Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

খৈয়াছড়া ঝর্ণার পথে এক সকালের বিমুগ্ধতা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০১৮, ১১:০১ AM আপডেট: ০৭ মে ২০১৮, ০২:৫১ PM

bdmorning Image Preview


গঠনশৈলির দিক দিয়ে বাংলাদেশেন সবচেয়ে নান্দনিক ঝর্ণা গুলোর মধ্যে অন্যতম খৈয়াছড়া ঝর্ণা। ৯ টি মুল ধাপ এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপসহ প্রায় ১৩টি ধাপ রয়েছে। যা বাংলাদের অন্য কোন ঝর্ণাতে দেখা যায় না। এই কারণেই হয়তো খৈয়াছড়াকে ঝর্ণাদের রানী বলা হয়ে থাকে।

মূল নয়টি ধাপে প্রতিটি ধাপেরই রয়েছে নিজেস্ব নান্দনিকতা। প্রকৃতির তুলিতে আঁকা পরেছে ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য। একটি ধাপের সাথে আরেকটি ধাপের সেতুবন্ধন যেন এখানের নান্দনিকতা। চারিদিকে সবুজের চাদরে ঢাকা, প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে। দুপাশে উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলে ঝর্ণাধারা।

ঝর্ণার পথে আমাদের কথা

খৈয়াছড়া ঝর্ণার ছয় অথবা সাত নম্বর ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানো ছিলো দারুণ এক অ্যাডভান্সার। রশিতে ঝুলে ঝুলে উপরে ওঠা। কখনও পায়ের নিচে স্যাঁতসেঁতে পাথার, কখনও নুড়ি পাথর, আবার আগলা মাটি, প্রতিটি পায়েই সতর্ক দৃষ্টি রেখে সম্মুখে আগানো। কখনও পানি পার হতে হয়েছে। কখনও গাছের শিখরে ঝুলতে ঝুলতে উপরে ওঠতে হচ্ছে। কোন সময় এক পাশে উঁচু পাহাড়ে খাড়া ঢাল, অন্যপাশে গিরিখাতের দুই পাথরের মধ্য দিয়ে সুরঙ্গ হয়ে চলে গেছে নিচে। সুরঙ্গর মুখে দিকে কালছে, ধীরে ধীরে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে সুরঙ্গর শেষটা। একবার পা ফসকাললে অনিশ্চাত জীবন। ঝুঁকি নিয়েই ঝর্ণার শেষটা দেখার জন্য এগোতে থাকে আমাদের ১২ সদস্যের টিম।

ঢাকা থেকে ৮ জনের সাথে চট্রগ্রাম থেকে যোগ দেয় রনি, রাকিব, লিলি, সুমানা। লিলি আর সুমানা ছিলো কচ্ছপের মত ধীর গতিসম্পন্ন। তবুও রিফাত ভাইয়ের মত হাল ছাড়েনি। আমাদের পিছে পিছে শেষ অব্দি থেকেছে। তৃতীয় ধাপে এসে রিফাতের জুতা স্লিপ করার কারণে চতুর্থ ধাপে আর ওঠার সাহশ করেনি।

বিষেশ ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে সম্মিলিতভাবে পার হওয়া। একটা করে ধাপ পার হয়ে রেস্ট নেয়া, কিছু গল্প, ছবি তোলা, একটু তর্ক, অভিজ্ঞাতা শেয়ার করা। পরের ধাপে উঠার প্রস্তুতি। এভাবেই ছয় থেকে সাতটা ধাপর চলে যায়।

এর মধ্যে সোহাগ ভাই আর নদী ভাবির প্রেমও আমাদের হজম করতে হয়েছে। ভাবির অভিযোগো সোহাগ ভাই তার বেশি ছবি তুলে দেয়নি। অথচ সোহাগ ভাইয়ের নিজেরই তেমন ছবি নেই। পুরাটা সময় আমাদের ছবি তুলে কাটিয়ে দিয়েছে।

বৃষ্টি আর আকাশ জমজ ভাই বোন। ট্রেন থেকে শুরু করে ভ্রমণের শেষ পর্যন্ত টুকটাক জগড়া করেছে। ছোট সময় কে কেমন ছিলো, কাকে কি বল ডাকা হতো, কাকে কি বললে রাগ করতো, কার খাবার কে খেয়ে খেয়ে মোটা হয়েছে এই সব ছিলো জগড়ার বিষয়। এদিকে বিজয়কে যে সবাই বিজয় আপু বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অমৃতার সাঁতার না জানাও ছিল এক ধরণের সংঙ্কা। রোমান্সকরের হাতছানিতে সাতার না জেনেও নির্দ্বিধায় পানিতে নেমে পরেছে।

এক পর্যায়ে একটা গ্রুপের ফিরে আসার ইচ্ছা, আরেকটা গ্রুপের ঝর্ণার শেষ দেখার ইচ্ছা। শুরু হয় মতপার্থক্য, মতপার্থক্য হওয়ার আগেই গ্রুপের একটা অংশ রনি, রাকিব আর বিজয় সামনে এগিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আমি, বৃষ্টি, আকাশ, অমিতা ঝর্ণার পথ ধরে আগে যাওয়ার সিধান্ধ নেই। আমাদের গ্রুপটা ঠিকঠাক মত যেতে পারলে পরে গ্রুপকে ডেকে নিতে হবে। যেহেতু আমরা পাহাড়ী পথে এজন্য পরের গ্রুপকে ডাকা দিতে হবে পাহাড়ী ভাষায়। সম্মলিতভাবে টার্জানের মত করে শব্দ করার একটু অনুশীলনও হয়ে যায়।

সব কিছু শেষ করেও শেষ হয়নি আমাদের মিশন। মিশন সর্ম্পুণ ভেবে সম্ভবত সাত নম্বার ধাপে এসে আমাদের যাত্রর ইতি টানি। কিন্তু ‍ঢাকা ফিরে জানতে পারি যে ধাপে যেয়ে যাত্রর সমাপ্ত করা হয়েছে তার পর আরো দুইটি ধাপ রয়েছে। তারপরও দারুণ এক অ্যাডভান্সার শেষে ঢাকায় ফিরে আসি।

খৈয়াছড়া ঝর্ণার নান্দনিকতার জন্য ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে বাড়ছে জনপ্রিয়তা। বাড়ছে মানুষের আনাগোণা। পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য দারুণ এক সম্ভবনা থাকলেও কতৃপক্ষের অবহেলায় রয়েছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা। ঝর্ণার প্রতিটি ধাপেয় রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বৃষ্টির সময় ঝুঁকিগুলো হয়ে ওঠে আরো ভয়ংকর। যে কোন সময় মৃত্যুর মত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভ্রমণকারিদের নিরাপত্তর জন্য দিক নির্দেশনার প্রয়োজন থাকলেও প্রশাসন বা কতৃপক্ষের কোন তৎপরতা নেই।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা থেকে ফিরে আকরাম হোসেন
Bootstrap Image Preview