Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

জনতা ব্যাংক সেরা ব্যাংক ছিল বারকাতই এটি শেষ করে দিয়েছে: অর্থমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০২:৫১ PM
আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৩:২০ PM

bdmorning Image Preview


অর্থনৈতিক প্রতিবেদক-

জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত ব্যাংকটিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, জনতা ব্যাংক একসময় সেরা ব্যাংক ছিল কিন্তু আবুল বারকাতই ব্যাংকটি শেষ করে দিয়েছেন।

ঢাকার সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ে সোমবার একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, ইউনুসের এননটেক্স গ্রুপ একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩টি নামে দেখিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয় জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হু হু করে পাওনা বাড়তে থাকায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ এখন ২২ প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণকে একক গ্রুপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান নামে–বেনামে অনেকের থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগী ইউনুসের (বাদল) এননটেক্স। এসব ঋণ কেলেঙ্কারির শুরু ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের সময়ে।

জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের সময়ে নিয়ম ভেঙ্গে এই কাজ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে এসব বিষয় ধরা পড়ে।

ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে গ্যালাক্সি গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ ছিল ৬৭৬ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের প্রতিবেদনেও বলা হয় এই গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। তবে ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এননটেক্স গ্রুপের ঋণ ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

২০১৬ সালে ঋণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ওই বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জ্যাকার্ড গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ ৩৭৭ কোটি টাকা, এননটেক্স গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা ও এম এইচ গোল্ডেন জুট মিলের তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ ৪১৫ কোটি টাকা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবুল বারকাত (জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান) এত টাকা দিয়েছেন, আমি তো জানিই না। আমি জানি যে তাঁর সময়ে বড় বড় বেনামি ঋণ দেওয়া হয়েছে। ৩০০ কোটি, ৪০০ কোটি টাকা এবং খারাপ উদাহরণও তৈরি হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় পাশে ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। তিনি অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ‘কোন ব্যাংক?’ অর্থমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘জনতা। বারকাত এটাকে শেষ করে দিয়েছে। অথচ এটা ছিল দেশের একটা সেরা ব্যাংক।’

তখন সৈয়দ আবুল হোসেন অর্থমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনিই তো তাঁকে (আবুল বারকাত) নিয়োগ দিয়েছিলেন।’ অর্থমন্ত্রী তখন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিই দিয়েছিলাম।’

এ বিষয়ে এখন কী করা হবে এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আসলে অনেক জটিল।’

Bootstrap Image Preview