Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

আজ থেকে চালু হচ্ছে মোবাইলের অভিন্ন কলরেট

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৫ AM আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৫ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মোবাইল ফোনের নতুন কলরেট নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরগুলো ৪৫ পয়সার নিচে কোনও কলরেট নির্ধারণ করতে পারবে না। এই কলরেট সর্বোচ্চ ২ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে। এখন আর অফ নেট, অননেট থাকছে না। এরমধ্যে দেশের সব  মোবাইল ফোন অপারেটরকে এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী  আজ মঙ্গলবার থেকে মোবাইল ফোনের সব অপারেটরে অভিন্ন ও নতুন কলরেট কার্যকর হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৪ আগস্ট প্রথম প্রহর (রাত ১২টা) থেকে নতুন কলরেট কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব অপারেটরকে এই নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য বলা হলো। নতুন নিয়ম অনুসারে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (অফনেট) বা নিজস্ব অপারেটর (অননেট) প্রত্যাহারপূর্বক যে কোনো অপারেটরে কথা বলার খরচ প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে; সর্বোচ্চ কলরেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মিনিট ২ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে ১ আগস্ট গণভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে অভিন্ন কলরেট মিনিটপ্রতি সর্বনিম্ন ৫০ পয়সা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, এই রেট ৪৫ পয়সা উল্লেখ করা আছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ রেট প্রতি মিনিটের জন্য এক টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণের আলোচনা হলেও সেটি আগের মতোই দুই টাকা রয়ে গেছে।বিটিআরসির এর আগের বেঁধে দেওয়া নিয়মে একই অপারেটরে কথা বলা বা অননেটের সর্বনিম্ন দর ২৫ পয়সা এবং অফনেট বা অন্য অপারেটরে কথা বলার জন্য সর্বনিম্ন ৬০ পয়সা ধার্য ছিল। এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিন্ন কলরেট নির্ধারণের ফলে গ্রাহক স্বস্তি পাবে।

বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, এখন থেকে আর মোবাইল ফোনে কথা বলার  ক্ষেত্রে অফ নেট ও অন নেট সুবিধা থাকছে না। কলরেটের নতুন সীমা সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা। আর সর্বোচ্চ সীমা ২টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৪৫ পয়সা হলো নতুন কলরেটের ফ্লোর প্রাইস (ইউনিফায়েড ফ্লোর প্রাইস)। এই  রেটের কমে কোনও মোবাইল নম্বরে কল করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের পছন্দমতো রেট সাজিয়ে নতুন কলরেট গ্রাহকদের অফার করতে পারবে। কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২ টাকা, যা আগেও ছিল। কোনও অপারেটর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মিনিটের কলের জন্য ২ টাকার বেশি চার্জ নিতে পারবে না।

এতদিন ছিল বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেওয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট ২ টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ ছিল একেকরকম। এখন আর ভিন্ন হবে না।

অপারেটরদের দাবি, নতুন কলরেটে গ্রাহকের ফোন করার খরচ কমবে। কারণ এত দিন অননেট কলে সর্বনিম্ন মূল্য কাগজে-কলমে ২৫ পয়সা হলেও প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কলে গড়ে গ্রাহকের খরচ হতো ৪০ পয়সা। আর অফনেট অর্থাৎ অন্য অপারেটরে কল করার খরচ পড়ত ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৫ পয়সা পর্যন্ত। একক কলরেট চালু হলে অননেট কলের খরচ ৫ পয়সা বাড়বে, কিন্তু অফনেট কলের খরচ কমবে ৪৫ থেকে ৫০ পয়সা। এতে গ্রাহকসংখ্যায় পিছিয়ে থাকা অপারেটরগুলোর গ্রাহকেরা অনেক বেশি লাভবান হবেন।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রামীণফোন থেকে ৯০ শতাংশ কল হয় অননেটে, ১০ শতাংশ কল অফনেটে হয়। অন্যদিকে সরকারের মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটকের ১০ শতাংশ কল অননেটে ও ৯০ শতাংশ কল অফনেটে হচ্ছে। রবি ও বাংলালিংকের অননেট-অফনেট কলের পরিমাণ ৭০ ও ৩০ শতাংশ।

Bootstrap Image Preview