Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

খালেদা জিয়াকে রাখতে কাশিমপুর কারাগারকে প্রস্তুত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৪৩ PM
আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৫২ PM

bdmorning Image Preview


আসাদুল্লা লায়ন।।

নতুন বছর যত ঘনিয়ে আসছে বিএনপির কপালে ততোই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। বছরের শুরুতেই কি চমক অপেক্ষা করছে বিএনপির ভাগ্যে। যদিও এর মধ্যে সরকারের নানা মহল থেকে শুনতে হচ্ছে বছরের শুরুতেই খালেদা জিয়াকে রাখা হবে কাশিমপুর কারাগারে। এর মধ্যে খালেদা জিয়াকে রাখতে কাশিমপুর কারাগারকে প্রস্তুত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়!

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলার শুনানি শেষ হচ্ছে আগামী বছরের শুরুতেই। শুনানি শেষের পরেই মামলা দুটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করবেন বিচারক। আইনজীবীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত যাতে না হয় সেজন্য আসামি পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সময় আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে অরফানেজ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাফাই সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হয়নি। সাফাই সাক্ষীর তালিকা দাখিল না করায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় খালেদা জিয়ার যাবজ্জীবন সাজা প্রদানের আর্জি জানিয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এ আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে মামলার গতি প্রকৃতি দেখে আইনজীবীরা মনে করছেন জানুয়ারি মাসের মধ্যেই হয়তো মামলার রায় হবে। মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়া না হওয়া আদালতের বিষয় হলেও ইতিমধ্যে  ‘সবধরনের’ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। জিয়া দণ্ডিত হলে তাকে কোথায় রাখা হবে নিয়ে আলোচনাও হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের।

মামলার রায় নিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলে ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন৷ কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে'৷

তবে সরকার মনে করছে নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়া দণ্ডিত হলে কিছু সময়ের জন্য হলেও তাকে জেলে যেতে হবে। ওই জেলের সময়কাল যতোটুকুই হোক এক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম পছন্দ। হাই সিকিউরিটির এই কারাগারে আলাদা ভিআইপি কক্ষ আছে। এই কক্ষটি ব্যবহার করা হয় না।

এদিকে সরকারের একজন নীতি নির্ধারক বলছেন, খালেদা জিয়ার দণ্ড হবে কিনা সেটা আদালতের বিষয়। কিন্তু তাকে কোথায় রাখা হবে সেটি সরকারের বিষয়। সরকার চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো স্থানকে সাব-জেল ঘোষণা করতে পারে। ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অনির্বাচিত সরকার দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন এলাকায় রেখেছিলেন। সেটিকেই জেল কর্তৃপক্ষ সাবজেল ঘোষণা করেছিলো।

সরকারের ঐ কর্মকর্তা বলেন, খালেদা দণ্ডিত হলে কোনো বাসাকে সাবজেল করা হবে কিনা সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তাঁর মতে, সরকারের দিক থেকে বেগম জিয়ার নিরাপত্তা হলো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

একাধিক সরকারি সূত্র বলছে, বেগম জিয়াকে যদি শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হয় তাহলে এমন জায়গায় রাখা হবে, যেখানে কর্মী সমর্থকদের সমাবেশ বা কর্মসূচির সুযোগ থাকবে না।

তবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মনে করছেন, বেগম জিয়াকে জেলে রাখা সরকারের দিবা স্বপ্ন। আদালতের রায় যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে তিনি স্ব-সম্মানে খালাস পাবেন। আর নিম্ন আদালত যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মামলায় বেগম জিয়াকে দণ্ডিত করেন, তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে জামিন নেবো। জেলের চিন্তা নয়, বেগম জিয়ার দণ্ডকে ঘিরে আন্দোলনের চিন্তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। আপদকালীন সময়ে বেগম জিয়াকে কোন হাসপাতালে রাখতে চায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের এজন্য তাদের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোন মামলায় যদি কারো দুই বছরের বেশি শাস্তি হয় তাহলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন৷ আমাদের আইন তাই বলে৷

Bootstrap Image Preview