Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

চলনবিলে হলুদের সমারোহ !

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৯ PM
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৯ PM

bdmorning Image Preview


আবু জাফর, নাটোর প্রতিনিধি:

এবার চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা বন্যায় আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপকভাবে সরষে আবাদ করেছেন। এ অঞ্চলের ফসলের মাঠগুলোতে এখন সরষের হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে বিরাজ করছে থোকা থোকা হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সরষের ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতি প্রেমীদের। গোটা চলনবিল অঞ্চল মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

মৌচাষিরা মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লাভজনক মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষার আবাদ দেখা যায়। যেদিকে দৃষ্টি যায় শুধু সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে চোখ ধাঁধানো হলুদ ফুল আর ফুল। ফুলের বিস্তীর্ণ মাঠে দূরন্ত শিশুরা মেতে উঠছে নানা রকমের খেলাধুলায়। সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষার মাঠগুলোতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এ সময়টা পোকা-মাকড়সহ বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় কাক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে বাড়তি পরিচর্যা করতে হচ্ছে কৃষকদের।

সংবাদ সংগ্রহ করতে চলনবিলে গেলে দেখা হয় প্রকৃতি প্রেমী চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির মহাসচিব মাহাবুব আলম বাবু ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিনহাজ মল্লিকের সাথে।

বাবু জানান, একসময় চলনবিল পানিতে ডুবে থাকলেও বর্তমানে সরিষাসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ হয়। সরিষার এই রকম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। সরিষা মৌসুম চলনবিলের যৌবনকে টিকিয়ে রেখেছে।

সিংড়া পৌর শহরের দক্ষিণ দমদমা গ্রামের সরিষা চাষী আলহাজ্ব হাসেম বেপারী বলেন, বন্যার কারণে এবার সরিষার আবাদ কম হয়েছে। তাতে এবার আমরা লোকসানের সম্মুখীন হবো। একই কথা জানান ৩নং ইটালী ইউনিয়নের মানিকদিঘী গ্রামের রহিদুল ইসলাম জানান।

পৌর শহরের সরকারপাড়া গ্রামের মধু সংগ্রহকারী আকরাম হোসেন বলেন, মধু সংগ্রহে আমরা লাভবান হবো। তবে সরিষার আবাদ কম হওয়ায় লাভের অংশটা এবার একটু কম হবে। সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ বছর চলনবিলের পানি নামতে দেরি হওয়ায় সরিষার ফলন খুব একটা ভালো হয়নি। গত বছর ১৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হলেও এ বছর তা কমে ৮৩০ হেক্টরে দাড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ হতে সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

 
Bootstrap Image Preview