Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পরিচয় দিতে লজ্জা পান বেসরকারি শিক্ষকরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০১৯, ১০:৪৬ PM
আপডেট: ০১ মে ২০১৯, ১০:৪৬ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


আজ মহান মে দিবসে বাংলাদেশের সকল স্তরের পেশাজীবী ও মেহনতি মানুষকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করুন (মোহাম্মদ সা.)।

নিজের পেশার প্রতি এতটা উদাসীনতা আর ক্ষোভ অন্য কোন পেশাজীবীদের মধ্যে আছে কিনা আমার জানা নেই। একজন কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরও গর্বভরে নিজের পেশার পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে। অথচ বহু বেসরকারি শিক্ষকদের দেখেছি তিনি নিজেদের পেশার কথা লুকিয়ে রাখতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অথচ পৃথিবীতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে স্বীকার করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৮ বৎসর পরেও এদেশের শিক্ষার নিম্নমান, শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যস্ততা, শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদান না করা ও ৯৭% শিক্ষা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করি।

যেখানে একজন সরকারি অফিসের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীও গর্বভরে পরিচয় দেয় আমি সরকারি কর্মচারী। অথচ জাতি বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর শিক্ষকরা নিজের পেশাগত পরিচয় দিতে লজ্জা পায়, গোপন রাখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। এর পেছনের কারণ দেশ স্বাধীনতা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবন মানোন্নয়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সীমাহীন অবহেলা ও সদিচ্ছার অভাব।

পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর উন্নতির মূলে রয়েছে তাদের গুনগত মানের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে অঙ্গীকার রয়েছে, তার সাথে একাত্মতায় দেশের সকল সম্মানিত শিক্ষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে গুণগত মান সমৃদ্ধ দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাই সবার আগে প্রয়োজন বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব সরকারের হাতে নেয়া। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথমেই শিক্ষকদের কথা চলে আসে। যে পেশাজীবীরা নিজেদের পেশাকে সম্মান করেন না, তাঁরা পেশাগত দায়িত্বও যত্নের সাথে পালন করেন না। মূলত আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের মাঝে পেশার প্রতি আন্তরিকতা তৈরি করতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বেসরকারি শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান মর্যাদা ও কাঙ্ক্ষিত বেতন-ভাতা প্রদান না করায় শিক্ষকগণ যথাযথ দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকেন। বেসরকারি শিক্ষকগণ শিক্ষকতা পেশায় যথেষ্ট বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অন্য কাজে মনোযোগী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। শ্রেণীকক্ষে সঠিক পাঠদান না করে অতিরিক্ত আয়ের উৎস প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হচ্ছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এর পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে সরকার ও শিক্ষকদের সমঝোতায়। শিক্ষকদেরকে চোখ রাঙিয়ে এতো বড় সমস্যার সমাধান হবে না। নূন্যতম ৬ মাস অন্তর শিক্ষকদের মিটিং ডেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকরাই মূখ্য ভূমিকা পালনকারী। আর শিক্ষকগণকে বিক্ষুব্ধ করে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করা অসম্ভব।

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬% চাঁদার সাথে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা না দিয়ে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বেআইনি ও অমানবিক। দেশের পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীদের তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে জোর পূর্বক বেতন থেকে কর্তনের আদেশে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য, কোন মতেই এই অমানবিক ও বেআইনি অতিরিক্ত কর্তনের আদেশ মেনে নেয়া হবে না। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত কর্তন ব্যতীত অনেক খাত রয়েছে যা থেকে অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে অতিরিক্ত কর্তনের আদেশ স্থগিত/বাতিল করে, দেশের সকল অভিজ্ঞ শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

পরিশেষে বলবো, গুণগত মানের শিক্ষায় প্রয়োজন গুণগত মানের শিক্ষক। আর শিক্ষকরাই পারেন গুণগত মানের শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তাই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষাকারী সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে শিক্ষকদের আকর্ষণীয় সতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানসহ, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছি। (শিক্ষায় বিনিয়োগ, অধিক লাভজনক)।

লেখক: মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম

সভাপতি বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

Bootstrap Image Preview