Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

জাতীয় পুরস্কারের জন্য আমি সিনেমা বানাই নাঃ গিয়াস উদ্দিন সেলিম

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩৫ PM আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


ঢাকাই সিনেমার দর্শকরা আটকে আছে স্বপ্নজালে। খুব সহজে সে জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নেই। কারণ ছবিটির পরতে পরতে মিশে আছে ভালোবাসার সিক্ত পরশ। যারা এই পরশ পেয়েছেন তারাই আপ্লুত হয়েছেন। হয়তো এটিই একজন নির্মাতার সার্থকতা। দর্শকের ভালোবাসার সেই স্বাদ নিয়েছেন সকলের প্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। ‘মনপুরা’র পর ‘স্বপ্নজাল’ দিয়ে ভালো সিনেমার তৃষ্ণায় থাকা দর্শকদের পিপাসা মেটালেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ছবি নির্মাণের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয়ে কথা বলতে বিডিমর্নিং এর মুখোমুখি হয়েছিলেন এই নির্মাতা। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

‘স্বপ্নজাল’ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ ভালোই তো মনে হচ্ছে। দর্শক অনেক পছন্দ করছে। আমরা যে উদ্দেশ্যে ছবিটি বানিয়েছি সেটি সার্থক। যারা যারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছে সবার চোখে পানি চলে এসেছে। সকলেই বেশ আপ্লুত হয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এটি স্বপ্নজালের জন্য অনেক পজেটিভ।

হল সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ হল সংখ্যা বাড়া আমার উপর নির্ভর করছে না। দর্শক ছবিটি গ্রহণ করলে অবশ্যই হল সংখ্যা বাড়বে।

পরীমনি কেন শুভ্রা?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ পরীকে দেখার পর মনে হয়েছে সেই শুভ্রা হতে পারবে। ঢাকায় ও কলকাতায় অনেক নায়িকা দেখেছিলাম। কিন্তু পরীর মাঝে আমি শুভ্রাকে খুঁজে পেয়েছি।

শুভ্রা হতে না পেরে পরী যখন ঢাকায় ফিরতে চেয়েছিলো তাকে কিভাবে মানালেন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ মানানোর কিছু নেই। আমি তাকে বললাম আর একদিন থাকো, দেখো। নতুন ইউনিট, নতুন পরিবেশ এজন্য পরী একটু বিচ্ছিন্ন বোধ করছিলো। আমি সেই বিচ্ছিন্ন বোধটা কাটানোর চেষ্টা করেছি। সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য কিছু সময় লাগে। পরীকে আমি সেই সময়টা দিয়েছি। সেটাই আসলে কাজে দিয়েছে।

যৌথ প্রযোজনায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ বেশ ভালোই। যৌথ প্রযোজনার ছবিতে সবসময় পশ্চিমবঙ্গ প্রভাব খাটিয়ে এসেছে। আমাদের এখান থেকে একজন নায়ক বা নায়িকা নিলে সমস্ত আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান তাদের ওখান থেকেই নিতো। স্বপ্নজালে আমরা ঠিক তার উল্টোটা করেছি। এখানে বাংলাদেশকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এটিই যৌথ প্রযোজনার আদর্শ প্রজেক্ট ছিলো।

ছবি নির্মাণে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করতে গেলে সমস্যা থাকবেই। সেটাকে কাটিয়ে নিয়েই কাজ করতে হবে। কলকাতায় শুটিংয়ের সময় নতুন ক্রু, নতুন টেকনিশিয়ান নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। প্রথম দিকে ওরা আমাদের বুঝতে পারছিলো না, আমরাও ওদের বুঝতে পারছিলাম না। দু’একদিন কাজ করার পর তারা টের পেলো এটা আসলে অন্যান্য ইউনিটের মতো না। ওরাও ছবিটির প্রতি বেশ একাত্ম হয়ে উঠেছিলো।

‘মনপুরা’ মুক্তির প্রায় নয় বছর পর ‘স্বপ্নজাল’। এই দীর্ঘ বিরতির কারণ কি?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ প্রোডিউসার পাওয়া যায়নি।

নতুন ছবির কাজ কবে শুরু করবেন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ খুব শীঘ্রই। স্ক্রিপ্ট হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবো। তবে এখনই ছবির নাম বলতে চাচ্ছি না।

নতুন ছবিতে কি চমক থাকছে?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ সেটা চমক হিসেবেই তোলা থাক।

এখন থেকে নিয়মিত সিনেমা নির্মাণ করবেন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি দর্শকদের জন্য সিনেমা বানাই। দর্শকরা গ্রহণ করলে আমি অবশ্যই সিনেমা বানাবো।

ছোটপর্দায়...

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ টেলিভিশন, সিনেমা আমার কাছে আলাদা কিছু না। টেলিভিশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া। সমাজে এর একটি প্রভাব রয়েছে। ভালো প্রজেক্ট হলে সেটি সিনেমা হোক কিংবা নাটক তাতে আমার আপত্তি নেই।

ছোট পর্দা ও বড় পর্দার কাজের অমিল?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ আমি কোন পার্থক্য দেখি না। দুই জায়গাতেই তো তিনটি শট। লং শট, মিড শট, ক্লোজ আপ। তবে প্রস্তুতিটা ভিন্ন। কারণ নাটক আমি দর্শকদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। দর্শকের ইচ্ছা হলে দেখলো, ইচ্ছা না হলে দেখলো না। কিন্তু সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শকদের হলে টেনে নিয়ে যেতে হয়।

‘মনপুরা’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ‘স্বপ্নজাল’ কি সেই সম্মান বয়ে আনতে পারবে?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমার স্বপ্ন না। আমার স্বপ্ন দর্শকের মন জয়। জাতীয় পুরস্কারের জন্য আমি সিনেমা বানাই না।

‘মনপুরা’ মুক্তির আগেই সিনেমার গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। সে তুলনায় স্বপ্নজাল...

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ আমি নিজের ছায়ায় হাঁটতে চাইনি। ‘মনপুরা’ মনপুরার মতো, ‘স্বপ্নজাল’ স্বপ্নজালের মতো। এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সংশয় সেটি দু’চারদিনের মধ্যেই কেটে যাবে। ‘স্বপ্নজাল’ গানের ছবি না, গল্পের ছবি।

‘স্বপ্নজাল’ নির্মাণে আপনি কতটা আত্মতৃপ্তি পেয়েছেন?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ আমি এখন সন্তুষ্ট। কারণ আমি যা করতে চেয়েছি, যে ভঙ্গিতে ছবিটা বানাতে চেয়েছি সেটা হয়ে উঠেছে মনে হয়।

সিনেমায় গল্প বলার ধরণ...

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ আমি আমার মতো গল্প বলি। সারা পৃথিবীতে ৫০০-৬০০ কোটি মানুষ বাস করে। কারো চেহারার সাথে কারো চেহারার মিল নেই। কারো আঙুলের ছাপে মিল নেই। গল্প বলার ক্ষেত্রেও তো সবাই সবার মতো আলাদা আলাদা করে বলবে। আমি আমার মতো গল্প বলার চেষ্টা করি। সেটা কতটুকু আলাদা, কিভাবে আলাদা তা আমি জানিনা। এটা দর্শক বিচার করবে।

‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ ‘স্বপ্নজাল’ দর্শকের জন্য তৈরি করা ছবি। দর্শক যদি হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে এবং উপভোগ করে তাহলে আমার অনেক প্রশান্তি লাগবে। ‘স্বপ্নজাল’ পরিবার নিয়ে দেখার মতো ছবি। আপনারা হলে যান দলে দলে।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

গিয়াস উদ্দিন সেলিমঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Bootstrap Image Preview