Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে নৈশভোজ নিয়ে অপপ্রচার উদ্দেশ্য প্রণোদিত’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৬ PM
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৮ PM

bdmorning Image Preview


আসাদুল্লা লায়ন:

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে নৈশভোজ ও তার গাড়ি বহরে হামলার বিবরণ দিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, গত ৪ আগষ্ট মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এর সাথে তার নৈশভোজের সময়, উদ্দেশ্য ও উপস্থিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে স্বার্থান্মেষী মহলের অপপ্রচার যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সর্বৈব মিথ্যা তার সাথে যোগাযোগ করা ৯ জুলাই এর মেইলগুলো দেখলেই যে কেউ বুজতে পারবে।

বৃহস্পতিবার(৯ আগষ্ট) দুপুরে ‘মার্কিন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহর ও তার বাড়িতে ৪ আগষ্ট এর হামলা’র ঘটনা বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানান।

হামলার ঘটনাটি নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের গল্প ফাঁদছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, মার্শা বার্নিকাট আমার মোহাম্মদপুরস্থ ইকবাল রোডের বাসায় নৈশভোজ শেষে ফেরার পথে বাসার সামনে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কর্তৃক আক্রমণের শিকার হন। একই সময়ে দুর্বৃত্তরা আমার বাড়িতেও হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনাটি নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের গল্প ফাঁদছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ড. বদিউল আলম বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মার্শা বার্নিকাটকে আমি এবং আমার স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে বহুদিন থেকেই চিনি।  গত ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমি তাঁকে তাঁর বিদায়ের প্রাক্কালে আমার পরিবারের সঙ্গে একটি নৈশভোজে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানাই।  পরবর্তীতে এ বিষয়ে ৯ জুলাই আমি তাঁর প্রটোকল কর্মকর্তাকে  একটি ই-মেইল পাঠাই। একই দিনে আরেকটি ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি আমাকে ০৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭-৩০ টায় নৈশভোজটি আয়োজনের সময় দেন। নৈশভোজের সময়, উদ্দেশ্য ও উপস্থিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সর্বৈব মিথ্যা তা এই ইমেইলগুলো দেখলেই যে কেউই বুঝতে পারবেন।

ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নৈশভোজটিকে ‘ষড়যন্ত্র সভা’, ‘গোপন বৈঠক’ বলে অভিহিত করছে বলে অভিযোগ করে ড. বদিউল আলম আরো জানান, যদিও নৈশভোজের বিষয়টি ছিল নিতান্তই একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং এর তারিখ নির্ধারণ করা হয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর বিক্ষোভ শুরুর ২০ দিন আগে, তথাপিও মহলবিশেষ এটিকে নিয়ে একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব হাজির করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

তিনি ৪ আগষ্টের ঘটনার বর্ননা দিয়ে উল্লেখ করেন, সন্ধ্যায় আমার বাসায় নৈশভোজে যোগ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ড. কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ড. হামিদা হোসেন এবং জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান। এই দুই দম্পতির সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমরা বহুদিন থেকেই ঘনিষ্ঠ। অসুস্থতার কারণে জনাব খানের স্ত্রী উক্ত নৈশভোজে যোগ দিতে পারেননি।

উপরোক্ত চারজন ছাড়া আমি, আমার স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ ও দুই কন্যাসহ মোট দশজন নিয়ে ছিল এই নৈশভোজের আয়োজন।রাত আনুমানিক ১১টার সময় রাষ্ট্রদূত যখন আমার বাসা থেকে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, তখন একদল দুর্বৃত্ত যাদের সংখ্যা আনুমানিক ৩০-৪০ জন তাঁর গাড়িতে হামলা করে। তারা তাঁর গাড়ি এবং আমার ছেলে, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ, ড. মাহবুব মজুমদারের ওপর আক্রমণ করে।

দুর্বৃত্তরা বার্নিকাটের গাড়ির পেছন পেছন ধাওয়া করে এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। তারা পিস্তল ও লাঠিসোটা বহন করছিল এবং জনাব রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে আগুন দেওয়ারও উস্কানি দিচ্ছিল। দুর্বৃত্তরা প্রায় আধা ঘণ্টা আমাদের বাসার সামনে অবস্থান করে ও তা-ব চালায় এবং আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকে। তারা দিনের বেলায় আমাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিতে থাকে। ‘৯৯৯’ নাম্বারে কল করার প্রেক্ষিতে হামলা শেষ হবার পর পুলিশ আসলেও আমাদের সঙ্গে কথা না বলে এবং আমাদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না করেই চলে যায়, যদিও আমরা তখন চরমভাবে আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে উপরোক্ত ঘটনাটির বিবরণ তুলে ধরে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করি। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তারা জানাবেন যে এ বিষয়ে মামলা হবে, না-কি এটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে থানা থেকে আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনা বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে পাঠানো এ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের  জন্যে যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এটিকে নিয়ে মহলবিশেষের  অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আশ্রয় নেয়াও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

হামলা’র ঘটনা দ্রুত বিচার চেয়ে সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Bootstrap Image Preview