Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘২০৩০ সালের মধ্যে শিশুমৃত্যু হাজারে ১০ জনে চলে আসবে’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৯:৪৩ AM
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৯:৪৩ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক:

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার বলেছেন, এমডিজিতে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত হয়েছেন। এসডিজিতেও সাফল্য আসবে।

বাংলাদেশে নবজাতকের মৃত্যুর হার নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখন আছে প্রতি হাজারে ২৬ জন। আমাদের এসডিজিতে টার্গেট হলো ১০ জন। আমরা সেই লক্ষ্যে এখন কাজ করছি। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এই লক্ষ্য পূরণ করব।

মোস্তাফা বলেন, এমডিজিতে আমাদের লক্ষ্য ছিল, সেটা আমরা পূরণ করেছি। আপনারা জানেন, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সাউথ-সাউথ পুরস্কার লাভ করেছেন। শিশুমৃত্যু আমরা কমিয়ে আনতে পারলেও নবজাতকের মৃত্যু রোধে অতটা সাফল্য আসেনি, এখন উন্নতি হচ্ছে। তবে বিশ্বে কততম সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে আমাদের অবস্থান ভালো।

এসডিজিতে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, এসডিজিতে আমাদের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে শিশুমৃত্যু প্রতি হাজারে ১২ জনে নামিয়ে আনতে হবে। এখন যেটা আছে ২৬ জনে। এটা করতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে।

শিশুমৃত্যু কমে যাওয়ার উন্নতি নিয়ে সোস্তফা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এটা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি আমরা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকেও প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মীদের মাধ্যমে কাজ করছি। যেমন, আমাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে এবং জেলা পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আছে, সেখানে আমরা নবজাতকদের লালন-পালনে সমন্বিত প্যাকেজ নিয়েছি।

যে তিন, চারটি কারণে শিশু মারা যায়, যেমন ইনফেকশন, শ্বাসকষ্ট, কম ওজনের শিশু – এ সব বিষয়ে আমরা চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেই। তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়। এ সব কারণে আমাদের কর্মীরা বেশ প্রশিক্ষিত। তারা বিপজ্জনক চিহ্ন দেখলেই হাসপাতালে পাঠাতে পারে। এসব কারণে শিশুমৃত্যুর হার কমে আসছে।

আরেকটা হলো কম ওজনের শিশু। এর জন্য আমরা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার চালু করেছি। আগে শিশুদের ইনকিউবেটরে রাখা হতো। এখন ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ারে মায়ের গলার সঙ্গে তাদের বেঁধে রাখা হয়, তাতে তারা মায়ের শরীরের উষ্ণতা পায় এবং শিশুরা সুস্থ হয়ে ওঠে৷ আরেকটা কারণ হলো নাভি কাটার পর যে ইনফেকশন হতো, বা ধনুষ্টংকার হতো, এখন সেটা হয় না। এর জন্য ভ্যাকসিন দেয়া হয়। আমরা আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি-র টার্গেট পূরণ করতে পারব।

নবজাতক মৃত্যু সম্পর্কে তিনি বলেন, মূলত পাঁচটি কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়। প্রধান কারণ হলো শ্বাসকষ্ট৷ এছাড়া কম ওজনের শিশু, নাভিতে ইনফেকশন এবং জন্মগত কিছু ত্রুটি – এগুলোই মৃত্যুর প্রধান কারণ।

তিনি যোগ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য সূচকে আমাদের উন্নতি হচ্ছে৷ স্বাস্থ্য সূচকের সবগুলোতে আমরা এগিয়ে আছি। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, পুষ্টি – এগুলোতে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এমনকি আমাদের গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। এখন আমাদের গড় আয়ু ৭১ বছর। এগুলো স্বাস্থ্য সূচকের উন্নতিকে নির্দেশ করে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি না হলে এগুলোতে আমরা উন্নতি লাভ করতে পারতাম না। আমার মনে হয়, প্রশ্ন থাকার কোনো কারণ নেই।

শিশুমৃত্যু আরো কমানোর উপায় নিয়ে মোস্তফা বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, প্রতিটি সদর হাসপাতালে শিশুদের জন্য স্পেশাল কেয়ার ইউনাইটেড ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৬টি হাসপাতালে এটা তৈরি করা হয়েছে। এটা আইসিইউ-র মতো। আমরাও এই উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করছি, সব জায়গায় এটা হয়ে গেলে শিশু মৃত্যু আরো কমে আসবে।

আমাদের দেশে এখন সরকার শিশুদের দিকে আলাদা নজর দিয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা হাসপাতাল আছে। শিশু হাসপাতালের পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজে আলাদাভাবে শিশু ইউনিট গঠন করা হয়েছে। জেলা হাসপাতালেও শিশু ইউনিট আছে। এমনকি প্রতিটি উপজেলাতে শিশু বিশেষজ্ঞদের সরকার পদায়ন করছে। আমি যতদূর জানি, রাজধানীতে পাঁচ হাজার শয্যাবিশিষ্ট ইনষ্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্থ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এটা অচিরেই হবে বলে আমি জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে এর কাজও শুরু হয়েছে। এখানে সব ধরনের ব্যবস্থা ও বিশেষজ্ঞ আছে।

শিশুমৃত্যু কমানোর ব্যবস্থাগুলো চলছে বলে মোস্তফা বলেন, শিশুমৃত্যু কমানোর জন্য আমাদের যে ব্যবস্থাগুলো চলছে, আমার মনে হয় সেটা পর্যাপ্ত। আমাদের যে উদ্যোগগুলো আছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং হাসপাতালগুলোতে যেসব যন্ত্রপাতি আছে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে শিশুমৃত্যু আরো কমে আসবে। এ ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক এবং আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

Bootstrap Image Preview