Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বেড়েই চলেছে ইসরায়েলি সেনাদের নির্যাতন, আরও ৪ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৭ PM
আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বেড়েই চলেছে ইসরায়েলি সেনাদের নির্যাতন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে কমপক্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার এসব ফিলিস্তিনি নিহত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনায় প্রাণ হারিয়েছে এসব ফিলিস্তিনিরা।

ফিলিস্তিনের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের আল-বীরে শহরের বায়তুল চেকপয়েন্টে ইসরায়েল সেনারা শুক্রবার বিকেলের দিকে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে। ইসরায়েল সেনারা দাবি করছে, ওই ফিলিস্তিনি নাকি সেনাদের ছুরি মারার চেষ্টা করেছেন। তারা দাবি করছে, ফিলিস্তিনি নাগরিকের ছুরি মারার চেষ্টায় এক ইসরায়েল সেনা আহত হয়েছেন।

বিবিসি জানায়, গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে জুম্মার নামাজের পর ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পাথরের জবাবে টিয়ার শেল ও গুলি ছোঁড়ে সেনা সদস্যরা।

বাসিল ইসমাইল নামে আরেক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে। ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েল সেনারা গুলি চালালে তিনি নিহত হন।

ইয়াসির সোকার নামে ৩২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শাজাইয়া এলাকায় নিহত হয়েছেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সম্প্রতি  পুরো বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাষ্ট্র।

প্রায় ৭০ বছরের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি লঙ্ঘন করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ট্রাম্পের যে স্বীকৃতি দিয়েছে তার আসল কারণ বিশ্লেষন করেছেন অনেকে।

তাদের মতে ট্রাম্পের আশঙ্কা, তিনি যদি এই স্বীকৃতি না দেন তাহলে মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ভোট ব্যাংক হারাবেন তিনি। ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও বলেছেন, গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এক পরিসংখ্যান মতে, আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর মানুষ রয়েছে। এরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। সাম্প্রতিক এক জরিপ মতে, ৮২ ভাগ শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান বিশ্বাস করে যে, ইসরাইলের ব্যাপারে প্রভু ইহুদিদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাত্র ৪০ ভাগ মার্কিন ইহুদি বাইবেলের এই বাণীকে বিশ্বাস করে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, সারা বিশ্বের নেতাদের হুশিয়ারি সত্ত্বেও বুধবার ট্রাম্প এ ব্যাপারে ঘোষণা দেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টানরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং ‘জেরুজালেম প্রেয়ার’ বলে এক প্রার্থনা কর্মসূচির ডাক দেয়।

এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা বাতিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। অন্যদিকে প্রাচীন এই শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করার মার্কিন সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনা বেড়েই চলছে।

ইহুদি ও ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান জেরুজালেম। দুই পৃথক জীবনযাত্রার আকড়বিন্দু এই প্রাচীন শহর। ফলে এর ‘হক’-এর দাবিদার একত্রে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি। ‘এভাবেই মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে আরব লীগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করবে বলেও এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কায়রোতে সংস্থাটির এক জরুরি বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। অন্যদিকে জাতিসংঘও এর বিরোধিতা করছে।

ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় ইসরায়েল সন্তুষ্ট হলেও ফিলিস্তিনিরাসহ পুরো আরব বিশ্বের নেতারা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকেই নস্যাৎ করবে বলে হুঁশিয়ারি করেছিল। এমনকী আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত “পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য চরম এক উস্কানি।

Bootstrap Image Preview