Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

স্বামীর দাবি হারপিক খেয়ে মৃত্যু, পরিবার বলছে গোপনে দাফনের চেষ্টা কেন?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬ PM আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ভালোবেসে বিয়ে করে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন হাসনাহেনা ও সাকিব। সেই স্বপ্ন আলোর মুখও দেখেছিল দেড় বছর আগে। সেই আলোর সংসার আলোকিত করে  মাত্র ২১ দিন আগে জন্ম নিলো এক ছেলে সন্তান। কিন্তু কে জানতো মুহূর্তের সে আলোর ঝলকানি নিভে যাবে। ভালোবাসার সংসারে হঠাৎ অপমৃত্যু চলে আসবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বিকালে এমনি ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর রশিদার ঘোনা এলাকায়। গৃহবধূ হাসনাহেনা বিউটির (২০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  তবে

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, এ মৃত্যু রহস্যজনক। তাই আটক করা হয়েছে স্বামী সাকিবকে। নিহত হাসনাহেনা উপজেলার দয়ারপাড়া যুবলীগ নেতা জাফর আহমদের কন্যা।

জানা যায়, হাসনাহেনা লোহাগাড়া উপজেলা সদরের ফোরকান টাওয়ারে ভাড়া বাসায় স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। স্বামী সাকিবের পরিবারে রয়েছেন তার মা ও ভাই-বোন। এ দিকে ঘটনার পরপরই নিহতের শ্বাশুড়ি ফাতেমা বেগম পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ জানা যায় গৃহবধূ হাসনাহেনা মারা গেছে, তাকে রশিদার ঘোনা এলাকার একটি কবরস্থানে গোপনে দাফন করা হচ্ছে।

এ খবর স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে, নিহতের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। এর পরপরই নিহতের স্বামী সাকিবকে আটক করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর বাবা জাফর আহমদ বলেন, আমরা ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে জানতে পারি, সকালে আমার মেয়ে ও মেয়ে জামাই সাকিবের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বাসার লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে মৃত্যু হলে আমাদের না জানিয়ে দাফন করার চেষ্টা করা হয়। পরে গোপনে দাফনের বিষয় জানতে পেরে এলাকার লোকজন উপজেলার রশিদার ঘোনা এলাকায় গেলে হাসনাহেনার মরদেহ নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।’

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা না করলে, গোপনে দাফন করা ব্যবস্থা করছে কেন?’

নিহতের স্বামী সাকিবের বরাতে লোহাগাড়া থানার এসআই হাসেম জানান, সকালে স্ত্রী হাসনাহেরা সঙ্গে ঝগড়া হয় সাকিবের। এরপর সাকিব ঘর থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে হাসনাহেনা সাকিবকে ফোন করে জানান, তিনি হারপিক খেয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ফিরে হাসনাহেনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে হাসপাতালে এ ধরনের কোনো রোগী নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার।

এসআই হাসেম বলেন, এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী সাকিবকে আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Bootstrap Image Preview