Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘তোর কাছে বাবা আছে, থানায় চল’ পুলিশের ‘ইয়াবা নাটকে’ ক্ষুব্দ এলাকাবাসী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:০৪ PM
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:০৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

যশোরে  এক কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মোটরপার্টস ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাতে শহরের সিটি কলেজে পাড়ার ব্যাটারিপট্টি এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার সাব্বির হোসেন ছক্কু সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মোটরপার্টস ব্যবসায়ী। তিনি ওই এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে।

সাব্বির হোসেনের দাবি, পুলিশ তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে।

পুলিশের দাবি, ‘মাদক ব্যবসায়ী ছক্কুকে’ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে পুলিশ ভাঙচুর করেনি।

সাব্বির হোসেন ছক্কু দাবি করেন, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাটারিপট্টি এলাকায় আসেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বের করে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছিলেন। তখন সাদা পোশাকের দুই ব্যক্তি তার কাছে এসে পায়ের কাছে একটি সাদা কাগজে মোড়া কিছু ফেলে বলেন, ‘তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে, চল থানায় চল।’

ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দেখে এগিয়ে আসে। তারা ক্ষুব্দ হয়ে সাদা পোশাকধারীদের বলেন, আপনিই তো ওই কাগজে মোড়ানো জিনিস ফেললেন। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে সাদা পোশাকধারীদের কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এই ফাঁকে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।

ঘটনার শিকার সাব্বির হোসেনের মা জোসনা বেগম জানান, বুধবার গভীর রাতে একদল সাদা পোশাকের পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। তিনি দরজা খুললে তারা পরিবারের সব সদস্যকে একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর তাণ্ডব চালায়। ঘরে থাকা, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, আলমারিসহ সব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। জোসনা বেগম এখন গোটা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারান্দীপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরিফ ও তার ভাই সাগর কোতয়ালি থানার পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। ৫টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরিফকে এর আগে র্যাব গ্রেফতার করেছিল। এখন তিনি থানার শীর্ষ কর্মকর্তার আস্থাভাজন।

তারা দুই ভাই মিলে শহরের আরএন রোড, মনিহার এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তাকে পুলিশ দিয়ে আটক ও হয়রানি করাচ্ছে। কোতোয়ালি থানার শীর্ষ কর্মকর্তা আরিফকে নিয়ে অভিযানে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত আরিফ তার রুমে অবস্থান করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুজ্জামান বলেন, সাব্বির হোসেন ছক্কু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি এএসআই শফিকুজ্জামান। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, সাব্বির হোসেন ছক্কু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৫/৭টি নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

Bootstrap Image Preview