Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

দেশ বরেণ্য রাজীব মীর এখন শুধুই স্মৃতি!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৮, ০২:৪৯ PM
আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৮, ০৩:০৫ PM

bdmorning Image Preview


নিজাম উদ্দিন, জবি প্রতিনিধি:

দেশ বরেণ্য লেখক সাংবাদিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা এ শিক্ষক গতকাল শুক্রবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে ভারতের চেন্নাইয়ের গ্লোবাল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত ১৭ জুলাই রাতে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রাজীব মীর। এরপর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের অনুরোধে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয় তাকে। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়।

রাজীব মীর বেশ কয়েক মাস ধরে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন তিনি। ব্যয়বহুল এই রোগের চিকিৎসার জন্য ৯০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয় স্বজনদের কাছে ধার দেনা করে টাকা যোগার করলেও বাচাঁতে পারেনি রাজীব মীরকে।

রাজীব মীর এর কাছের এক আত্মীয় জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকা অবস্থায় এক সাজানো নাটক করে চাকরিচ্যুত করা হয় রাজীব মীরকে। এর কয়েক মাস পরেই রাজীব মীর অসুস্থতা অনুভব করে । পরে রোগ জটিল হলে তার চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাজীব মীরের বন্ধু সালেহ রনক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বন্ধু, তুই কি আমার অপেক্ষায়ই প্রাণটা ধরে রেখে ছিলি? আমার কাঁধে ভর দিয়ে শেষ হাসি হাসবার জন্য, আমার আলিঙ্গনে শেষ কবিতা লেখার জন্য, শেষ ইচ্ছাগুলো বলার জন্য? সেই যে আইসিইউতে ঢুকলি আর ফিরলি না, চলেই গেলি বন্ধু, স্মৃতি পাহাডরের নিচে আমায় চাপা দিয়ে রেখে। এই বেদনা আমি সইব কেমন করে? ভালো থাকিস প্রিয় এর অধিক প্রিয় বন্ধু ওপারে। বন্ধু তুই বলেছিলি, রনক, তুইই একমাত্র আমাকে হৃদয়ে ধারণ করেছিস। মৃত্যু হৃদয়েই রাখবো তোকে।’

উল্লেখ্য, রাজীব মীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হওয়া রাজীব কবিতা লেখা ছাড়াও নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার লেখা অনেকগুলো বই বের হয়েছিল অমর একুশে বই মেলায়। রাজীব মীরের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়।

Bootstrap Image Preview