Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'আমার ‍Suicide করার কারণ একমাত্র রিমি মেডাম'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৮, ০৮:২০ PM আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৮, ০৯:০৩ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং নারী ডেস্ক:

রাজধানীর কায়েতটুলি এলাকায় সুইসাইড নোটে শিক্ষিকার মানসিক চিকিৎসা চেয়ে আত্মহত্যা করেছে মালিহা নামের এক স্কুলছাত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর এলাকার গুলবাগের বাসা থেকে মালিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলে শিক্ষিকা রিমি আক্তারকে গ্রেফতার করে শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মালিহা বংশাল কায়েতটুলি এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। মোহাম্মদ আলী পরিবার নিয়ে শাহজাহানপুর গুলবাগ পাওয়ারহাউজ এলাকার ২৭৬/বি নম্বর বাসার ৬ তলায় ভাড়া থাকেন।

মালিহা আত্মহত্যা করলেও লিখে গেছে আত্মহত্যা করার কারণ। মার্জিন করা খাতার পাতায় সে লিখে গেছে “আমার  ‍Suicide করার কারণ একমাত্র রিমি মেডাম। সে শুধু আমাকে দেখে তার জিদ কমানোর জন্য। সে অযথা পরীক্ষায় আমার খাতা নিসে। আর পরীক্ষায় কম নাম্বার দিসে। তোমরা যদি পার তাহলে সে মেডামের মানসিক চিকিৎসা দাও। Mental Hospital এ পাঠাও। মেডাম আমারে অভিশাপ দিসে, তাই আমি ভালো result খারাপ হইছে। Maliha”।

[caption id="attachment_412572" align="aligncenter" width="527"] সংগৃহীত[/caption]

মেয়েটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার সময় মালিহার পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেন স্কুলের ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষিকা রেমি আক্তার। পরে তার পরীক্ষা খারাপ হবে এই ভেবে সে খুব মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তারপর মঙ্গলবার রাতে মালিহা তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে দেখে- ফ্যানের ঝুলন্ত মরদেহ। পরে পুলিশ এসে মালিহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

মালিহার চাচাতো ভাই আলমগীর মিয়া জানান, মালিহা শহীদ ফারুক ইকবাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত দশ-বারো দিন আগে তার পরীক্ষা শেষ হয়। স্কুলের শিক্ষিকা রিমি শুধু মালিহার সাথেই না, আরও অনেক ছাত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার কাছে কোচিং না করলে তিনি আচরণ খারাপ করেন, এমন অভিযোগও তাদের জানা রয়েছে।

শাজাহানপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান জানান, 'গতকাল রাতে খবর পেয়ে ওই বাসায় গেলে মেয়েটিকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচণায় একটি মামলা হয়েছে।

Bootstrap Image Preview