Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নারীরাই শুধু পারে কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতেঃ জাহানারা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১২:১৪ AM
আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮, ০৮:৫৪ AM

bdmorning Image Preview


মেজবা মিলন।। “এই বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। সভ্যতার শুরু আজ পর্যন্ত এই সভ্য সমাজ গড়ার পিছনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা্ও অনেক। আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনে বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন।

একজন নারী হয়ে জন্মে আমাদের এই পুরুষ শাসিত সমাজের বিপক্ষে গিয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনেক দূরে। চলার পথে এসেছে হাজারো বাধা-বিপদ। শুনতে হয়েছে প্রতিবেশীদের কটু কথা। কিন্তু সেই সব সহ্য করে চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে গিয়েছেন নিজের লক্ষের দিকে। সাফল্যর সেই মশাল দুহাত দিয়ে ধরেছেন শক্ত করে। যার জন্যই আজ শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্ব তাকে এক নামে চেনে। হ্যাঁ, যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের পেস বোলার জাহানারা আলম। নারী দিবসে একজন নারী হিসাবে নিজের জীবনের কিছু কথা বললেন বিডিমর্নিং - এর কাছে সাক্ষাতে ছিলেন মেজবা মিলন।।

প্রশ্ন: ছেলেরা খেলছে আপনারাও খেলছেন দেশের হয়ে খেলছেন সব মিলিয়ে সেটা কেমন লাগে?

জাহানারা: এটা অনেক গর্বের বিষয় দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা আসলে সবার কপালে থাকে না এবং সবাই পারে না। তো আমি খেলা - ধুলার মাধ্যমে পারছি এটা আমার কাছে অনেক বড় গৌরিবের বিষয়।

প্রশ্ন: আমাদের দেশের মেয়েরা এখন আপনাদের দেখে খেলা - ধুলার প্রতি অনুপ্রানিত হচ্ছে যারা আপনাদের মত খেলোয়াড় হতে চান চাদের জন্য কিছু বলুন। জাহানারা: আমি শুধু বলবো না যে ক্রিকেটেই আসো।কারন সবাই তো আর ক্রিকেট,ফুটবল পছন্দ করে না তো জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়, শু চাই খেলা - ধুলার সাথেই থাকুক এটাই আমার কামনা। কারন খেলা - ধুলার সাথে থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব। আ্যথলেটিকও কিন্তু গোল্ড মেডেল পাওয়া সম্ভব। দেশকে উপস্থাপনা করা যাই। আমরা যারা ক্রিকেটে আছি। যারা স্কুল - কলেজে আছে প্রত্যেকটা জায়গাই আছে। আমি মনে করি যে খেলা - ধুলায় আসুক আর ক্রিকেটে আসলে তো আরো ভালো কারন প্রফেশনালি আমরা ক্রিকেট খেলছি, আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। তো আমি মনে করি ক্রিকেটে আসা ভালো।

প্রশ্ন: একজন মেয়ে হয়ে ক্রিকেট পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন যা আমাদের সমাজের অনেক মেয়েরাই পারে না। আপনি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করেন তখন কি কোন বাধা সামনে এসেছে, সবাই কি ভাবে দেখতো আপনার ক্রিকেট খেলা?

জাহানারা: আসলে আমি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি তখন আমি অনেক ছোট। আর তখন কার ছোট মানে এখন কার বাচ্চারা অনেক বেশি এগিয়ে। তো আমি যখন দশ বছর আগের কথা বলছি তখন একটি মেয়ে খেলা করা মানে অনেক কিছু।এলাকাবাসী একটু কটু কথা বলেছে।মেয়েটা ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িত এই ব্যাপারটা তারা মেনে নিতে পারেনি।আমার বাবা, নানি এই বিষয় নিয়ে অনেক অস্তিতে পড়েছে।তো এক সময় আমার বাবা, নানি বললেন আমার মেয়ে ক্রিকেট খেলছে খেলুক না।যদি ক্রিকেট খেলে ভালো জায়গায় যেতে পারে যাক।তখনো আমার বাবা,মা চিন্তাও করতেও পারিনি যে আমি জাতীয় দলে খেলবো বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবো।

প্রশ্ন: বন্ধুরা যখন সবাই লেখা পড়া নিয়ে ব্যস্ত তখন আপনি ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত।তো এই বিষয়টা বন্ধুরা কি ভাবে দেখতো? জাহানারা:বন্ধু - বান্ধব যদি বলি স্কুল লাইফের কথা। আমি ছোট বেলায় গার্লস স্কুলে পড়েছি। আমার কাছের কিছু বান্ধবী ছিলো তারা বলতো তুই ক্লাস করিস না।ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্যাক্টিস করিস। ওদেরকে যখন আমি আস্তে আস্তে সময় দেওয়া কমিয়ে দিলাম তখন আমাদের দুরুতব বাড়তে থাকে।এরপর আমি যখন কলেজে ভর্তি হলাম তখন আমার কোন বন্ধু বান্ধব ছিলো না।কারন আমি ক্লাসই করি নাই এমন হয়েছে আমি শুধু ইয়ার ফাইনাল পরিক্ষা দিয়েছি।শুধু মাত্র কলেজের বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরুস্কার নিয়েছি।তখন অনেকেই চোখ বড় বড় করে দেখেছে।যে খেলার সময় বড় বড় পুরুস্কার নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে ক্লাস করে নাই।এই গুলা আমার মিষ্টি অভিজ্ঞতা। আমি কটু কথা বলবো না।আমি আল্লাহর রহমতে সবার সাপোর্ট পেয়েছি।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে কি ভাবে আসলেন সেই কথা একটু যদি বলতেন। জাহানারা: আমি ক্লাস ফাইভ থেকে হ্যান্ড বল ভলি বল খেলা শুরু করি এবং ওখান থেকে ক্রিকেট শুরু হয় ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। তখন আইসিসি বাংলাদেশকে একটা নির্দেশ দিয়েছিলো বাংলাদেশ থেকে একটা দল থাকতে হবে।তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তখন প্রত্যেকটা জেলায় খেলা শুরু করে একটা টিম বানানোর জন্য। এরপর প্রয়াত বিসিবির বিভাগীয় কোচ সালাউদ্দিন স্যার অনুশীলন শুরু করান। তখন আমাদের স্কুল থেকে এক ঝাক মেয়ে আসে প্রাকটিসের জন্য।ওখান থেকেই আমার ক্রিকেট শুরু আর জাতীয় দলে পদার্পন ২০০৮ সালে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে ছেলেদের মতো যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পান?

জাহানারা: আমরা যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পাই।এখন আমরা যদি ছেলেদের মতো সুযোগ সুবিধা চাই সেটা আসলে বড় চাওয়া হয়ে যায়। আসলে শুরুটা তারা যে ভাবে করেছে আকরাম স্যার, নান্নু স্যারদের সময় ওনারা যে ভাবে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন এখন সেখানে মাশরাফি, সাকিব ভাই খেলছেন। আমরা ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছি শুধু ছেলেদের মত পারফম্যান্স করতে পারছি না।যদি আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুয়ায়ী খেলতাম তাহলে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতাম কিন্তু আমরা কোয়ালিফাই খেলতে পারলাম না।তো সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে আমাদের কোন ত্রুটি নাই। আমরা যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি।

প্রশ্ন: সামনের পরিকল্পনা কি? জাহানারা: সামনে আমাদের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আছে ওটা ফিফটি ফিফটি। তবে জুলাইয়ে টি- টোয়েন্টি কোয়ালিফাই আছে এটা কনফার্ম। আর নভেম্বরে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এই গুলাকে সামনে রেখেই অনুশীলন শুরু করেছি।

প্রশ্ন : মেয়েরা ক্রিকেটে খেলতে আসছে এটা কি আপনার চোখে পড়ে? জাহানারা: যদি আমি বলি যে আপনি দেখবেন আমাদেরও ফাস্ট ডিভিশন খেলা আছে। মেয়েরা ওখানে খেলছে ছোট থেকেই। এবং আমি দেখে অবাক হয়ে যাই, এখন কার তিন-চার বছরের মেয়েরা ক্রিকেট অনুশীলন করছে।এখন কার মায়েরা অনেক আগ্রহী এটা দেখে খুব খুশি লাগে। পাশাপাশি কষ্টও লাগে কিছু কিছু মায়েরা এখনো তাদের মেয়েদের আটকে রেখেছে যারা কি না তিন চার বছর ক্রিকেট খেলে ফেলেছে। হয়তো লেখা পড়ার দুহাই দিয়ে বা ক্রিকেটে কোন ভবিষ্যৎ নেই বলে।তাই আমি বলতে চাই আপনারা দয়া করে খেলাধুলার সমর্থন করুণ । কারণ ক্রিকেট একটা প্রেফেশন এখানে আসলে যেমন শরীর সুস্থ রাখা যাই তেমনি মেধা বিকাশ ও দেশকে উপস্থাপন করা যাই এছাড়াও অর্থনৈতিক সাপোর্ট পাওয়া যাই।

প্রশ্ন: নারী দিবসে নারীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

জাহানারা: আসলে প্রত্যেকটা দিনই নারীদের প্রত্যেকটা দিনই আমাদের। আমাদের শুরু থেকে শুরু হয় এই ভাবেই।আর সাফল্য আমাদের আছেই।নারীরা অনেক কঠোর পরিশ্রমি হয়। নারী দিবস উপলক্ষে আমি একটা কথাই বলতে চায়। যত নারীরা সাফল্যের চূড়ায় পৌছিয়ে তদেরকে আমি সাধু বাদ জানাই এবং তাদেরকে দেখে যেন অন্য নারীরা উৎসাহিত হয়।নারীরাই শুধু পারে কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে।আজ ছেলেদের পাশে কাধে কাধ মিলিয়ে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে আনাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং আমিও সেটাই বিশ্বাস করি।প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই নারীরা আছে আপনি দেখবেন যে সাময়িক বাহিনী থেকে শুরু করে কৃষিকাজ পর্যন্ত।এছাড়াও কলকার খানায় নারীরাই বেশি এবং নারীদের অবদানও বেশি।

আমি শুধু বলতে চাই আজ নারীদের যারা আটকে রেখেছে তারা যেন সেখানে আটকে না রাখে।তাদের দরজা খুলে দিক তারা সামনে এগিয়ে যাক আমি এই প্রত্যশাই করি।

Bootstrap Image Preview