Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা যাবে না

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৫:৫৫ PM আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৫:৫৮ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করতে সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে। এমন বিধান রেখেই সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

এর আগে, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু কোনো সরকারই এ আইন প্রণয়ন করেনি। সরকারগুলো বিধি, নীতিমালা ও প্রয়োজনমতো নির্দেশনাপত্র জারি করে সরকারি কর্মচারীদের পরিচালনা করছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গত মহাজোট সরকারের সময় আইনটি করার জন্য কয়েক দফা খসড়া প্রণয়ন করা হলেও খসড়ার বিভিন্ন বিধান নিয়ে বিতর্ক ওঠায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

আওয়ামী লীগ সরকার ফের ক্ষমতায় আসলে ২০১৫ বছরের ১৩ জুলাই ‘সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৫’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন পায়নি।

শফিউল আলম আরও বলেন, ‘ছয়টি বিধিমালা দ্বারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, শৃঙ্খলাবিধিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ-সংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন নেই। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও পূর্ণাঙ্গ আইনের প্রয়োজনীয়তার সাপেক্ষে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।’

প্রস্তাবিত আইনের ৪১ ধারা উল্লেখ করে শফিউল আলম জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সরকারের অনুমোদন ছাড়া তাকে গ্রেফতার করা যাবে না।

সচিব আরো জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনেও কারো বিরুদ্ধে মামলা হলে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সরকারের অনুমোদন লাগবে।

তিনি আরও জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগের ভিত্তি। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তাহলে তার চাকরি থাকবে না।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে যখন আইনটি খসড়া শুরু হয় তখন নাম ছিল ‘সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট’। এরপর সেটি ‘সিভিল সার্ভিস আইন’-এ রূপান্তরিত হয়। এরপর নাম দেওয়া হয় ‘সরকারি কর্মচারী আইন’। কর্মচারী শব্দটিতেও আপত্তি ক্যাডার কর্মকর্তাদের। শেষ পর্যন্ত আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সরকারি চাকুরি আইন’।

Bootstrap Image Preview