Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের কৃষকেরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:৪৭ PM
আপডেট: ১৮ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:৪৭ PM

bdmorning Image Preview


আল মামুন, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

উত্তরের জেলা জয়পুরহাটে ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত আর দিনভর সূর্যের আলো না থাকার কারনে এবার বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে অনেকটায় বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকরা। কয়েক দিনের তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় চারা না গজানো, বীজতলা নষ্ট ও নষ্টের পথে বীজতলা আবার কোথাও দেখা দিয়েছে নানা প্রকারের রোগ বালাই,কোন প্রকার ঔষধেই কাজ হচ্ছে না।

যদি বীজতলা রক্ষা ও মৌসুমে পর্যাপ্ত বোরো ধানের চারা না পাওয়া যায় তাহলে বোরো উৎপাদনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পরবে চাষীরা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭২ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যে বীজ তলা তৈরি করা হয়েছে ৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে।

বিএডিসি (বীজ) কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করেছে এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে বিআর-২৮, ২৯, ১৬ ও ৫৪ জাতের ধান, এ ছাড়াও রয়েছে জিরাশাইল, মিনিকেট। হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে এসিআই-১, ২, ৩, ৪, ৫, ধানীগোল্ড, হিরা-২, ৫, জাগরন, ময়না, টিয়া, ধানী, এসএল-৮, তেজ।

জেলায় বোরো চাষ সফল করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে জানুয়ারি মাসের সারের বরাদ্দ পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৩ হাজার ৭০০ মে. টন, টিএসপি ১ হাজার ২০০ মে. টন, এমওপি ১ হাজার ৪শ ৩৯ মে. টন ও ডিএপি ১ হাজার ৬৪ মে. টন। বোরো চাষে সেচ সুবিধা প্রদানের জন্য ১ হাজার ৮৯৫ টি গভীর ও ৯ হাজার ৮৫৪টি অগভীর নলকূপ প্রস্তত করা হয়েছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বারিক বলেন, কয়েক দিনের তীব্র শৈত্য প্রবাহে আর ঘন কুয়াশায় অনেকটায় নষ্টের পথে বীজতলা। দেখা দিয়েছে নানা প্রকার রোগ বালাই। এমন বৈরী আবহাওয়ায় বীজতলার চারা নষ্ট হলে বিপাকে পরবেন তারা।

এদিকে একই গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম জানান, টানা এক সপ্তাহ ধরে ঘনকুয়াশা আর তীব্র শৈত্য প্রবাহে ধানের বীজতলায় দেখা দিয়েছে হলুদে ধরনের রোগ, যাতে কোন প্রকার ঔষধ ছিটিয়েও কোনো লাভ হচ্ছেনা। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি আসছে মৌসুমে বোরো ধানের চাষ নিয়ে অনেকটায় সংকায় রয়েছে তারা।

অন্যদিকে কোমর গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান নতুন বীজতলা তৈরি করে সবে মাত্র বীজ বপন করেছেন। যদি এমন আবহাওয়ার কারনে চারা না গজায় অথবা এসব বীজতলা ও চারা নষ্ট হয়, তাহলে এ মৌসুমে বোরো উৎপাদনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পরবেন এ জেলার চাষীরা, এমন কথাই বলছেন তিনি।

পাঁচবিবি উপজেলার ফিসকাঘাট এলাকার মোসলেমউদ্দিন জানান, ২০ বিঘা জমির জন্য ৩০ কেজি বীজ ফেলেছি প্রথম দিকে বীজ ফেলার জন্য অসুবিধা হয়নি,তবে কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিচর্যা করায় কোন অসুবিধা হয়নি।

কালাই উপজেলার দেবখন্ডা গ্রামের নূরুল মাষ্টার ৫০ বিঘা জমির জন্য ২ মণ ও বানদিঘী গ্রামের আনোয়ার হোসেন ২০ বিঘা জমির জন্য দেড় মণ হাইব্রীড ধানের বীজ জমিতে ফেলেছিলেন শীতের কারণে চারা গজায়নি, আবার নতুন করে বীজ ফেলতে হবে, না হয় চারা কিনতে হবে বলে জানান।

আক্কেলপুর রোয়ার গামের জিয়াউল হক জিয়া জানান, ৬০ বিঘা জমির জন্য পর্যায়ক্রমে ২ মন বীজ জমিতে ফেলেছিলাম, প্রথম অবস্থায় ১ মণ বীজ ফেলেছিলাম তার কোন সমস্যা হয়নি কিন্ত পরে ১ মণ বীজ ফেলেছিলাম তার মধ্যে কিছু নষ্ট হয়েছে কিছু ভালো আছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের চপল হোসেন জানান, ১০ বিঘা জমির জন্য আধা মণ বীজ ফেলেছিলাম, ফেলার পর থেকেই শৈত্য প্রবাহ ও কুয়াশা, ১০-১২ দিন ধরে রোদের দেখাই নেই, এই কারণে আমার বীজ সবই নষ্ট হয়েছে, চারা কেনা ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।

এদিকে জেলা কৃষি সম্পসারনের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান, প্রচন্ড শীত এবং ঘন কুয়াশার কবল থেকে বীজতলা ও চারা রক্ষায় জেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বক্ষনিক দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের পরামর্শ, যাতে করে বীজতলা এবং চারা নষ্ট না হয়। এছাড়া ৭২ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধাণ চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পুরোপুরি পুরনে আশাবাদী তিনি।

এদিকে এমন তীব্র শৈত্য প্রবাহ, হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার কবল এসব বোরো ধানের বীজতলা এবং চারা রক্ষা করে কৃষি নির্ভর এ জেলার কৃষকদের বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আরো সহযোগীতা কামনা করছেন এ অঞ্চলের চাষীরা।

Bootstrap Image Preview