Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিশ্ব রেকর্ডে ৫০ ডিগ্রিতে পুড়ছে পাকিস্তান!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মে ২০১৮, ০২:৪০ PM
আপডেট: ০৬ মে ২০১৮, ০২:৪০ PM

bdmorning Image Preview


আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

এপ্রিল মাসেই পাকিস্তানে পারদ ছুঁল ৫০ ডিগ্রি। এত গরম আগে দেখেনি বিশ্বের কোনও দেশ। বিশ্বের ইতিহাসে আর কোনোদিন এত গরম দেখা যায়নি। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশা শহরে গত সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৫০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘটনাটি প্রথম নজরে নিয়ে আসেন ফরাসি আবহবিদ ইতিএনে কাপিকিয়ান। তিনি বলেন, ‘‌এপ্রিলে এর আগে কখনও এত গরম পড়েনি। গোটা এশিয়াতে এটা রেকর্ড।’ এর আগে গত মার্চ মাসেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দিক থেকে রেকর্ড গড়েছিল পাকিস্তানের এই শহরটি।

গত মাসে শহরের উষ্ণতা ছাড়িয়েছিল ৪৫‌ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ ক্রিস্টোফার বার্ট জানান, ‘‌২০১১ সালের এপ্রিল মাসে মেক্সিকোর সান্তা রোজাতে তাপমাত্রা ছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সে ব্যাপারে তেমন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই এটাই এপ্রিল মাসে পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে।’

স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থায় বিপাকে পড়েছে সেখানকার সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে কোনও লোক নেই। সবাই কার্যত গৃহবন্দি। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে শহর জুড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন হচ্ছে। আর তাই এভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। যার ফলে ২১০০ সালের মধ্যেই এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে বলে হুঁশিয়ারি জারি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

৪ আগস্ট ২০১৭ তারিখে,‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন ৮০ বছর পর দক্ষিণ এশিয়ায় যে গরম পড়বে তা মানুষের বেঁচে থাকার সহ্যসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাতে লাখ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে কিংবা এলাকাছাড়া হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে ওই সময় আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে এমনটা ঘটবে।

ওই সময় সারা বিশ্বেই এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার ৩০ শতাংশ মানুষের জন্য এ হুমকি প্রবল। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্বন নিঃসরণের হার না কমানো হলে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রার সীমা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষ করে গঙ্গা অববাহিকা, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বাংলাদেশ, চীনের পূর্ব উপকূল, শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চল এবং পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় ওয়েট বাল্বে তাপমাত্রার সীমা চরমে পৌঁছাতে পারে।

মানবজাতির জন্য এই ‘ওয়েট বাল্ব’ রিডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শরীরের ত্বকের তাপমাত্রা থাকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে দেখা যায়, ত্বকের বাইরের তাপমাত্রা কম। এটি কম হওয়ার কারণ শরীরের ভেতরের ‘বিপাকক্রিয়াজনিত তাপ’ (মেটাবলিক হিট) ঘামের মাধ্যমে বাষ্প হয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু বাতাসে যদি ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার বা আর্দ্রতাজনিত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি হয়ে যায়, তাহলে শরীর থেকে তাপ বের হওয়ার হার দ্রুত কমতে থাকবে। কারণ ত্বকের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাজনিত তাপমাত্রা তখন সমপরিমাণ হয়ে যাবে।

এমনটি ঘটলে ছয় ঘণ্টার মধ্যে একজন সুস্থ মানুষও মারা যেতে পারে, যেটিকে হিটস্ট্রোক বলে। এর কারণ আর্দ্রতাজনিত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছার অর্থ হলো মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ সীমা। এ ছাড়া আর্দ্রতাজনিত তাপমাত্রার ক্ষেত্রে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসকেই বিপজ্জনক মাত্রা বলে মনে করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ যাবৎকালে বিশ্বে তাপমাত্রার রেকর্ডের ইতিহাসে ওয়েট বাল্ব বা আর্দ্রতাজনিত তাপমাত্রার সীমা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার ঘটনা খুবই বিরল। ২০১৫ সালে ইরানে তা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। আর ওই বছরের গ্রীষ্মকালে ভারত ও পাকিস্তানে তীব্র দাবদাহে সাড়ে তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই আশঙ্কা দূর করতে হলে প্যারিস জলাবায়ু চুক্তি মেনে চলতে হবে, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ ২ ডিগ্রির নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Bootstrap Image Preview