Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিএনপির সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইসি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:০২ PM
আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:০৫ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমনিং ডেস্ক :

বিএনপির কিছু প্রস্তাবে একমত পোষণ করলেও গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে দুই সিটিতেই পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে ইসি অটল রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ সেনা মোতায়েন বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন আগেই বলেছে সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই।’

হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির প্রতিনিধি দল কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। আইন ও বিধি অনুযায়ী যেগুলো পূরণ করা সম্ভব কমিশন তা বিবেচনার কথা বলেছে।’ মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর তিনি এই কথা বলেন।

ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি তুলেছিল। কমিশন বলেছে, আইন ও বিধিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে কোনও সন্দেহ থাকলে আপনারা এসে এটি দেখুন। কোনও সমস্যা থাকলে বলুন।’ ইসি সচিব এসময় রংপুর সিটি নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।

গাজীপুরে নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকে বদলি ও প্রত্যাহারের কথা বলেছে। তারা নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোট গ্রহণের কথা বলেছে।

তিনি জানান, কমিশনের আইন ও বিধি মেনেই বিভাগীয় কমিশনারকে কোঅর্ডিনেটর করে নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের লিখিত দাবিতে গাজীপুরের এসপি হারুন উর রশিদের কথাও আছে। তবে তার বিষয়ে কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য আজ সকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৭ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

সেইসঙ্গে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে প্রত্যাহারের দাবি এবং দুই সিটিতে কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (চিহ্নিত দলীয় আনুগত্যশীল ও বিতর্কিত) কর্মকর্তাদের বদলি করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তারা।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এজন্য আমরা কমিশনকে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এই দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করতে পারলে তাদের প্রতি আস্থা সুদৃঢ় হবে। এতে জাতীয় নির্বাচনের বাধা দূর হবে।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তার ইঙ্গিত বহন করে।’

এছাড়া বিএনপি'র প্রতিনিধি দল তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের অংশগ্রহণের কথা বলেন। বিএনপির প্রতিনিধি দল কমিশনে ২২ দফা লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরে।

বিএনপি’র প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন ও এবিএম আব্দুস সাত্তার।

Bootstrap Image Preview