Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

পশ্চিমা হামলার মুখেও গৃহযুদ্ধ জয়ের অনেক কাছে চলে এসেছে আসাদ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:১৫ PM
আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:১৫ PM

bdmorning Image Preview


আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

শনিবার সিরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটুও দুর্বল হয়নি দেশটির ক্ষমতাসীন আসাদ সরকার। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতা ও এর আশপাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাত বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে নিজের অবস্থান আরো পোক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

৭ এপ্রিল আসাদবাহিনী দৌমায় ক্লোরিন গ্যাস হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করে পশ্চিমা শক্তিগুলো। যার শাস্তি হিসেবে সপ্তাহখানেক পর দামেস্ক ও হোমসের তিনটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসী বিমান।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর এ হামলা সিরিয়ায় চলা বহুপক্ষীয় যুদ্ধের গতিপথ একটুও বদলায়নি বলে মন্তব্য রয়টার্সের, যতখানি বদলেছে দৌমায় সরকারি বাহিনীর সন্দেভাজন রাসায়নিক হামলায়।

বছরখানেক ধরে আসাদ সমর্থক বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণের পরও দামেস্কের কাছের এ শহরটি দাঁড়িয়ে ছিল বিদ্রোহীদের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে; সন্দেহভাজন ওই গ্যাস হামলার কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই ওই অবস্থার বদল ঘটে।

অবরুদ্ধ অধিবাসীদের চাপ এবং একই ধরনের আরও হামলার হুমকির মুখে জইশ আল ইসলাম দৌমা ছেড়ে তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার দিকে চলে যেতে রাজি হয় বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলৌশের।

সপ্তাহখানেক পর পশ্চিমারা যখন হামলা চালাচ্ছে, গৌতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসাদ তখন সিরিয়ায় নিজের ক্ষমতা আরো সংহত করেছেন।

ওই হামলার দিনটির পর গৌতার যুদ্ধক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।

২০১৫ সালে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর থেকেই সিরীয় গৃহযুদ্ধে মোড় আসাদের পক্ষে ফিরতে থাকে। ২০১৬-র শেষদিকে পূর্ব আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক শহর সরকারিবাহিনীর কব্জায় আসে। আসাদের হয়ে রাশিয়ার ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং বিদ্রোহীরা তাদের সমর্থন দেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সরকারি বাহিনী একের পর এক যুদ্ধে জয়ী হতে থাকে।

উত্তরের পুরোটা, পূর্বের বেশিরভাগ অংশ এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের কিয়দংশে, যেখানে বিদেশি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র তৎপর, এখনো প্রেসিডেন্ট আসাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু রাজধানীর আশপাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাত বছরের গৃহযুদ্ধ জয়ের অনেক কাছে চলে এসেছেন দেড় যুগ ধরে সিরিয়ার ক্ষমতায় থাকা আসাদ।

গত মাসে পূর্ব গৌতার পতনের পর দৌমাই ছিল সরকারিবাহিনীর প্রধান আক্রমণস্থল; সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলামের সদস্যরা বাসে চেপে তুর্কি সীমান্তের দিকে চলে যাওয়ায় আসাদকে আর কাছাকাছি এলাকা থেকে বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে না।

রুশ বাহিনীর নির্দেশনাতেই সিরীয়রা গৌতায় সর্বাত্মক অভিযান চালায় বলে সরকার সমর্থক জোটের এক আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডার রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। ওই অভিযানে অন্তত এক হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে।

প্রতিপক্ষ বিভিন্ন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এবং ধারাবাহিক বোমা বর্ষণে বিপর্যস্ত আসাদবিরোধী গোষ্ঠীর সদস্যরা বাধ্য হয়ে তুর্কি সীমান্তের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চলে যেতে রাজি হয়।

Bootstrap Image Preview