Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সুমনা ও সোমা 'সেলফ মোটিভেটেড উগ্রপন্থি'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৪:০৩ PM
আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৪:০৩ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং নারী ডেস্কঃ

পুলিশের একজন কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমার বোনকে সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আসমাউল হুসনা সুমনা (২২) ও মোমেনা সোমা (২৪)মেধাবী দুই বোন। সোমা বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে সেখানে ঘুমন্ত একজনকে ছুরিকাঘাত করতে গিয়ে ধরা পরে।

এরপর তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে সোমবার রাজধানীর কাফরুলের বাসায় পুলিশ কর্মকর্তার ওপর একই কায়দায় ছুরিকাঘাত করে সোমার বোন সুমনা। বর্তমানে তাকে সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এরই মধ্যে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সোমা ও সুমনা 'সেলফ মোটিভেটেড' উগ্রপন্থি। তারা দু'জনই নব্য জেএমবির জঙ্গিবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত। এর আগে ইসলামিক স্টেটের হয়ে কাজ করতে তুরস্কে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সোমা।

ভিসা না পাওয়ায় তুরস্কে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তার। দেশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই ২০১৪ সালে উগ্রপন্থায় জড়ায় সোমা। এরপর ২০১৬ সালে তাকে অনুসরণ করে সুমনাও একই পথে পা বাড়ায়। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল এসব তথ্য জানান। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মেলবোর্নে ঘুমন্ত অবস্থায় একজনকে ছুরিকাঘাত করে প্রবাসী শিক্ষার্থী সোমা। ওই ঘটনায় তাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। তাদের ভাষ্য, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোমা ওই ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা চালায়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।

এর সূত্র ধরে সিটিটিসির একটি দল কাফরুলে সোমার বাসায় তথ্য নিতে গেলে সেখানে আকস্মিকভাবে সিটিটিসির সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলামের ওপর ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে সুমনা। পুলিশের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোমা 'ল রেটো' থেকে 'ও' লেভেল ও মাস্টারমাইন্ড থেকে 'এ' লেভেল সম্পন্ন করে। এরপর ২০১৪ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয় সে। ধারণা করা হচ্ছে তখন থেকেই উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ে সোমা। তার মধ্যে চোখে পড়ার মতো বাহ্যিক পরিবর্তনও দেখা দেয়।

বৃত্তি পেয়ে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর হঠাৎই একজন ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাত করতে গিয়ে ধরা পড়ে সোমা। প্রথমে বাংলাদেশি গোয়েন্দা ও সোমার স্বজনরা ধারণা করছিলেন, হয়ত তাকে কেউ উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছিল, তা ঠেকাতে হামলা করে সোমা।

তবে ঢাকায় সোমার বাসায় তথ্য নেওয়ার পরপরই পুলিশ তার উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপর তার বোন যখন পুলিশের ওপর ছুরি নিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে চিৎকার করে আক্রমণ করে বসে তখন এ ব্যাপারে পুলিশের সংশয় দূর হয়ে যায়। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সুমনা মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস করে। এরপর ভর্তি হয় গ্রিনফিল্ড কলেজে। ওই কলেজ থেকে অংশ নেওয়ার পর এইচএসসিতে অকৃতকার্য হয় সুমনা। এরপর ২০১৭ সালে ম্যানটরস থেকে জিইডি শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাব) ইংরেজিতে ভর্তি হয়। মালয়েশিয়ায় জিয়াম্যান নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়তে বৃত্তি পায় সুমনা। তবে অসুস্থতার কারণে সেখানে যাওয়া হয়নি তার। এরপর ট্যুরিস্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেও পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় তার সেখানে যাওয়া হয়নি।

তবে ২০১৬ সালে বড় বোনের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদে পথে পা বাড়ায় সুমনা। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে সোমা তার পরিকল্পনার কথা সুমনাকে বলে যায়। কোনো সময় পুলিশ বাসায় অভিযানে গেলে কীভাবে ছুরি নিয়ে হামলা করতে হবে তাও বড় বোন তাকে শিখিয়ে দিয়েছে বলে জানায় সে। জানা গেছে, তাদের বাবা মনিরুজ্জামান জনতা ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি নিজে আহলে হাদিসের অনুসারী। তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ২০১৫ সালের জুনে মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মারা যান। এক সময় পূর্বাচলে তাদের অনেক জমিজমা ছিল। সেখানে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া অর্থের একটি অংশ দুই মেয়ের নামে ব্যাংকে গচ্ছিত রাখেন মনিরুজ্জামান। তিনি নিজে আহলে হাদিসের অনুসারী।

 তবে দুই মেয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে বাহ্যিক অনেক পরিবর্তন দেখে। তবে তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে এ বিষয়টি আঁচ করতে পারেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সার্বিক বিষয়ে সুমনা-সোমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

Bootstrap Image Preview