাসীন দলের ভিতরে জায়গা করে নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারে ব্যস্ত, যা হয়তো দলীয় মনিটরিং এর চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে।

এই তো গত ৮ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫২ জনের মৃত্যু হয়। সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যাদের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনা ছিলো না, তাদের অনুমোদন বহির্ভূত শিশু-কিশোর শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো, তাহলে সরকারি ভাবে যেসকল কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন তারা কি আদৌ ভিজিট করেছিলেন?

এরপরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং একজন অভিভাবকের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হওয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। ফোনালাপের সময় অধ্যক্ষ কামরুন নাহার কথা বলার এক পর্যায়ে একজন অভিভাবককে বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো ... বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগবো, আমি শুধু ভিকারুননিসা না, আমি দেশছাড়া করবো।’ আরও বলেন, আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না।’

তিনি তার ব্যক্তিগত অপরাজনীতির অপবাদ গোটা রাজনীতিতে চাপিয়েছেন। তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছেন তার রাজনৈতিক ক্ষমতা, যা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। বাংগালী জাতির গৌরবের রাজনৈতিক অতীত রয়েছে, আমরা মহান জাতির পিতার, জাতীয় চার নেতাসহ অনেক আদর্শিক রাজনীতিবিদকে জানি। কিন্তু বর্তমানের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য অশনিসংকেত।

 

এরপরে আসি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি উপকমিটির সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তার হবার বিষয়ে যা স্বয়ং দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।দুঃখজনকভাবে এখন রাজনীতি একটা লাভজনক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন একটি পদ বানিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, জড়িয়ে পরে বিভিন্ন অরাজনীতির সাথে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও কিছু মদদদাতা না থাকলে তারা এইভাবে দ্রুত দলীয় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারে না, হেলেনা জাহাঙ্গীরদের তাহলে কে এতো দিন ছায়া দিয়েছে? সে কিভাবে ২৫/২৬ বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বহরে যুক্ত হয়েছিলেন!! আমাদের সরকার প্রধানের সিকিউরিটি তাহলে কোন লেভেলে রয়েছে?

আমরা ডাক্তার সাবরিনার কথা সবাই অবগত রয়েছি, নতুন ভাবে চিকিৎসক থেকে আন্তর্জাতিক প্রতারক ইশরাত আবির্ভূত হয়েছে, যিনি ফিলিপাইনের একটি ওয়েবসাইট থেকে ৪০০ ডলারে সামরিক বাহিনীর মতো ‘বিগ্রেডিয়ার জেনারেল’ র‌্যাঙ্ক পদটি কিনেছিলেন। এরপর সেই র‌্যাঙ্ক ব্যাচ ও পোশাক বানিয়েছিলেন। তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম দিদারও ফিলিপাইনের প্রতিষ্ঠানটি থেকে ‘মেজর জেনারেল র‌্যাঙ্ক’ পদ কিনেছিলেন। এছাড়াও চিত্র নায়িকা একা, মডেল পিয়াসা, মৌ আটক হয়েছে যাদের বাসায় পাওয়া গেছে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল।

 

কয়েকমাস পূর্বে সারা দেশে আলোরণকরা ঘটনা ক্যাসিনো কর্মকাণ্ড, কিন্তু এই ঘটনাগুলোর পিছনে বিনিয়োগকারী হোতাদের নাম কি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছিলো?

 

কয়েকমাস আগে হোটেল রেইন ট্রিতে জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানিয়ে একপর্যায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের ধর্ষণ করার ঘটনা, টকশো সাহেদের ঘটনা। এছাড়াও কয়েকমাস পূর্বে রাজধানীর গুলশানে বিলাসবহুল একটা ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছিলো পুলিশ যে তরুণীর নাম ছিলো মোসারাত জাহান মুনিয়া এবং যে ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানকে আসামি করা হয়েছিলো।

 

একটি হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের একটি পর্দা ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনার খবরের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। এর আগে পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের গ্রিন সিটিতে বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার টাকা। পরে তা গড়ায় আদালতে।

আচ্ছা, আমজনতার আবেগী মন জানতে চায় সেই বালিশগুলোর কি অবস্থা যারা ওই বালিশে ঘুমাচ্ছে তাদের কি ঘুম ভালো হচ্ছে??

 

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের চার বছর পার হয়েছে গত ২০ মার্চ। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়েও 6 ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় নিহত তনুর পরিবারে ক্ষোভ বাড়ছে, কেনো তারা আজও বিচার পেলো না!!

 

‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল’। সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল-এর সেই ভুতুড়ে কাণ্ড বাস্তবেও ঘটে। আর তা ঘটেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেই। ছিল সোনা, হয়ে গেছে মাটি। জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ চুরির টাকা যে হ্যাকার রা নিয়ে গেছিলো তা কি এসেছে বেড়ানো শেষে। 

 

বাস জ্বালিয়ে দিয়ে যারা মানুষ হত্যা করেছিলো তাদের কি অবস্থা? গুম করা কেউ কি ফেরত এসেছে নাকি ঘুমিয়ে গেছে!

 

আর একটা ঘটনা, সাগর-রুনি কে কারা হত্যা করেছিলো বাচ্চাটা কি খুনিদের বিচার জানতে পেরেছে? মোস্তাকদের মৃত্যুর কারন কি তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছিলো।

সার্বিক পরিস্থিতিতে, আমরা দেখতে পাই সর্বোপরি কিছু বিবেক বর্জিত ক্ষমতা লোভী নেতৃত্ব, অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনই অন্যতম লক্ষ্য তাদের। কিন্তু উপোরোক্ত আলোচিত ঘটনা সমূহে জড়িয়ে আছে যারা, তারা কি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি পাবে!! ঘটনার পিছনে যারা মূল হোতা তাদের কে কি আইনের আওতায় আনা হবে কখনো!!

  • মতামত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।
Bootstrap Image Preview