Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মোর্শেদাসহ ২৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে ভুল শুধরে নেয়া হলোঃ ছাত্রলীগ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০২:০৭ PM আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০২:০৭ PM

bdmorning Image Preview


মেরিনা মিতু।।

গত ১০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার ঘটনায় বহিষ্কার হন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। যার পায়ের রগ কাটার অভিযোগ করা হয়, সে ছাত্রী নিজেই সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা। এশাকে বহিষ্কারের তিনদিন পর তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় পর ১৩ এপ্রিল তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। ঠিক তার তিনদিন পর সোমবার (১৬ এপ্রিল) সেই মোর্শেদাকে বহিষ্কার করলো ছাত্রলীগ। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনায় হল শাখার সংগঠনের ২৪ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ব্যাপারে সাইফুর রহমান সোহাগ বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের সেই দিনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ এপ্রিলের ঘটনায় যে বা যাঁরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, শুধু তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এশাকে বহিষ্কার করে যে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো সেটা শুধরে নেয়া হলো। এর বাইরে আর কিছু এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা।'

বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা হলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, সুফিয়া কামাল হল শাখার সহ-সভাপতি মুর্শেদা খানম, আতিকা হক স্বর্ণা, মিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতী আক্তার সুমি, সহ-সম্পাদক শ্রাবণী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার, উপতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আশা। বহিষ্কৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী লিজা ও মিথিলা ইসরাত চৈতী, চারুকলা বিভাগের সুদীপ্তা মণ্ডল ও অনামিকা দাশ, সংগীত বিভাগের সোনম সীথি, প্রিয়াঙ্কা দে ও প্রভা, ভূতত্ত্ব বিভাগের শিলা ও জাকিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মনিরা ও রুনা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শারমিন সুলতানা, উর্দু বিভাগের মিতু, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগ জুঁই, বাংলা বিভাগের তানজিলা ও সমাজকল্যাণ বিভাগের তাজ।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই হলের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাতেই ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠলে এশাকে একাধারে হল, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে জানা যায়, এশার বিরুদ্ধে পা কেটে দেওয়ার অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগেরই সহ-সভাপতি মুর্শেদা খানম। তিনি নিজেই কাচে লাথি দিয়ে পা কেটে ছিলেন। এরপর ১৩ এপ্রিল এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় ছাত্রলীগ।

যদিও বিডিমর্নিং অনুসন্ধানকারী টিম এই ঘটনায় আরো নতুন এবং ভিন্নকিছু তথ্য অনুধাবন করতে পেরেছেন। যেখানে সাধারণ নিরীহ ছাত্রীদের দাবী, এশা পায়ের রগ কেটেছে কিংবা মোর্শেদা নিজেই কাচে লাথি দিয়ে ভেংগেছেন এই দুটো বিষয়ের কোনোটায় সঠিক নয়।

কিন্তু একটি বিষয় সেই নিরীহ শিক্ষার্থীরা বলতে চায় যে, ১০ এপ্রিল রাতের সেই ঘটনা ঘটেছিলো ছাত্রলীগের নিজেদের মধ্যেই। সেখানে আন্দোলনের কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর হস্তক্ষেপ নেই।

তাদের দাবি, বহিষ্কারের লিস্টে যেনো কোনোভাবেই কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম না আসে, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আসলে কি ঘটেছিলো তাহলে সেই রাতে? এই বিষয়টি অনুসন্ধান করে খুব শীঘ্রই তুলে ধরবো আপনাদের কাছে।

Bootstrap Image Preview