Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইজ্জত রক্ষা করতে বেরিয়ে এসেছি ক্যাম্পাস থেকে!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:৩৩ PM আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:১৮ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং নারী ডেস্ক-

‘শুধু ধর্ষণ ছাড়া অপ্রত্যাশিত ভাবে আর সবই হয়েছে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই স্ট্যাটাস দেন এক ছাত্রী। ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও নিজ ক্যাম্পাসেই জুনিয়রদের হাতে শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্নাতকের সাবেক ও ঢাকা জজকোর্টে প্র্যাক্টিসকারী ঐ ছাত্রী। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে মাষ্টার্স করা ওই ছাত্রী ঘটনার পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুকে উত্তাক্তকারী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দেন। শ্লীলতাহানীর শিকার ঐ ছাত্রীর নাম শামছুনাহার পপি।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী পপি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে ঢুকলেই ৮ থেকে ১০জন জুনিয়র শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরে অসংলগ্ন প্রশ্ন করতে থাকে। সে তার পরিচয় দিলেও ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার সাথে অশালীন ভাবে কথা বলতে থাকে ঐ তরুণরা। ঐ শিক্ষার্থীর মতে এমন কোন অশ্লীল ভাষা বাদ ছিল না যা তারা আমাকে বলেনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তার স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে জানতে চাইলে পপির বলেন, শ্লীলতাহানীকারী ঐ জুনিয়ররা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দু একজনকে চিনতে পারলেও বাকিদের চিনতে পারিনি। উত্তক্তকারীদের মধ্যে জুয়েল (বিবিএর ৫৪ ব্যাচ), উজ্জল ভূইয়া, ফরহাদ অন্তু (বিবিএ ৫১) ইফতেখারকে মোটামুটি চিনতে পরছি।

তিনি আরো আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে যুক্ত ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সাথে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি সাহিত্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও আমি। ২০১৫ সালে নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। কোটা সংস্কার আন্দোলনে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে বুধবার যোগ দিয়েছি। বৃস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিলে অংশ নিতে আসলে তারা আমাকে ঘিরে ধরে ক্যাম্পাসেই এমন বাজে আচরণ করে।

ঘটনার বিস্তারিত দিয়ে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে পপি লিখেছেন, ‘শুধু ধর্ষণ ছাড়া অপ্রত্যাশিত ভাবে আর সবই হয়েছে।’ বড়ই আক্ষেপ হচ্ছে এ কোন স্টামফোর্ডিয়ানদের দেখলাম আমি। যারা বড়দের নুন্যতম সম্মানটুকুও দিতে ভূলে গেছে। একি সেই স্টামফোর্ড, যেখানে আমি মোটামুটি সবক’টি ফোরামে যুক্ত ছিলাম। সে সময়ে পরিচিত ১০টি শিক্ষার্থীদের মুখের মধ্যে সম্ভবত আমিও একজন ছিলাম। সেই সবের বিনিময়ে বর্তমান শিক্ষার্থীরা আজ আমাকে এভাবে অপমান করে কোনঠাসা করবে জানলে সত্যিই সেদিন ইউনিভার্সিটির হয়ে কাজ না করে  বিবিএর উজ্জল ভূইয়া, ফরহাদ অন্তু সিভিলের ইফতেখার নাম না জানা আরো অনেকের মতন কোনো একটা রাজনৈতিক ব্যানারেই কাজ করতাম। তাতে অন্তত প্রক্টর স্যারের কাছে আমাকে বিচারের সম্মুখি হতে হতো না।

[caption id="attachment_332318" align="alignright" width="463"] উত্তক্তের শিকার ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস[/caption]

অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেমেছে, স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষার্থীরা তখন পরীক্ষায় ব্যস্ত। তাই সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমিসহ আরো কয়েকজন তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। এটাই আমার অপরাধ। আমি ছাত্রলীগের দু’একজন কর্মীর কাজকে উদ্দেশ্য করে স্ট্যাটাস দিয়েছি। এটাও আমার অপরাধ।

সকলের কাছে প্রশ্ন, আচ্ছা ছাত্রলীগ একটি বৃহত্তর ছাত্র সংগঠন বলে তাঁদের হুমকীর ভয়ে কি তাঁদের খারাপ দিকগুলোও বলা বারন? আমি ঠিক জানি না এরা কতটুকু ঠিক? কার নির্দেশে আমার সাথে তারা এমন করলো? বিশ্বাস করুন ৮ থেকে ১০ জন ছেলে মিলে আমাকে এমন ভাবে ঘিরে ধরেছিলো। মেয়ে বলেই হয়ত শুধু গায়ে হাত তোলাটাই বাকী রেখেছে। সম্ভবত আমি তাঁদের জুনিয়র হলে সেটাও করতো।

প্রানের ক্যাম্পাসটাও যে কবে এতো বড় হুমকী এবং রাজনীতি চর্চার জায়গা হয়ে উঠেছে বুঝিইনি কোনোদিন। আবার এরাই আমার নামে বিচার দিয়েছে প্রক্টর স্যারের কাছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়েও কেনো আমি ক্যাম্পাসে এসেছি এই কথা শুনে জীবন্তাবস্থায়ই নিজেকে মৃত মনে হলো। তাই আর অপেক্ষা না করে ইজ্জত রক্ষা করতে বেরিয়ে এসেছি ক্যাম্পাস থেকে। এখন আবার ছেলেগুলো মেসেজ দিচ্ছে আমাকে। ভয়ে কেনো পালালাম আমি? কি বলবো তাঁদের আমি? আমি না আসলে যে তারা আমার ইজ্জত ই নিয়ে নিত। সত্যিই বড় ল্জ্জা আর আক্ষেপ হচ্ছে আজ।  ভালো থাকুক প্রিয় ক্যাম্পাস। ভালো থাকুক ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ কর্মীরা।

ঘটনার পর থানায় জিডি করেছেন কিনা বা প্রক্টর অফিসকে জানিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নে পপি বলেন, জিডি করিনি। পরিস্থিতি প্রক্টর অফিসে যাওয়ার মতো ছিল না তখন। বাসায় এসে প্রক্টরকে ফোন করেছি। ধরেনি। অনেকে ফোন দিয়ে নিষেধ করতেছে। পোস্টটিও উঠিয়ে নিতে বলছে। রাতে অনেকে ফেসবুকে আমাকে আরো ম্যাসেজ পাঠিয়েছে অামি কেন পালিয়ে এসেছি? প্রক্টর অফিস নাকি আমাকে ধরে নিতে বলেছে তাদেরকে। তারা আমার ইন্টারভিউ নিতে চায়। আমাকে মনে রাখতে চায়। আমাকে মানসিক ভাবে অসস্তিতে ফেলেছে তারা।

বিডিমর্নিং এর হাতে আসা পপিকে পাঠানো ম্যাসেঞ্জার স্কীনশর্টে উজ্জল ভূঁইয়া নামের একজন লিখেছেন, দাদা মাইয়াডার লেখাপড়া দেখ একবার, আজকে ধরার পর ভার্সিটি ছাইড়া পালাইছে। উজ্জল ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইলে লেখা উপ-ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ।

প্রসঞ্জিত নামে একজন লিখেছেন, তার একটা ইন্টারভিউতে ডাক, দেখি কত মেধাবী।

ফরহাদ খালিল অন্তু লিখেছে, আমি জিগায় ছিলাম করেন কি আপনি? ৪৯ এর তো পাশতো করছেন। বলে কিছু একটা করি।

উত্তক্তকারীদের কয়েকজনের ফেসবুক আইডিতে নক করেও ঘটনা সম্পর্কে তাদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রক্টর এম আরিফুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি।

স্টামফোর্ড আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেতো ভালো মেয়ে। আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। কিন্তু আমিতো বিষয়টি জানি না। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে খুবই দু:খজনক। আমি প্রক্টর অফিসে জেনে আপনাদেরকে জানাচ্ছি।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী নকি বলেন, এটা হয়ে থাকলে দু:খজনক এবং আমি এই বিষয়টি জানি না। কাল সারাদিন আমি সিদ্ধেশ্বরীতে ছিলাম। আমার কাছে প্রক্টর অফিস কিছু জানায়নি। আপনিই বিষয়টি আমাকে জানালেন। আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা সবাই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত আছি।

Bootstrap Image Preview