Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশে বই পড়ার মাথাপিছু সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০:৫৫ AM আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১১:৩৬ AM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, বিশ্ববিস্তৃত জ্ঞান ভাণ্ডারে প্রবেশের চাবিকাঠিও বটে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানকে শুধু সমবৃদ্ধ করাই নয়, নৈতিক আদর্শ গঠন, সৃজনশীলতার জাগরণ আর ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যমে  দেশ ও জাতিকে উন্নতির জন্যে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা বলাবাহুল্য। অথচ সাড়ে ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এ দেশে বই পড়ার জন্য মাথাপিছু সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা। অবাক হলেও এটাই সত্য কথা। যদি জনসংখ্যা ১৭ কোটি হয়, তাহলে মাথাপিছু বরাদ্দ আরো ১০ পয়সা কমে যাবে।

দেশের ৭১টি গণগ্রন্থাগারের জন্য সরকারের বার্ষিক যে বরাদ্দ মাত্র ১ কোটি টাকা, সে হিসাবেই প্রতিটি গ্রন্থাগারের জন্যে গড় বাজেট পড়ে ১৪০৮৪৫.০৭ টাকা মাত্র। যদিও দেশের ৪৬তম বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২শত ৬৬ কোটি টাকা। শুধু শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের জন্যে সবোর্চ্চ বাজেট ছিল ৬৫, ৪৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু এত বড় বাজেট থেকে মাত্র মাত্র ৬০ পয়সার বরাদ্ধ দিয়ে বই পড়ায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কাজটি  কঠিন নয় কি?

তবুও থেমে নেই বই পড়া। বইপ্রেমিরা কারো করুণায় বসে থাকেন না। লেখক যেমন মনের খোরাক যোগাতে বই লেখে যাচ্ছেন সেচ্চায়, তেমনি পাঠক নিজেকে জানার জন্যে হোক আর মনের আনন্দের জন্যে হোক, বই না পড়লে পেটের ভাত হজম করতে পারেন না। পাঠকই এক সময় প্রয়োজনের তগিদে গড়ে তোলেন গ্রন্থাগার। নিজেই শুধু বই পড়েন না, অন্যের পড়ার জন্যে গড়েও তুলেন পাঠাগার। ফলে পাঠক যেমন বাড়ে, তেমনি পড়ার আত্মাও বাড়ে অন্য পাঠকের।

পাঠক, লেখক ও সেচ্চাসেবী কয়েকটি সংগঠন পাঠাগার গড়া ও বই পড়াকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকারের পাশাপাশি। নানা অভিযোগের দায় নিয়েও তারা সেচ্চায় করে যাচ্ছে পাঠাগার গড়ার কাজ। রাষ্ট্রের অট্ট্রালিকা বাড়ে আকাশচুম্বি, মাথার উপর রাস্তা বাড়ে দৃষ্টিসীমার বাইরে, জিডিপি বাড়ে, বাজেট বাড়ে যোজন যোজন গুণে, কিন্তু বাড়ে না বই পড়ার জন্যে মাথাপিছু রাষ্ট্রীয় খরচ। বই পড়ার জন্যে ৪৬ বছরে মাথাপিছু বাজেট মাত্র ৬০ পয়সা। দু:খটা কে করবে কার কাছে? কিভাবে উন্নত হবে সরকারি গ্রন্থাগারগুলোর মান? কে পাশে দাঁড়াবে বেসরকারি প্রায় ২ হাজার পাঠাগারের পাশে। অথচ এই বই ই মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে দূরে রাখার একমাত্র পথ। বই ই আমাদের দেখিয়েছে স্বাধীনতা সূর্যের রং। বই ই দিয়েছে আমাদের ভাষার বর্ণমালা। আমরা সেই বর্ণে ডাকছি মা।

যে সকল বেসরকারি উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান গ্রন্থাগার গড়া ও বই পড়া কেন্দ্রিক, তাদের সংখ্যাটাও হাতের আঙ্গুলের মতো। এই কাজে আগ্রহের চেয়ে আর্থিক দৈন্যতাই বেশি দূর সফল হতে দেয় না সেচ্চাসেবী সংগঠনগুলোকে। তবুও তারা যেটুকু করছে, তা না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো। উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত সবার।

Bootstrap Image Preview