Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

৬২ বছর আগে যেভাবে হজ পালন করত মুসলমানরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:০৬ PM
আপডেট: ০২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:০৬ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ হজ। মক্কার অদূরে মিনা যাত্রার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা। ‘হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধে লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্-নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক’ ধ্বনিতে মুখর করে কমপক্ষে ২০ লাখ হজ্জযাত্রী আজ মিনায় সমবেত হয়েছেন। আগামীকাল আরাফা দিবস অর্থাৎ পবিত্র হজ্জ।

[caption id="attachment_257030" align="aligncenter" width="546"] আজকের দিনের মতোই কোচে বা বাসে চড়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতেন হজে যাওয়া লোকজন।[/caption]

পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য যেমন আজ রাত থেকেই হজ্জযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফায় রওনা হবেন, তেমনি গতরাত থেকেই তারা মিনায় আসতে শুরু করেন। মহানবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুযায়ী আজ বাদ ফজর হজ্জযাত্রীগণের মক্কা থেকে মিনা যাওয়ার কথা।

[caption id="attachment_257031" align="aligncenter" width="650"] যাঁদের সামর্থ্য ছিল, তাঁরা আশপাশের দেশ থেকে ছোট ছোট বিমানে করে যেতেন মক্কায়।[/caption]

কিন্তু ২০ লাখ হজ্জযাত্রী পরিবহনের সুবিধার্থে সউদী সরকার নিযুক্ত মুয়াল্লিমগণ পূর্বের রাত থেকেই হজ্জযাত্রীদের মিনায় স্থানান্তর শুরু করেন। অনুরূপ ৯ যিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফার ময়দানে গমন সুন্নাত হলেও বিশাল সংখ্যক হজ্জযাত্রীর আরাফায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগের (৮ যিলহজ্জ) রাত থেকেই তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাসে করে স্থানান্তর শুরু করে দেন।

[caption id="attachment_257032" align="aligncenter" width="527"] অনেক হজযাত্রী মক্কা যেতেন ফেরিতে বা জাহাজে করে। ওই সময় বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন ছিল শুরুর পর্যায়ে, আজকের দিনের মতো সব জায়গায় তা সহজলভ্য ছিল না।[/caption]

হজ্জের জন্য নির্ধারিত ৫ দিনের প্রথম দিন আজ মিনায় হজ্জযাত্রীগণ অবস্থান করে ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করবেন। রাতে পুনরায় তাদের নিয়ে যাওয়া হবে আরাফার ময়দানে। সেখানে যোহর ও আসর আদায় করবেন। আরাফাত ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামেরা থেকে খতীব সাহেব হজ্জের খুৎবা পাঠ দিবেন এবং যোহর ও আসর এক আযানে দুই ইকামাতে কসর অর্থাৎ দুই রাকআত যোহর ও দুই রাকআত আসর সলাত আদায় করবেন। আর তাঁবুতে অবস্থানরতদের মধ্যে মুকীমরা যোহরের সময় যোহর ও আসরের সময় আসর আদায় করবেন।

[caption id="attachment_257028" align="aligncenter" width="566"] পবিত্র মসজিদের চারপাশে দেখা যাচ্ছে বাড়িঘর ও হোটেল। মসজিদটির সম্প্রসারণের জন্য এসব ঐতিহাসিক ভবনের অধিকাংশই ধ্বংস করতে হয়েছে।[/caption]

আর মুসাফিরগণ এক আযানে দুই ইকামাতে যোহর ও আসর কসর করে আদায় করবেন। এরপর মাগরিব পর্যন্ত অবস্থান করে জীবনের যাবতীয় গুনাহর ক্ষমা চেয়ে কাঁকুতি মিনতি করে মুনাজাত করতে হবে। এছাড়া দেশ-দশের উন্নতি, অগ্রগতি, বালা-মুসিবত থেকে নাজাত এবং মৃত-জীবিত নিকটাত্মীয়দের মাগফিরাত কামনায় মুনাজাত করতে হবে। আরাফাতে অবস্থানকেই মূলত হজ্জ বলা হয়।

[caption id="attachment_257029" align="aligncenter" width="611"] পবিত্র মসজিদের চারপাশে দেখা যাচ্ছে বাড়িঘর ও হোটেল। মসজিদটির সম্প্রসারণের জন্য এসব ঐতিহাসিক ভবনের অধিকাংশই ধ্বংস করতে হয়েছে।[/caption]

হাজার বছর ধরে বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলমানরা হজ পালন করে আসছেন। তবে সব সময়ই সবকিছু একই রকম থাকেনি। দিনে দিনে হজ পালনের স্থানগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে স্থাপনাগুলোতেও।

[caption id="attachment_257023" align="aligncenter" width="539"] ওই সময়কার পবিত্র কাবাঘরের একটি ছবি।[/caption]

দেখে নিন ১৯৫৩ সালে হজ পালন কীভাবে হতো। যদিও মাত্র ৬২ বছরের ব্যাপার, তবু পরিবর্তন কিন্তু কম হয়নি। বছর বছর হজ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলায় অনেক কিছুতেই আনতে হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। ছবিগুলো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের একটি পুরনো সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।

[caption id="attachment_257024" align="aligncenter" width="588"] পবিত্র কাবা ও মাতাফ এলাকা। তখন বাড়তি কোনো ফ্লোর (তলা) ছিল না।[/caption] [caption id="attachment_257025" align="aligncenter" width="516"] পবিত্র কাবা ও মাতাফ এলাকা। তখন বাড়তি কোনো ফ্লোর (তলা) ছিল না।[/caption] [caption id="attachment_257026" align="aligncenter" width="534"] মসজিদুল হারামের একটি প্রবেশপথ।[/caption] [caption id="attachment_257027" align="aligncenter" width="502"] মক্কার একটি ব্যস্ত সড়ক।[/caption] [caption id="attachment_257021" align="aligncenter" width="492"] হাজি, মুসল্লিরা তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে পারতেন।[/caption] [caption id="attachment_257020" align="aligncenter" width="518"] এখনকার মতো ভিড় থাকত না, তাই তাওয়াফ ছিল সহজ।[/caption] [caption id="attachment_257020" align="aligncenter" width="601"] এখনকার মতো ভিড় থাকত না, তাই তাওয়াফ ছিল সহজ।[/caption] [caption id="attachment_257019" align="aligncenter" width="537"] মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান।[/caption] [caption id="attachment_257018" align="aligncenter" width="541"] মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান।[/caption] [caption id="attachment_257017" align="aligncenter" width="650"] মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান।[/caption] [caption id="attachment_257016" align="aligncenter" width="650"] পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়িও।[/caption] [caption id="attachment_257015" align="aligncenter" width="558"] কোরবানির জন্য পশু পছন্দ করে কিনতে পারতেন সব হাজি।[/caption] [caption id="attachment_257014" align="aligncenter" width="528"] হজের সময় কেনা পশু নিজেদের কাছে রাখা যেত।[/caption] [caption id="attachment_257013" align="aligncenter" width="550"] কোরবানির পর পশুর দেহ পরিবহনে ব্যবহার করা হতো গাধা।[/caption] [caption id="attachment_257008" align="aligncenter" width="538"] মাথা মুড়াচ্ছেন এক হাজি।[/caption] [caption id="attachment_257007" align="aligncenter" width="537"] জামারাত হিসেবে ছিল ছোট ছোট স্তম্ভ; শয়তানের প্রতীক হিসেবে যেখানে ঢিল ছোড়া হতো।[/caption] [caption id="attachment_257010" align="aligncenter" width="556"] আরাফাত পর্বতের পাশে আরাফাতের ময়দানে টাঙানো কিছু তাঁবু।[/caption] [caption id="attachment_257011" align="aligncenter" width="525"] কেনা উটের পাশে নামাজরত হাজি।[/caption] [caption id="attachment_257012" align="aligncenter" width="650"] মিনায় আগুন কিংবা স্টোভ ব্যবহার করে নিজেরাই রান্না করতে পারতেন হজে যাওয়া মুসলিমরা।[/caption]
Bootstrap Image Preview