Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘আমরা একসঙ্গে পথ চলি; সেটা দেখতে চায় বিশ্ব’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৮, ১০:২৩ PM
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৮, ১১:০৩ PM

bdmorning Image Preview


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে একটি বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠক এর দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব। কিন্তু কথা হচ্ছে এই সামিটের দিকে কেন সবার নজর? সোমবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বৈঠকে বসার আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খারাপ সম্পর্কের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর দায় চাপিয়ে দেন ট্রাম্প।

রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র দেশ দুইটির মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ সেই সম্পর্ক আরো খারাপ করে তুলেছে।

টুইটারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোকামি এবং নির্বুদ্ধিতার কারণে বর্তমানে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে হেলসিংকিতে দুই রাষ্ট্রনেতা বহুল প্রতিক্ষীত বৈঠকে বসেন। শুরুতে করমর্দন করেন তারা; তবে তাদের এই করমর্দন স্থায়ী ছিল মাত্র তিন সেকেন্ড। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, তিন সেকেন্ডের করমর্দনে দুই প্রেসিডেন্টকে চিন্তিত দেখায়। এমনকি তাদের মুখে হাসিও দেখা যায়নি।

পরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন বিশ্বের প্রভাবশালী এ দুই প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কেন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন প্রেসিডেন্ট?

হোয়াইট হাউস বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রত্যক্ষ বৈঠক চান; যেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ অথবা কোনো তথ্য ফাঁস হবে না। এমনকি ওই বৈঠকের আলোচনাও রেকর্ড থাকবে না। তবে সমালোচকরা ট্রাম্প-পুতিনের এই বৈঠককে বিশ্বাসঘাতকতার বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করে টুইটারে ট্রিজনসামিট (#TreasonSummit) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন; যা ইতোমধ্যে টুইটারে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক নিয়ে আলোচনার শুরুর পর কয়েক মাস আগেই হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে দুই প্রেসিডেন্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানান। কিন্তু কেন এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক? এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। এজন্য তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

এক. পুতিনকে ব্যক্তিগতভাবে মূল্যায়নের জন্য একক সময় চেয়েছেন ট্রাম্প। নেতা থেকে নেতার মাঝে সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

দুই. অতীতে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার তিনি তার সহযোগীদের বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাক সেটি চান না তিনি।

তিন. রাশিয়াকে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হোক ট্রাম্প এমন সহযোগীদের চান না। এমনকি পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় হস্তক্ষেপ অথবা বাধার সৃষ্টি করা হোক সেটিও চান না। যে কারণে তিনি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগে ট্রাম্প-পুতিনের এই বৈঠককে বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন অনেক মার্কিন। নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়া কাজ করেছে বলে অভিযোগ আছে। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে।

ওই বছরের নভেম্বরে নির্বাচনের আগে দেশটির বর্তমান বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাকিংয়ের সঙ্গে ১২ রুশ নাগরিক জড়িত বলে শুক্রবার মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছেন। রুশ নাগিরকদের হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পরও কেন পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৈঠকের শুরুতে পুতিন বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করাটা আনন্দের। বিশ্বকাপের সফল সমাপ্তি ও রাশিয়ার পারফরম্যান্সের জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকটি খেলা দেখেছি... বিশ্বকাপের আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের আলোচনার জন্য চীনের বাণিজ্য, দ্বিপাক্ষিক বন্ধু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ আরো বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে, আমরা অনেক বছর ধরে একসঙ্গে হতে পারি নাই। আমরা একসঙ্গে পথ চলি; সেটা দেখতে চায় বিশ্ব। আমাদের কাছে বিশ্বের ৯০ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, এটা ভালো নয়।

Bootstrap Image Preview