Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভোটের মাঠে টানা ৪০ দিন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফারুক চৌধুরী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৪১ PM আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৪৩ PM

bdmorning Image Preview


আব্দুল বাতেন, গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী অঞ্চলের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে একটানা ৪০ দিন নিজ এলাকায় বিচরণ করে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এই বিচরণের ফলে বিশেষ করে রাজশাহী-১ গোদাগাড়ী-তানোরের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি টানা এলাকায় ৪০ দিন থাকার ফলে নির্বাচনী বলয় তৈরী করে ফেলেছেন।

জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশেনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হতে মনোনিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও জাতীয় চার নেতা এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে বিজীয় করার জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে, গত ৬ জুলাই ঢাকা হতে রাজশাহীর মাটিতে পা রাখেন। সেদিন হতেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র লিটনকে বিজয়ী করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন।

৩০ জুলাই নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি প্রতিদিনই ৪-৫ টি কর্মসূচি বিভিন্ন এলাকায় করেছেন। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও তিনি ঢাকা না ফিরে গিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে এখন পর্যন্ত এলাকায় বিচরণ করে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করতে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। একটানা এলাকায় তৎপরতার কারণে তিনি এখন অনেকের বিশেষ নজরে পড়েছেন।

নির্বাচনী আচরনবিধি অনুযায়ী মন্ত্রী, এমপিরা নির্বাচনী এলাকায় কোন ধরনের প্রচারণা নিষেধ থাকায় তিনি গত ৬ জুলাই হতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশেনের নির্বাচনে লিটনকে বিজয়ী করতে গোদাগাড়ী ও তানোরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের সাথে দিনের পর দিন সভা-সমাবেশ করে মতবিনিময় করেছেন। সেই সব মতবিনিময় সভার তার একটি মাত্রই মেসেজ সবার কাছে পৌছে দেন যে, আমরা রাজশাহী শহরে বসবাস না করলেও আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রাজশাহী শহরে বসবাস করছে এবং সেখানের ভোটার। তাই শুধু রাজশাহী শহর নয় পুরো রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য লিটনকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। লিটনকে বিজয়ী করতে পারলেই রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিটি এমপির আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজীয় হবার প্রভাব পড়বে । তাই নিজেদের ও দেশের উন্নয়নে জন্য লিটনকে নৌকায় ভোট দেবার আহ্ববান জানান।

তিনি ২৯ জুলাই রাজশাহী শহরে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘন করে লিটনের জন্য প্রায় ২ হাজারের অধিক নেতাকর্মী নিয়ে রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল শোডাউন দেয়। এতে বিভিন্ন মিডিয়াও তার কর্মকান্ড প্রচার করে।

এছাড়াও তিনি দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিশালী দেখতে সকল রাগ ক্ষোভ ভূলে গিয়ে নৌকাকে বিজীয় করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানান। তিনি বলেন নৌকার প্রার্থী কে হবেন সেটা একমাত্র শেখ হাসিনা জানেন তাই আগামী দিনে এই আসন হতে যে হবে নৌকার মাঝি তার পক্ষেই কাজ করতে হবে বলে সকলকে জানান।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সাড় ৯ বছরে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর নানান উন্নয়নসহ কাজ করেছি। এরই মাঝে আমার ভূলত্রুটি থাকতেই পারে সেই সব ভূলত্রুটির জন্য সবার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে আন্তত শেখ হাসিনার দিকে চেয়ে যে কোন মূল্যে শেখ হাসিনার নৌকার মার্কায় ভোট দেবার অনুরোধ করেন। তিন বলেন, বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতার যুদ্ধের পরাজিত শক্তি এদের দ্বারাদেশের কোন উন্নয়ন সম্ভব নয় তারা জ্বালাও পোড়াও তে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে জঙ্গীর উত্থান করে জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে চাই তাই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেন।

৩০ জুলাই বিপুল ভোটে লিটন বিজয়ী হবার পর লিটনের সাথে নেতাকর্মীদের সাক্ষাত হলে লিটক ওমর ফারুক চৌধুরীর তৎপরতা ও নৌকার বিজয়ের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সিটি নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও অদ্যবধি তিনি রাজশাহীতে বিভিন্ন হাট, ঘাটে পথাসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণ চালিয়ে যাচ্ছেন। হাট বাজার ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করেই চলেছেন। এতে করে গ্রামের নারীরাও উজ্জীবিত হয়েছে । নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

এরই মাঝে তিনি বিভিন্ন স্কুল কলেজের একাডেমিক ভবন উদ্বোধন , এমপি ফারুক চৌধুরীর একান্ত নিজ উদ্যোগে তানোর ও গোদাগাড়ীর হজ্ব যাত্রিদের বিদায় সংবর্ধনা দিয়ে আসছেন গত ১০ বছর হতে, পূজা পরিদর্শন, শহিদদের স্বরণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান যাইয়ের জন্য নিজেই স্কুল পরিদর্শন করে ক্লাস নেওয়া, বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন, মৎস্য সপ্তাহের পোণা অবমুক্ত করণ, এলাকার লোকজনের জানাজার নামে অংশ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের নবীণ বরণ অনুষ্ঠান, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির টাকা প্রদান, কাঁদামাটির উপর দিয়ে হেটে পথসভা. ওরশ সভা, স্কাউটস সমাবেশ, ভিজিএফের চাল বিতরণ, বিজ্ঞান মেলাসহ প্রায় ২৫০ টিরও অধিক কর্মসূচীতে যোগদান করেছেন।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা নির্বাচনী এলাকায় জনসাধারণে সাথে করে আগমী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করবে বলে জানাগেছে।

গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে তাই রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচনি এলাকায় টানা অবস্থান করছেন। তিনি চোখের ঘুম হারাম করে প্রতিদিনই কর্মব্যস্ত দিন পার করছে । ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংঠনের সাথে মতবিনিময় করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে ফেলেছেন। সকল নেতাকর্মী তার ডাকে সারা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। ওমর ফারুক চৌধুরই একমাত্র ভরসা যা রাজশাহী-১ আসনকে বিজয়ী করতে । তার বিকল্প কেউ গড়ে উঠতে পারে নি।

গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওমর ফারুক চৌধুরীর ডাকে আমরা যুবলীগসহ সকল সহযোগি সংগঠন একহয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি । আগামী দিনে এই আসনে ফারুক চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনে আমি মনোনয় নিয়ে চিন্তা করছি না। আমার চিন্তা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে কি ভাবে বিজয়ী করতে হবে। আমি শেখ হাসিনার বিজয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দিনে নিশ্চয় শেখ হাসিনা বিজয় ঘটবে বলে মন্তব্য করেন।

Bootstrap Image Preview