Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

অভিবাসী নারী শ্রমিকের অভিজ্ঞতায় গণশুনানীর আয়োজন  

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৪২ PM
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৪৩ PM

bdmorning Image Preview


মেরিনা মিতু।। বাংলাদেশ প্রতিবছর বহুসংখ্যক নারী শ্রমিক বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। দিন যায়, খবর আসে নির্যাতনের, খবর আসে ধর্ষণের নির্মমতার, খবর আসে প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর। অনিয়মের প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে থাকলেও আদৌতে বাস্তবায়ন কতটুকু হয়, তা বলা বাহুল্য। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি গণশুনানীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিদেশ থেকে ফেরত আসা নারী শ্রমিকরা তাদের প্রতি নির্যাতনের ধরণের বর্ণনা তুলে ধরবেন।  

আজ শনিবার (১৮ নভেম্বর), দুপুর ২.৩০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের নিয়ে এই গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ (উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি) একটি আন্দোলনের নাম। গণশুনানীর আয়োজক এই সংগঠনটি ২০১৩ সালে যাত্রার শুরুর পর থেকে বিশ্বের ২০০টি দেশ এতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এবারকার উদেশ্য মূলত, নারী শ্রমিকদের উপর শোষণ-নির্যাতন বন্ধের সিদ্ধান্ত কিংবা রায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান থেকে ফেরত আসা রোকসানা, ইয়াসমিন, লেবানন থেকে ফেরত আসা সামিয়া, সৌদি থেকে ফেরত আসা মঞ্জু শুনানীতে তুলে ধরেন তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। তারা প্রত্যেকেই গৃহকর্মীর কাজ করতে বিদেশে পাড়ি জমান। কেউ প্রতারিত হয়ে, কেউ শারিরীক-মানসিক অত্যাচারের কবলে পড়ে, কেউ ঠিকমতো খেতে না পারায় সেখান থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসে। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বিদেশে তাদের যে ভয়াবহতার স্বীকার হতে হয়েছিলো সে সম্পর্কে তারা মুখ খুলেন।

একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্কাইপিতে ভিডিও কলে লেবানন থেকে আয়েশা নামক একজন নারী শ্রমিক যিনি গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে কাজ করেন, তিনি কথা বলেন, নিজের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি তার পরিচিত লেবাননে থাকা এমন বহু নারী শ্রমিকের বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কোনো নারীকে অন্তত গৃহকর্মীর কাজের জন্য  বিদেশে পাঠাবেন না, এখানে একজন গৃহকর্মীকে তার ইজ্জতটুকুও বিলিয়ে দিতে হয় তাদের সেবায়, যদিও বিদেশে নারীরা আসে, তবে যেনো অন্য কোনো কাজঃ খাবারের দোকান, গার্মেন্টসে, হাসপাতালে পাঠাবেন, কিন্তু গৃহকর্মী হিসেবে পাঠাবেন না’।

তিনি আরো জানান, লেবাননের দূতাবাসে এমন অভিযোগ নিয়ে বহু বাংলাদেশি যায়, তবে অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো তাদের বলা হয়, তোমরা এখানে কেনো এসেছো? তোমরা এতোবছরের কন্ট্রাক্টে এসেছো, এর আগে কিছু করা সম্ভব না।

এভাবে নারী শ্রমিকেরা বিদেশে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরার পর মানবধিকার আইনজীবী সালমা আলী সহ, শ্রমিক নেতাদের আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, তারা তাদের মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন।

মানবধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব কি সীমাবদ্ধ? আমাদের মেয়েদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা না দিয়ে বাইরে পাঠানো হয় কেনো! সে দায়িত্ব এবার সরকারের নিতে হবে’।

পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নিয়ে কর্মরত এই বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ ‘বিচারকবৃন্দ’ তাদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নীতিমালা পরিবর্তনে সোচ্চার হওয়ার সাথে সাথে বেশ কিছু প্রণালি, একইসাথে এনজিওদের আহ্বান করেছেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে নারীদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দিতে বলেছেন, সেমিনারের আয়োজন করতে বলেছেন।

Bootstrap Image Preview