Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৪:৩০ PM
আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:১২ PM

bdmorning Image Preview


নিজস্ব প্রতিবেদক-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সভ্যতার চাপে ধীরে ধীরে বিশ্ব থেকে মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। কোনভাবেই এটি যেন না হয় সে জন্যেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ বিকালে রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা সম্মেলন-২০১৮ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুগে যুগে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ হয়েছে। ছাত্রসমাজ সেটির প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়েছে। পাকিস্তানীরা বাংলা অক্ষর বাংলাতে লেখার ব্যাপারে নিষেজ্ঞা আরোপ করে আরবি অক্ষরে বাংলা লেখার নির্দেশ জারি করেছিল ছাত্ররা সেটি প্রত্যাখান করেন। রোমান অক্ষরে বাংলা লেখার প্রচলন করাতে চায় সেটিও প্রত্যাখান করা হয়। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমরা এটি জাতিয়সংঘে প্রেরণ করেছিলাম কানাডা প্রবাসী রফিক ও সালামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। আর ইউনেস্কো সেটি ঘোষণা দেয়।

তিনি বলেন, সভ্যতার চাপে ধীরে ধীরে বিশ্ব থেকে মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। কোনভাবেই এটি যেন না হারিয়ে যায় সে জন্যেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করি বাংলাদেশে কিন্তু আমার পরে যারা ক্ষমতায় আসলো তারা সেটার কাজ বন্ধ করে রাখলো। আমরা ক্ষমতায় এসে আবার কাজ শুরু করেছি। এখানে বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষাগুলোর সংরক্ষণ ও গবেষণা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে মাতৃভাষা ছাড়া মানুষ নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে পারে? আর জাতির পিতার বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন জাতিসংঘে ভাষণ দেন তখন তিনি বাংলাতেই ভাষণ দিয়েছিলেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমিও ক্ষমতায় এসে মাতৃভাষায় জাতিসংঘে ভাষণ দিয়ে আসছি। কারণ আমি গর্ববোধ করি বাংলা ভাষায় ভাষণ দিতে পেরে। তবে এ কথা ঠিক যুগের পরিবর্তন হচ্ছে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার চাপে ধীরে ধীরে মাতৃভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সাহিত্যচর্চা মানুষের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায়। মানুষের অমিত সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যায় এ অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে শিখায়। যে সমাজের সাহিত্য বেশি ঋদ্ধ সে সমাজ তত বেশি সমৃদ্ধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান আরিফের সঞ্চালনায় বিকালে ৩ টা ১ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ৩ টা ৩ মিনিটে স্বাগত ভাষণ দেন সম্মেলনের সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ৩ টা ৮ মিনিটে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাসান আজিজুল হক,  শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সত্যম রায় চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, সুনীলময় ঘোষ, রাবেয়া খাতুন, কবিতা আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।

আজ বিকাল ৫ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সম্মেলনে অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১. সূর্যদীঘল বাড়ি ২. পদ্মানদীর মাঝি নামের ২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
Bootstrap Image Preview