Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাতাসে বাংলাদেশের গন্ধ, মধ্যরাতে নেত্রীকে খোলা চিঠি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৮, ১২:২০ PM আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৮, ১২:২০ PM

bdmorning Image Preview


শায়লা আজীম।।

নিউ ইয়র্কের আকাশে আজ ঘনকালো মেঘ। অঝর ধারায় সকাল থেকে বৃষ্টি নামছে। মাউন্ট সায়না এমনিতে এক ভীষন নীরব এলাকা। তার উপর মধ্য দুপুরের এই ঘন বৃষ্টি আরো বেশি নিশ্চুপ করে দিয়েছে চারপাশ। নিস্তব্ধ আমি বসে আছি জানলা খুলে। হীম বাতাস হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দোল খায় আমার জানলায়। বৃষ্টির প্রতিটি কণা যেন হৃদয় স্পন্দনে স্মরণ করছে মিত্যার শিকলে বন্দি আমার প্রিয় নেত্রীকে।

প্রিয় নেত্রী, আমি আপনাকে ঠিক এই সময়েই লিখছি। এখানকার বাতাসেও এখন বাংলাদেশের গন্ধ। আমার মন ভালো নেই। আপনার ওখানে এখন তো মধ্যরাত। যতটা জানি এ সময়টায় আপনি একান্তে নামাজ আদায় করেন। আজও নিশ্চিত তাই করছেন। গত কয়েক দিন ধরে আমি শুধু আপনার কাছে চিঠি লিখছি। আমি লিখেছি আপনার কথা। আমার কথা। আমার গভীর চাওয়া, আমার এই চিঠিটা যেন আপনার কাছে পৌঁছে কোন একদিন। এক মমতাময়ী মা শত কোটি সন্তানের জননী, সার্থক জন্মদাত্রী আপনাকে লাখো সালাম।

আমার স্পষ্টই মনে আছে আপনার সাথে আমার প্রথম একান্তে দেখার দিনটির কথা। শুধু আপনাকে দেখবো বলে রাতের পর রাত আমার ঘুম ছিলো চোখে। কত কথা জমা রেখেছিলাম বলবো বলে। একদিন আগে ঢাকায় আসলাম।তখন ছিলো নভেম্বর মাস। চারদিকে শীতের অনুভব। আমি একা ছিলাম। ভয় ভয় লাগছিলো। পৌঁছে গেলাম আপনার কাছে। এক মহাবিস্ময় আতিথেয়তায় মুগ্ধ আমি আপনার সামনে দাঁড়িয়ে নিবর হয়ে গেলাম। আমার সারা শরীর থর থর করে কাঁপছিল। আনন্দ আর ভয় মিলেমিশে আমাকে নিরব করে দিয়েছে। অবাক বিস্ময়বিহ্বল আমার পলকহীন চোখ শুধু আপনাকেই দেখছিলো। কিছু সময়ের জন্য এই আমি শায়লা আর আমাতে ছিলাম না সেদিন। বুকের ভেতরে জমানো কথাগুলি এক সাথে বলতে শুরু করেছে নিরবে। আমি কিছুই শুনতে পেলাম না। সমস্ত নীরবতাকে ভেংগে আপনি বলে উঠলেন, এতো দুর থেকে সামনে এসেও চুপ কেন? কতো কিছুই না বলার আছে তোমার?

আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমার গলা ধরে আসছে। নেত্রী আমি তো সেই ছোট্ট কিশোরী শায়লা, যার কথা শুনে আপনার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে আমার গলায় মালা পরিয়ে ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সারাদেশে জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগীদের সম্মেলনে আমিই প্রথম হয়েছিলাম। এ সম্মেলন ছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার এক নতুন স্বপ্নের জাগরণ। নেত্রী আমি তো সেই রাজপথের শায়লা, ৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রতি বিকেলে শহীদ মিনারে ছিলাম নির্ভয়ে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাথে রাস্তায় মিছিল করেছি গর্জনে।

কত বার কালো পতাকা হাতে শিরোণাম হয়েছি বহু জাতীয় দৈনিকের। নেত্রী আমি সেই সাহসী মেয়ে শায়লা আজ আপনার সামনে মুখ বুঝে শিশুর মতো দাঁড়িয়ে আছি বাকরুদ্ধ হয়ে। কথা বলতে পারছি না। আপনি কি কিছুটা বুঝতে পেরেছে? আমার বিশ্বাস আপনি সেই সময়গুলো মনে করতে পেরেছেন।

আপনার সাথে ছবি তোলা নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকে। বুকের ভিতরে এক বরফ শীতল অনুভূতি নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আমি আপনার সব ছবি হৃদয়ের মাঝে তুলে রেখেছি আমৃত্যু।

নেত্রী, ১৯৯৪ সালে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। আমার মেয়ে আইনাবের বয়স তখন মাত্র এক বছর। বাবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় আমি মায়ের জন্য কাঁদতে দেখে বাবা একদিন আমার মেয়েকে আমার কোলে দিয়ে বললেন, আজ থেকে তুমি তোমার মেয়েকে মা’ বলে ডেকো। তখন বুঝিনি কেমন করে আমি মায়ের শোক ভুলে গেছি।

নেত্রী, আজ আমাদের মনে অনেক কিছু হারাবার শোক। তাই বলে আমরা দুঃখের ভেলায় ভাসছি না। শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও আমরা আমাদের মাকে খুঁজে পেয়েছি। আপনার ভয় কিসে? এক পাশে আপনার প্রিয় সন্তানরা, অন্য পাশে শহীদ জিয়ার আদর্শ সৈনিকরা সব সময় আপনার পাশে ছায়ার মতো পাহারা দেয়। আর আপনি তো সকল ভয়কে দূরে সরিয়ে সংগামী জননী হিসাবে আমাদের মাথার উপর আছেন স্বাধীনতার পর থেকেই।

মাগো, আজ আমরা সময়ের কাছে  সবচেয়ে বড় অসহায়। শুধু এইটুকুই আমাদের ব্যর্থতা। রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে কিন্তু আমাদের জাগ্রত বিবেক কোনদিন কোন অন্যায়কে সাপোর্ট করেনি, করবেও না। আমরা যে আপনার শিক্ষায় আপনারই আদর্শ লালন করছি। আমরা সবাই আপনার সাথে সেচ্ছায় নিরবাসনে যেতে চাই। আপনি কষ্টে আছেন যেনে আমরাও ভালো নেই মা।

আমাদের আরো একবার আদেশ করুন মা। আদেশ করুন প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আপনাকে কথা দিলাম ঐ অন্ধকার ঘরের তালা ভাঙ্গবো আমরা। এক নতুন দিনে, এক নতুন সূর্যের কোমল আলোয় আপনার হাত ধরে হেঁটে যাবো সোনার বাংলায়, যেখানে স্বপ্ন দিগন্তে হারায়।

আপনার দীর্ঘ সুস্থতা কামনা করি।

নিউইয়র্ক থেকে।

Bootstrap Image Preview