Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

তোদের ছাত্র ৫০০ জন, ওই যে পুলিশ খুলি উড়ায় দেবে

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:৩৯ PM
আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:৩৯ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত রাজধানীর এইচ এম শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ এম মকবুল হোসেন।

রোববার সকাল থেকে চলতে থাকা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কর্মসুচিতে উপস্থিত হন তবে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার আগেই তাদের এই হুমকি দিয়ে বসেন।

এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন এমপি মকবুলকে বলেন, পাঁচ বছর মিস হলেও তিনি শমরিতায় পড়বেন এবং দাবি আদায় করবেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠে। জবাবে মকবুল তাকে বলেন, ‘এই চোপ, এই চোপ। তোদের ছাত্র হলো ৫০০ জন।’ ওই শিক্ষার্থী আবার তাকে বলেন, যারা আসে নাই তারা বাসায় রইসে, সবাই এখানে আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এসময় এমপি মকবুল তার রাগ সংবরণ না করতে পেরে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করসে সরকার। যারাই ইতরামি করবে খুলি উড়াইয়া দিবে। ওই যে পুলিশ আছে, খুলি উড়ায় দেবে।’

যে নয় দফা দাবিতে এইচ এম শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল সেগুলো হলো- ইনটার্ন চিকিৎসক লিমন মন্ডলের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, ইনটার্ন চিকিৎসক এমবিবিএস সর্বনিম্ন ভাতা ১৫হাজার ও বিডিএস ১০হাজার টাকায় করা, বছর বছর শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধি না করা, ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে নিয়ম বহির্ভূত টাকা আদায় না করা, একদিন অনুপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা বিশটাকা করা, যেকোনো পেশাগত পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ধার্যকৃত ফি এর অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করা, শিক্ষার্থীদের বেতন দেয়ার সবশের্ষ সময় মাসের ১০ তারিখ করা, সব শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা ও ল্যাব পরীক্ষা ফ্রি এবং অভিভাবকদের ৬০ শতাংশ ছাড় দেয়া এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ না করা।

শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানা গেছে, সকাল থেকে কোন বিশৃংখলা ছাড়াই তারা তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসুচি শুরু করেন। তাদের এই আন্দোলনের বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সেখানে আসেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সাংসদ এম মকবুল হোসেন। শিক্ষার্থীরা মনে করেন তিনি হয়তো তাদের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যপারে কোন ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তা না করে তিনি এসেই তাদের ওপর চড়াও হন। এসময় তিনি কিছু বাজে শব্দ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এমবিবিএস করতে আসছো না? পাবনা, জানো না? বন্ধ কইরা দিসে। কী (....) হইসে অথরিটির! কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ কইরা দিসে? কি হইসে? প্রিন্সিপালের কি হইসে! (....) হইসে? তোমার এক বছর মিস হবে। তোমাকে এক্সপেল করা হবে!’

মকবুল ও শিক্ষার্থীদের এই বাহাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা শুধু মাত্র তাদের দাবি গুলো দেখতে তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু এমপি মকবুল তাদের স্মারক লিপি ছিড়ে ফেলে বরং তাদের বেয়াদব বলে অবিহিত করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে নিজের কথা চিন্তা করার কথা বলেও ধমক দেন।

সাবেক সাংসদের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরো উত্তাল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা আরও বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা এইচ এম শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে দেন। পরে অবশ্য বেলা পৌনে দুইটার দিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেন।

এদিকে এমপি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান বাদানুবাদের মুহূর্তের বেশ কিছু অংশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

Bootstrap Image Preview