Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

আগামীকাল বাংলাদেশে ফোরজি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৫:৩৫ PM
আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৫:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বাংলাদেশ চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা ফোরজি যুগে প্রবেশ করছে আগামীকাল সোমবার।ফোরজি সূচনার সাথে সাথে ফোনগুলোতে পাওয়া যাবে ফুল এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিং, নিখুঁত ভিডিওকলিং, সুপার ফাস্ট ডাউনলোডিং, মিউজিক স্ট্রিমিং এবং বিনামূল্যে বাফারমুক্ত লাইভ টিভি।আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ফোরজি এবং ফোরজি উপযোগী হ্যান্ডসেট সত্যিকার অর্থেই স্মার্টফোনের শক্তিকে উন্মুক্ত করবে।

আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেটরদের হাতে ফোরজির লাইসেন্স হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে লাইসেন্সপ্রাপ্তির ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফোরজি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে গ্রামীণফোন। রবিবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দুটি ফোরজি হ্যান্ডসেট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফোলিও।

মাইকেল ফোলিও বলেন, আমরা ফোরজি লাইসেন্স প্রাপ্তির পরপরই এই সেবাটি বাংলাদেশের মানুষদের জন্য উন্মুক্ত করবো। শুরুতে এই সেবা কেবলামাত্র ঢাকায় পাওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরেও ফোরজি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের সুলভ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে সেরা ফোরজি সেবা দেয়া। ফোরজি অনেক ডাটা ব্যবহারকারীর জন্য নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং আমাদের নেটওয়ার্কে সেরা অভিজ্ঞতা পেতে গ্রাহকদের হাতে সঠিক হ্যান্ডসেট থাকতে হবে।

এসময় গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি, ডেপুটি সিই্ও ইয়াসির আজমান, মাইক্রোম্যাক্স ইনফরমেটিক্স লিঃ এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিকাস জৈন এবং আমরা হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও এবং সিএম্ও ইয়াসির আজমান গ্রামীণফোনের প্রথম কো-ব্র্যান্ডেড ফোরজি হ্যান্ডসেট নিয়ে তার গর্বের কথা বলেন এবং গ্রাহকদের অন্যধরণের অভিজ্ঞতা দিতে হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারকদের সাথে কাজ করে যাবার কথা পূণব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, গত ২ বছরে ৭টি থ্রিজি হ্যান্ডসেট চালু করেছি যা থ্রিজি ডাটা সার্ভিসকে সহজলভ্য করেছে। আজ আমরা কো-ব্র্যান্ডেড ফোরজি হ্যান্ডসেট নিয়ে একই উদ্যোগ নিয়েছি।

এর আগে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, গ্রামীণফোন ১৮০০ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। এতে গ্রামীণফোনের তরঙ্গের পরিমাণ দাড়ালো ৩৭ মেগাহার্টজ। আর বাংলালিংক ১৮০০ ব্যান্ডের ৫.৬ মেগাহার্টজ ও ২১০০ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। এতে বাংলালিংকের তরঙ্গের পরিমাণ দাড়ালো ৩০.৬ মেগাহার্টজ। তরঙ্গের প্রতিযোগীতায় গ্রামীণফোন রবির চেয়ে ০.৬ মেগাহার্টজ বেশি রইলো।

মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, কিন্তু আমাদের প্রশ্ন এতোদিন ধরে রবি ৩৬.৪ মেগাহার্টজ দিয়ে যে থ্রিজি সেবা গ্রাহকদের দিয়েছে সেটার মান কি থ্রিজি পর্যায়ে ছিল? এই পরিমাণ তরঙ্গ ইন্টারনেটের গতি ছিল সর্বোচ্চ ৫ এমবিপিএস। ফোরজির জন্য গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ এমবিপিএস। যেখানে এতদিন এই তরঙ্গ দিয়ে গড়ে ৬ এমবিপিএস গতিই আনা গেল না সেখানে একই পরিমাণ তরঙ্গ দিয়ে বর্তমান বিটিএস ব্যবহার করে কিভাবে ইন্টারনেটের মান বাড়াবে ফোরজি?

মহিউদ্দীন আহমেদ এর বিবৃতিতে বলা হয়, তরঙ্গ বিক্রি করে সরকার হয়তোবা ৫৪২৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা কিনা জনগণের কাছ থেকেই পরোক্ষভাবে আদায় করা হয়েছে। তারপরও নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও অপারেটররা গ্রাহকদের মিথ্যা তথ্য ও আশ্বাস দিচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক। কারণ ২০ এমবিপিএস গতি পেয়ে প্রয়োজন ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো প্রায় একবছর আগে থেকে ফোরজি সিম বিক্রি শুরু করেছে। এছাড়া, এসময়ের মধ্যে যারা সিম রিপ্লেস (নষ্ট, চুরি বা হারিয়ে গেলে নতুন সিম কিনে প্রতিস্থাপন) করেছেন, তারাও অপারেটরের কাছ থেকে পেয়েছেন ফোরজি সিম।

কিন্তু আগে যারা সিম কিনেছেন, তারা যেভাবে জানবেন আপনার মোবাইল সিমটি ফোরজি নাকি আগের অবস্থায় রয়ে গেছে-

আপনার সিমটি ফোরজি কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো মেসেজ অপশন চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরে এসএমএস পাঠিয়ে জেনে নেওয়া যাচ্ছে, সিমটি ফোরজি কিনা। কোনও কোনও এসএমএস-এ  ফোরজি সিম সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি ফোন সেটটিও ফোরজি সমর্থন করে কিনা, তা জানা যাবে।

এরই মধ্যে অপারেটরগুলো মোবাইলে ফোরজি সেবা পেতে আগ্রহীদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে সিম বদলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, বাজারে এখন ১০ হাজার টাকার ওপরে যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ফোরজি সমর্থন করে।

গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোবাইলের কিপ্যাড অথবা ডায়াল অপশনে গিয়ে *১২১*৩২৩২# লিখে ডায়াল বাটন চাপলে ফিরতি মেসেজে জানা যাবে, আপনার সিমটি ফোরজি কিনা। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যারা সিম বদল করেত চান— তারা ১১০ টাকার বিনিময়ে ফোরজি সিম নিতে পারবেন। তবে ‘জিপি স্টার’ গ্রাহকরা বিনা খরচে সিম বদলে নিতে পারবেন।

বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলালিংকের সিম বদলে নিতে গ্রাহককে কোনও খরচ দিতে হবে না। বিনামূল্যে অপারেটরটি গ্রাহকদের সিম বদলে ফোরজি সিম দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রাহকরা মেসেজ অপশনে গিয়ে ফোরজি লিখে ৫০০০ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হবে, সিমটি ফোরজি কিনা।

রবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  গ্রাহক তার মোবাইলের কিপ্যাড অথবা ডায়াল অপশনে গিয়ে *১২৩*৪৪# লিখে ডায়াল বাটন চাপলে ফিরতি এসএমএস-এ জানিয়ে দেওয়া হয়, সিম ও সেটটি ফোরজি কিনা। এয়ারটেল গ্রাহকরাও একইভাবে জানতে পারবেন সিম ও সেটের তথ্য। তবে সিম বদলে ফোরজি সিম নিতে গ্রাহকের খরচ হবে ১০০ টাকা। রবি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অপারেটরটি বাজারে রবি সিম ছেড়েছে। এসময়ের মধ্যে যারা সিম কিনেছেন বা বদল করেছেন, তাদের সিম ফোরজি সমর্থিত।

টেলিটক সূত্রে জানা গেছে, অপারেটরটির গ্রাহকরা যত সিম ব্যবহার করছে এবং বাজারে অবিক্রিত রয়েছে ৯০ ভাগই ফোরজি সিম। অবশ্য ১০ ভাগ গ্রাহকের সিম বিনা খরচে ,নাকি টাকা দিয়ে বদলে নিতে হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

অপারেটর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফোন সেট ফোরজি সমর্থিত কিনা তা জানতে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের সেবাকেন্দ্রে গিয়ে জেনে নিতে পারবেন সেটের তথ্য।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো বলছে, এই সেবা শুরুর মানে হল ‘ইন্টারনেট এক্সপ্রেসওয়েতে’ উঠে যাওয়া। ধীর গতির ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে ইন্টারনেটে গ্রাহকরা ছুটবেন চওড়া রাস্তায়।

উচ্চ গতির কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারে সময় বাঁচবে, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাগুলো পাওয়া যাবে বাধাহীনভাবে। প্রচলিত অনেক সেবাই হয়ে যাবে ইন্টারনেটভিত্তিক।

তবে মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা না হলে ফোর জি চালুর কোনো সফলতাই আসবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অনেকেরই জিজ্ঞাসা, কী থাকবে ফোর জিতে

১. থ্রিজি সুবিধায় ইন্টারনেট ডাউনলোড বা আপলোডে যে সময় লাগত, ফোর জিতে সে সময় নেমে আসবে প্রায় অর্ধেকে।

২. প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার কারণে যে কোনো ব্র্যান্ডেই অপারেটররা ফোর জি সেবা দিতে পারবে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা তরঙ্গের কার্যক্ষমতা দেড় থেকে দুই গুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে শুধু ইন্টারনেটই নয়, ভয়েসকলেও অগ্রগতি হবে।

৩. ফোর জি সেবা ব্যবহারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে এটি ব্যবহারের উপযোগী হ্যান্ডসেট। দেশে ৩০% মানুষের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে, যার মধ্যে ১০% থ্র্রি-জি ব্যবহারের উপযোগী। ফোর জি হ্যান্ডসেটের চাহিদা তৈরিতে সরকারের সহায়তার প্রয়োজন পড়বে।

৪. ফোর জি গতি পেলে প্রান্তিক মানুষ নানা কাজ করতে পারবে, ফলে তাদের শহরমুখী হতে হবে না। অনলাইনভিত্তিক সেবা বেড়ে যাবে এবং ই-কর্মাসের প্রসার ঘটবে।

৫. ফোর জি চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে; বাড়বে কাজের ক্ষেত্র।

৬. ফোর জি গতিতে দেশে এফ কমার্সভিত্তিক ২০ হাজার পেইজ  বা গ্রুপের প্রসার আরও বাড়বে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান বিশ্বে ১৮০টি দেশে ফোরজি চালু আছে। তাতে গড় গতি ১৬.৬ এমবিপিএস। সবচেয়ে গতি বেশি আছে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যথাক্রমে ৪৬.৬৪ ও ৪৫.৮৫ এমবিপিএস। এছাড়া নরওয়ে হাঙ্গেরিতে ৪২ এমবিপিএস। এসকল ছাড়াও বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের বর্তমান গতি ২.১ এমবিপিএস বা আরও কম।

Bootstrap Image Preview