Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কয়েদি নাম্বার ২৫০২৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮, ০৪:০৯ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, ০৪:২৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক- সম্প্রতি বাংলা গানের ‘যুবরাজ’ খ্যাত আসিফ আকবর একটি মামলায় বুধবার বিকেল থেকে সোমবার জামিন না হওয়ার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটাতে থাকেন। আর তারই পরিপেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে কারাগারে কাটানোর প্রথমদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান ‘আমি কয়েদি নাম্বার ২৫০২৭। এই সংগীত শিল্পী ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, এই ‘আমি কয়েদি নাম্বার ২৫০২৭। কারাগারের উঁচু প্রাচীরগুলো ভয় জাগানিয়া। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢুকলাম কারা হাসপাতালের কেবিনে। একজন মুরুব্বীর নেতৃত্বে মাগরিবের নামাজের জামাত চলছে। বাইরে ঝোলানো ভয়ানক তালা, ঢুকতে হলো চার দেয়াল আর লোহার গরাদ বেষ্টিত কক্ষটিতে। মনে হচ্ছিলো- বাবা মা হারিয়ে ফেলা অনাথ আশ্রমে আশ্রয় পাওয়া এক এতিম আমি। নামাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে চারিদিকের মাপ নিচ্ছিলাম। নামাজ শেষে মাথা নীচু করে হেঁটে গেলাম আমার জন্য রাখা নির্ধারিত বিছানায়। শত সহস্র অনুসন্ধিৎসু চোখের আড়ালে নিজেকে লুকানো অসম্ভব। চোখ ভিজে আসতে চাইছে। দৃঢ়তা আর সততার ট্যাবলেট খাওয়া সিদ্ধান্ত- নাহ... পানি বের হতে দেয়া যাবে না, শুধু রক্তই বেরুতে পারে। ব্যাগটা রেখে গোসলে গেলাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাড়াহুড়োয় আনা হয়নি, এগিয়ে এলো আরেক কয়েদি প্লাস রাইটার- শাওন। তার অধীনেই চলে এই অবরুদ্ধ কক্ষটি। সবাই তাকাচ্ছে আমার দিকে, আমি কুঁকড়ে আছি নতুন পরিচয় হজমের আতঙ্কে। কবে আসবে রুপকথার ফিনিক্স পাখিটা!! আর কতদিন গল্প শুনে যেতে হবে!! আমিই তো ফিনিক্স, আজন্ম এক যোদ্ধা, আমার অদম্য অগ্রযাত্রা থামবে শুধু মৃত্যুতেই ... মুহূর্তেই ঝেড়ে ফেললাম অতীত, মুখে নিয়ে আসলাম বিজয়ীর হাসি। সবার সাথে হাত আর বুক মেলানো শুরু করলাম। কিছু কয়েদি এগিয়ে এলেন, আর কিছু আছেন অব্জারভেশনে। এর মধ্যে খুনে চোখ, অসহায় চোখ, ভালোবাসার চোখ, সন্দেহের চোখ, করুণার চোখ, নেশার চোখ, বন্ধুত্বের চোখ- সবই আছে। নানান চোখের নানান ভাষা, ওগুলো পরেও পড়া যাবে। সারাদিন কিছু খাইনি, আগে একটু খেয়ে নেই, অনেক ক্ষুধা পেয়েছে… চলবে....।’ উল্লেখ্য, গত ৬ জনু গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী শফিক তুহিনের করা তথ্য ও প্রযুক্তির (আইসিটি) মামলায় আসিফ আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১০ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে জামিন দেওয়া হয় এই শিল্পীকে।
Bootstrap Image Preview