Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সেই নিয়াজুলকে নিয়ে শামীম-আইভী বিতর্কে নতুন মোড় (ভিডিও)

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৫২ PM
আপডেট: ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:০৯ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নারায়ণগঞ্জে হকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মিডিয়ায় উঠে আসা অস্ত্র তাক করা নিয়াজুল ইসলাম ইস্যুতে নতুন ঘটনা বের হয়ে এসেছে। অস্ত্র তাক করার আগে নিয়াজুলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ পাওয়ায় নয়া মোড় নিয়েছে নিয়াজুল ইস্যু।

যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যাচ্ছে  নিয়াজুল ইসলামের উপর কয়েকদফা হামলার এক পর্যায়ে তিনি আত্মরেক্ষার্থে নিজের কোমড়ের পিস্তল বের করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভিডিওটি পরীক্ষা করে দেখছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আইভী সমর্থিত বিএনপি ক্যাডারদের হাত থেকে নিয়াজুল ইসলামকে রক্ষা করতে ছুটে এসেছিলেন মেয়র সমর্থক আবু সুফিয়ান। নিজের জীবন রক্ষায় নিয়াজুল সেদিন তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন এবং কোনো গুলিবর্ষণ করেননি বলেও স্পষ্ট দেখা গেছে সেই ভিডিওতে।

ভিডিওতে এও দেখা গেছে, প্রথমে রাস্তার পাশের ফুটপাথে, দ্বিতীয় দফায় রাস্তার মধ্যে ও তৃতীয় দফায় নিয়াজুল চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ওই হামলাটি করা হয়। এদিকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেভাবে দুই দফায় রাস্তায় ফেলে নিয়াজুলকে পেটানো হয়েছে সেটা ছিল নিছক হত্যার উদ্দেশে। শেষতক অস্ত্র তাক করে নিজের জীবন রক্ষা করেন নিয়াজুল।

নিয়াজুলের পরিবারের দাবি, তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পরই তার ওপর হামলা করা হয়। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, বিকাল ৪টা ৩৯ মিনিটে মেয়রের নেতৃত্বে লোকজন শহরের চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কের জীবন বীমা ভবনের মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের সামনে এলে একজন হকারের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডা ঘটে। ওই হকারকে মারধরের পর পাশে থাকা মাসুদা প্লাজার নিচে থাকা নিয়াজুল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে মারধর না করার অনুরোধ করেন।

তখন আইভীর বহরের সামনে থাকা লোকজন নিয়াজুলকে ধাক্কা দিতে থাকেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান এসে নিয়াজুলকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন এবং চলে যেতে বলেন। কয়েক সেকেন্ড পর জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদিরও সেখানে এসে নিয়াজুলকে সরিয়ে দেন।

কিন্তু তখন ওই বহরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের অতি-উৎসাহী লোকজন নিয়াজুলকে ধাক্কা মারতে মারতে সামনের দিকে ঠেলে দিতে থাকেন। সায়ামা প্লাজার সামনে ধাক্কাতে ধাক্কাতে আনার পর সেখানে ফুটপাথে পড়ে যান নিয়াজুল। তখন ৩০ থেকে ৪০ জন নিয়াজুলকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। বুকের ওপর ও গলায় চাপ দিয়ে ধরে একের পর এক মারধর করেন নিয়াজুলকে।

এক পর্যায়ে তিনি কোনোমতে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চাষাঢ়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও লোকজন গিয়ে দ্বিতীয় দফায় ফুটপাথে ফেলে মারধর করতে থাকেন। তখন নিয়াজুল ফুটপাথ থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। আশপাশের লোকজন কোনোমতে নিয়াজুলকে উদ্ধার করলে তিনি দ্রুত চাষাঢ়ার দিকে যেতে থাকলে তৃতীয় দফায় পেছন থেকে লাথি মারতে দেখা যায় কয়েকজনকে। ওই অবস্থায় পেছন থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন এগোলে নিয়াজুল কোমর থেকে লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেন। এ অবস্থায় ৪ থেকে ৫ জন যুবক গিয়ে আবারও মারধর করে নিয়াজুলের পিস্তল ছিনিয়ে নেন।

এদিকে গণমাধ্যমে শুধু নিয়াজুলের পিস্তল হাতে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। নিয়াজুল একসময় শামীম ওসমানের কর্মী ছিলেন এর রেশ ধরেই বিষয়টি শামীম ওসমানের ওপর বর্তানোর চেষ্টা করা হয়। মেয়র আইভীও সে সুযোগটি নিয়েছেন এবং শামীম ওসমানের নির্দেশে নিয়াজুল তাকে হত্যা করতে পিস্তল বের করেছিলেন বলে অভিযোগ করতে শুরু করেন। শুরুতে নিয়াজুলকে পেটানোর চিত্রটি উহ্য থাকে সর্বত্র।

এদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সেদিন কারা কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে ঘটনার সূত্রপাত করেছিলেন তারও তদন্ত হচ্ছে। এই ঘটনার পর সার্বিক সবকিছুর খবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিয়াজুল নামের যে ব্যক্তি অস্ত্র বের করেছিলেন তার সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তবে তিনি কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও গণমাধ্যমে যাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের চিত্র বের হয়েছে তাদের ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ‘হকার মুক্ত ফুটপাথ চাই’ স্লোগান ধরে লোকজন নিয়ে চাষাড়ার দিকে হেঁটে আসছিলেন সেলিনা হায়াত আইভী। এ সময় শামীম প্লাজা থেকে আইভীর লোকজনের ওপর বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পিস্তল উচিয়ে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে সড়কে পড়ে যান সেলিনা হায়াত আইভী। তার পায়ে ইটের আঘাত লাগে। সেখান থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইভি বলেন, আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। আমি শান্তিপূর্ণভাবে হেঁটে আসছিলাম। চাষাড়ার রাইফেলস ক্লাবে বসে শামীম ওসমান আমার ওপর হামলা চালানো নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ পেয়ে তার লোকজন ইট পাটকেল ছোড়ে। এটা নিরস্ত্র লোকের সশস্ত্র হামলা। ওই হামলায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হন।

পরবর্তীতে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে মেয়র আইভীর লোকজন হকারদের ওপর গুলি বর্ষণ করেছে। তিনি বলে, কোনো একটি পক্ষ আমাদের দুর্নাম করতে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি করছে।

https://www.facebook.com/news24bd.tv/videos/1075983872541447/
Bootstrap Image Preview