Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১১ মঙ্গলবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নারী দিবসে নারীদের কথা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৮, ১২:২৩ PM
আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮, ০১:১০ PM

bdmorning Image Preview


মামুনুর রশিদ ।।

৮ই মার্চ আন্তুর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে  দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও মর্যাদার সাথে পালন হয়ে আসছে  ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।  অনেক দেশে দিনটাকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এদিন আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সভা ও সমাবেশ। আলোচনা করা হয় নারীদের ন্যায্য অধিকার এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। কিন্তু ওই সমাবেশে অংশ নেয়া নারী কোন প্রকার যৌন হেনস্তার শিকার না হয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবে তারকি কোন নিশ্চয়তা আছে?

আসুন এই আধুনিকতার যুগে নারীরা কতটুকু স্বাধীনতা কিংবা সম্মান পাচ্ছে সে বিষয়েই জেনে নেই স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে-

 

অনামিকা তিথি (সাংবাদিকতা বিভাগ)

যেহেতু আমি সাংবাদিকতায় পড়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতা এবং নাচ  করি। অতএব প্রতিনিয়তই আমাকে বাসার বাইরে যেতে হয়। সাংবাদিকতার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে সব সময় সাহস এবং অনুপ্রেরণা পেলেও সমাজের অনেকের  কাছ থেকে বাকা কথার সম্মুখীন হতে হয়। একটা মেয়ে, সাংবাদিকতা করছে !  তাছাড়া সংবাদ সংগ্রহে গিয়েও নারী হওয়ার দরুন অনেক সময় হেনস্তার শিকার তথা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে  হয়। এদিকে, রাস্তায় চলতে ফিরতে যেমন বাসে কিংবা হেটে  যে পথেই চলি না কেনো রাস্তার পাশে ওত পেতে থাকা কিছু নারীলোলুপ দৃষ্টির সম্মুখীন হতে হয়। যা ডিঙ্গিয়ে  চলা বেশ বিব্রতকর। আর পাবলিক যানবাহন গুলোতে সাধারণত মেয়েদের দিকে নোংরা দৃষ্টিতে তাকানো এবং গা ঘেষাটা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দাড়িয়েছে।

 

সাবরিনা সিলভী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)

মা বাবার একমাত্র সন্তান আমি। অনেক আদরে বড় হয়েছি। তাদের  আদর ভালবাসার কোন কমতি আমি কখনোই খুঁজে পাইনি। তবুও  কখনো কখনো তাদের মুখে আমি হতাশার ছাপ দেখতে পেয়েছি। তারা যখন ভাবেন মেয়ের বিয়ে হয়ে শশুড় বাড়ী চলে গেলে তারা একা হয়ে পড়বেন। আর তখন হয়ত কখনো কখনো তাদের মনে হয় মেয়ে না হয়ে আমি ছেলে হলেই হয়ত ভাল হত। তাছাড়া আমরা মেয়েরা ছেলেদের  সমান পরিশ্রম করে লেখা পড়া করছি কিন্তু ছেলেরা একদিন কর্মক্ষেত্রে   তাদের পরিশ্রমের প্রতিফলন ঘটালেও আমাদের সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এদিকে নিরাপত্তার  নামে আমাদের স্বাধীনতা তো প্রতিদিনই খর্ব করা হচ্ছে।

 

রেজয়ানা করিম (সিএসই বিভাগ)

সভ্যতার এই যুগে মানুষের মুখে মুখে নারীর স্বাধীনতার জয়গান উচ্চারিত হলেও  নারীরা  কি আসলেই ততটা স্বাধীন? একদিকে যেখানে আমার পরিবার আমাকে নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন বুনে যাচ্ছে সেখানে সমাজের  আরেকদল  মানুষ আমাদের মেয়ে মানুষের দোহাই দিয়ে ঘরে আটকে রাখতে চাচ্ছে। আর  চলার পথে একজন নারীকে যে কত ভাবে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয় তার কোন হিসেব নেই। আমাদের নারী দিবসের যতটা না প্রয়োজন আছে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন আমাদের পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন।

 

উম্মে কুলসুম (ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগ)

আমি যেহেতু ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে পড়াশোনা করছি, সেহেতু  হয়ত পেশা হিসেবে এ জগতকেই বেছে নেব। কিন্তু ফিল্ম এন্ড মিডিয়া জগত আসলে কতটা নারী বান্ধব ?  যেখানে নারীদের প্রতিনিয়ত পণ্যের মত ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে হ্যা, এখানে অনেক নারীই আছেন যারা নিজেদের সম্মানটুকু নিজেরাই ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমিও হয়ত সেই চিন্তা মাথায় রেখেই এগোচ্ছি। তবে এই বিভাগের প্রতি আমাদের সমাজ তথা দেশের মানুষের ধারনা যদি জানতে চান তবে নেগেটিভ ছাড়া পজিটিভ কোন মন্তব্য পাবেন না বললেই চলে। আসলে আমরা মুখে মুখে যতই নারীদের ন্যায্য অধিকার কিংবা সম্মানের কথা বলি না কেন, আমরা কি তার ছিটে ফোটাও তাদের কে দিয়ে থাকি?

 

সাবরিনা নওরিন (বিবিএ বিভাগ)

মেয়েররা রাস্তা ঘাটে চলতে গেলে সেক্সচুয়াল হ্যারেজমেন্টের শিকার হবে না এটা যেন এক কাল্পনিক গল্পের মতই হয়ে দাড়িয়েছে। মানুষের মনের মধ্যে যেখানে নারীকে ভোগ্য পণ্যের মতবাদে আটকে আছে সেখানে আমরা কিভাবে সম্মান পাচ্ছি সেটা নিশ্চয় বুঝতেই  পারছেন!  ঘটা করে নারী দিবস পালন করে লাভ  হচ্ছে কি, যদি নারীরা তাদের স্বাধীনতাই না পায় জীবনে চলার পথে। তার চেয়ে পরিবর্তন করুন আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারীর প্রতি  হীন মন-মানসিকতাকে।

 

সাবা হোসাইন (ইংরেজী বিভাগ )

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হয় নানা ভাবে। তবে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের  প্রতিবেশীদের কাছ থেকেই। আর চলার পথের পাবলিক বাসগুলোতো সচারাচর  মেয়েদের জন্য বসে থাকে অসম্মানকর তিক্ত অভিজ্ঞতার মালা সাজিয়ে। কেউ এসে গায়ের উপর পড়ছে, কেউবা আবার পাশের সিটে বসে গা টা একটু বেশিই এলিয়ে দিচ্ছে মেয়েদের দিকে। এই সমাজ নারীদের প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে চাইলে আমাদের মানুষ হিসেবে সম্মান দিক এতেই হবে।

Bootstrap Image Preview